শিরোনাম

পিসিবি ও খেলোয়াড়দের তুলোধুনো: মুলতান সুলতানস মালিকের বিস্ফোরক বোমা

পিসিবি ও খেলোয়াড়দের তুলোধুনো: মুলতান সুলতানস মালিকের বিস্ফোরক বোমা

Table of Contents

পিসিবি খেলোয়াড়দের অপেশাদার খাদ্যাভ্যাস, সাংবাদিকদের স্বার্থপর অ্যাজেন্ডা এবং পিসিবির আমলাতান্ত্রিক ব্যর্থতা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন মুলতান সুলতানসের মালিক গওহর শাহ। ইংল্যান্ড সফরে টেস্ট সিরিজের বিপর্যয় এবং মাঝপথে নাটকীয় দলবদলের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অভ্যন্তরীণ গলদ ও চরম অপেশাদারিত্ব নিয়ে নজিরবিহীন তোপ দেগেছেন পিএসএল ফ্র্যাঞ্চাইজি মুলতান সুলতানসের মালিক গওহর শাহ। সাবেক এই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিস্তারিত ও দুঃসাহসিক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে গভীর রাত জাগা, জাঙ্ক ফুড খাওয়া এবং টি-টোয়েন্টি চুক্তির লোভে টেস্টে পেসারদের গা বাঁচিয়ে বল করার মানসিকতাই দেশের ক্রিকেটকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি স্পোর্টস সাংবাদিকদের নোংরা স্বার্থান্বেষী অ্যাজেন্ডা, সাবেক খেলোয়াড়দের টিভির পর্দায় ফাঁকা বুলি এবং ক্রিকেট বোর্ডের ভেতরে জেঁকে বসা আমলাতান্ত্রিক ভয়ের সংস্কৃতিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। মুলতান সুলতানস প্রধানের এই অভ্যন্তরীণ স্বীকারোক্তি পাকিস্তান ক্রিকেটের ভঙ্গুর শাসনব্যবস্থা এবং ক্রিকেটারদের দায়বদ্ধতাহীন মানসিকতাকে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে চরম বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও টেস্টের তীব্রতা নিয়ে গওহর শাহের মূল অভিযোগ কী?

পাকিস্তান ড্রেসিংরুমের অন্দরমহলের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে গওহর শাহ ক্রিকেটারদের দৈনন্দিন শৃঙ্খলা ও ফিটনেস সংস্কৃতিকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন। ইংল্যান্ডের মাটিতে হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রানের লজ্জা এবং লর্ডসে ১৯৪ রানের পরাজয়ের পর যখন ক্রিকেট বিশ্ব স্তব্ধ, তখন তিনি খেলোয়াড়দের পেশাদারি মনোভাবের চূড়ান্ত অবক্ষয়কে সামনে আনেন। দীর্ঘ ছয় সপ্তাহের সফরের কঠিন বাস্তবতা স্বীকার করেও শাহ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, “দেরিতে ঘুমানো এবং অবাধে জাঙ্ক ফুড খাওয়া সেখানে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। আমি বুঝি টানা ছয় সপ্তাহ হোটেলে বন্দি জীবন কাটানো কঠিন, কিন্তু ‘পেশাদার’ শব্দটির তো একটা সুনির্দিষ্ট মর্যাদা ও অর্থ থাকতে হবে।” আধুনিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কঠোর অ্যাথলেটিসিজমের বিপরীতে পাকিস্তানি তারকাদের এমন অপেশাদার জীবনযাপন দলটির টেস্ট পারফরম্যান্সে প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলছে বলে তিনি দাবি করেন।

সবচেয়ে মারাত্মক তির্যক মন্তব্যটি এসেছে দলের পেস বোলারদের মাঠের শারীরিক শ্রম ও মানসিকতা নিয়ে। টেস্ট ম্যাচের তীব্রতা বজায় রাখতে তাদের চরম অনীহা তুলে ধরে শাহ লেখেন, “কেউ কঠিন পরিশ্রম করতে চায় না। টেস্ট ম্যাচে দীর্ঘ স্পেল শেষে পেসাররা বলের পেছনে দৌড়ায় না। আপনারা কার জন্য পা বাঁচিয়ে রাখছেন? যেখানে ম্যাচ শেষ হয়ে গেল আড়াই দিনেই!” তিনি উল্লেখ করেন যে, বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের লোভনীয় টি-টোয়েন্টি চুক্তি হারানোর ভয়ে পেসাররা ইনজুরির আতঙ্কে টেস্টে নিজেদের গতি ও সামর্থ্যের পুরোটা উজাড় করে দিচ্ছেন না। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম The Times of India তাদের বিশদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, টেস্ট ক্রিকেটের চেয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি আসরকে প্রাধান্য দেওয়ার এই মানসিকতাই মূলত পাকিস্তান পেস বোলিংয়ের ঐতিহাসিক ধারকে ভোঁতা করে দিচ্ছে।

ক্রীড়া সাংবাদিক ও সাবেক ক্রিকেটারদের ভূমিকা কীভাবে বিষাক্ত হয়েছে?

খেলোয়াড়দের কাঠগড়ায় তোলার পর গওহর শাহের আক্রমণের মূল নিশানা ছিল পাকিস্তানের ক্রীড়া সাংবাদিক সমাজ। তিনি স্বীকার করেন যে ডিজিটাল মিডিয়ার উত্থান সমর্থকদের দলের কাছাকাছি নিয়ে গেছে, কিন্তু পাশাপাশি এটি স্বার্থান্বেষী দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “দুষ্ট ক্ষতগুলো পুরো কাঠামোকে গ্রাস করেছে এবং তারা ভালো মানুষদেরও দূষিত করেছে। সাংবাদিকরা নিজেদের ব্যক্তিগত অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে মত্ত। তারা কাদের পছন্দ করে এবং কারা তাদের বেশি খাতির করে—গোপন তথ্য ফাঁস, উপহার কিংবা অবৈধ সুবিধার বিনিময়ে—তার ওপর ভিত্তি করে বানানো ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়।” তিনি এমনকি এমন বিস্ফোরক মন্তব্যও করেন যে এই স্বার্থপর সাংবাদিকরা দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে সুবিধাবাদী ও ক্ষতিকারক অংশীদার।

একই সাথে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটারদের দ্বিচারিতা নিয়েও তিনি মুখ খুলেছেন। গওহর শাহের মতে, কোচিংয়ের ডিগ্রি অর্জন করে বা তৃণমূল পর্যায়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে মাঠের খেলায় অবদান রাখার চেয়ে টেলিভিশনের স্টুডিওতে বসে কেবল বড় বড় কথা বলা অনেক বেশি আরামদায়ক। তিনি বলেন, “খুব অল্প কয়েকজন আছেন যারা কষ্ট করে কোচিং ব্যাজ ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করেছেন। বাকিরা কেবল টেলিভিশনে গিয়ে একের পর এক সমস্যা আওড়াতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কেউই কার্যকর কোনো সমাধানের পথ দেখান না কিংবা মাঠে গিয়ে কোচিংয়ের কঠিন অভিজ্ঞতা নেন না।” প্রখ্যাত ক্রীড়া প্রকাশনা ESPNcricinfo অতীতে একাধিকবার উল্লেখ করেছে যে সাবেক তারকাদের স্টুডিও-ভিত্তিক বিষোদগার পাকিস্তান ক্রিকেটের ড্রেসিংরুমে মানসিক অস্থিরতা তৈরির অন্যতম কারণ।

পিসিবি প্রশাসন ও পাকিস্তান সুপার লিগের কাঠামো কেন ধ্বংসের মুখে?

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে শাহ একে অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পঙ্গু এক সংগঠন হিসেবে চিত্রিত করেছেন। বোর্ডের কর্মচারীরা চাকরি হারানো এবং সমালোচনার ভয়ে কখনো সত্য কথা বলতে পারেন না। তিনি উল্লেখ করেন, “বোর্ডটি মাত্রাতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক। চাকরি হারানো ও ক্ষোভের আশঙ্কায় সবাই নিজের মনের কথা বলতে ভয় পান। অনেকেই আন্তরিকভাবে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু যখন দেখলেন তাদের উদ্যোগ কোথাও পৌঁছাচ্ছে না, তখন চেষ্টা করা বন্ধ করে দিয়ে কেবল মাস শেষে বেতনের টাকায় সন্তুষ্ট থাকছেন।” তবে তিনি চেয়ারম্যানকে এককভাবে দোষী না করে বলেন যে একজন ভালো নেতার জন্য যোগ্য ও দূরদর্শী উপদেষ্টার প্রয়োজন, যা পিসিবির নীতি-নির্ধারণে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।

ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক হিসেবে শাহ পাকিস্তান সুপার লিগ (PSL) এর অলাভজনক ও ত্রুটিপূর্ণ ব্যবসায়িক মডেলের পর্দা উন্মোচন করেছেন। দশ বছরের লিজিং ব্যবস্থার কারণে মালিকদের দলগুলোর ব্র্যান্ড তৈরিতে কোনো সুদূরপ্রসারী আগ্রহ থাকে না। তিনি লেখেন, “১০ বছরের লিজে আপনি একটি ব্র্যান্ড দাঁড় করাবেন, কেবল পিসিবির হাতে তা ফেরত দেওয়ার জন্য? যখন কোনো স্থায়ী সুবিধা দেখা যায় না, শুধু খরচের বিল গুণতে হয়, তখন কেউ কেন বিনিয়োগ করবে? আপনি খেলোয়াড় ও প্রতিভা অন্বেষণে অর্থ ঢালবেন, অথচ অ্যাজেন্ডাভিত্তিক রিটেনশন রুলস ও ক্যাটাগরি পরিবর্তনের গ্যাঁড়াকলে পড়ে সেই খেলোয়াড়কে হারাতে হবে!” আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Reuters বিভিন্ন সময় তুলে ধরেছে যে পিএসএলের বিতর্কিত রিটেনশন ও রাজস্ব বণ্টন নীতি ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের সাথে বোর্ডের দূরত্বের প্রধান কারণ।

ইংল্যান্ড সফরে মাঝপথে স্কোয়াড ছাঁটাইয়ের পটভূমি কতটা নাটকীয় ছিল?

গওহর শাহের এই বিস্ফোরক পোস্টের পেছনে তাৎক্ষণিক প্রেক্ষাপট ছিল চলমান ইংল্যান্ড সফরের নজিরবিহীন নৈরাজ্য। সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে শোচনীয় হারের পর পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচক কমিটি রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্ট শুরুর আগেই হঠাৎ করে মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আলী আঘা, খুররম শাহজাদ এবং আমের জামালের মতো প্রথম সারির সাতজন ক্রিকেটারকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে হেড কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকে টেস্টের মাঝপথেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে সাদা বলের কোচ মাইক হেসন ও বোলিং কোচ অ্যাশলে নফকেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

মাঝ-সফরে এমন গণছাঁটাই ও নাটকীয় কোচিং রদবদল বিশ্ব টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল। পিসিবির এই বিশৃঙ্খল পদক্ষেপ মূলত দলের ভেতরের চরম বিভক্তি এবং ম্যানেজমেন্টের দিশেহারা মানসিকতাকে জনসমক্ষে প্রকাশ করে দেয়। সাবেক অধিনায়ক রমিজ রাজাসহ অনেকেই পিসিবির এই পদক্ষেপকে অন্ধের মতো প্যানিক বাটন চাপার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন। ক্রিকেটারদের ওপর সমস্ত দায় চাপিয়ে দিয়ে বোর্ড কর্মকর্তারা নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে চেয়েছেন, যা গওহর শাহের মতো স্টেকহোল্ডারকে সত্য প্রকাশের জন্য প্রকাশ্যে মুখ খুলতে বাধ্য করেছে।

এক নজরে গওহর শাহের অভিযোগ ও পাকিস্তান ক্রিকেটের সংকট

পর্যালোচনার ক্ষেত্রগওহর শাহ কর্তৃক উত্থাপিত মূল অভিযোগমাঠের ও প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতা
খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও সংস্কৃতিগভীর রাত জাগা, অবাধে জাঙ্ক ফুড গ্রহণ ও অপেশাদারিত্ব।টেস্টে শারীরিক ক্লান্তি ও ফিল্ডিংয়ে চরম অনীহা।
ফাস্ট বোলারদের ওয়ার্কলোডইনজুরি ও লোভনীয় টি-টোয়েন্টি চুক্তি হারানোর ভয়।টেস্টে গতি কমে যাওয়া ও দ্রুত স্পেল শেষ করার তাড়া।
ক্রীড়া সাংবাদিকতার চরিত্রউপহার, তথ্য ফাঁস ও ব্যক্তিগত স্বার্থে পক্ষপাতদুষ্ট গল্প তৈরি।ড্রেসিংরুমের অভ্যন্তরীণ তথ্য পাচার ও দল বিভাজন।
সাবেক ক্রিকেটারদের ভূমিকাকোচিং যোগ্যতা ছাড়াই কেবল টেলিভিশনে গিয়ে সমালোচনা।তৃণমূল ক্রিকেট ও টেকনিক্যাল উন্নয়নে অবদানের অভাব।
পিসিবি পরিচালনা পর্ষদঅতিরিক্ত আমলাতন্ত্র, চাকরি হারানোর ভয় ও তোষামোদ।দীর্ঘমেয়াদী ক্রিকেট কৌশলের অনুপস্থিতি ও অস্থিতিশীলতা।
পিএসএল ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল১০ বছরের লিজ এবং স্বজনপ্রীতিমূলক রিটেনশন পলিসি।ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের আগ্রহ হ্রাস।

এই অভ্যন্তরীণ বিস্ফোরণ পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎকে কোন পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে?

মুলতান সুলতানস মালিকের এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি পাকিস্তান ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের চাপা পড়া বিষফোঁড়াকে ফাটিয়ে দিয়েছে। সাধারণত বহিরাগত বা সাবেক ক্রিকেটারদের সমালোচনায় অভ্যস্ত পিসিবি এবার খোদ পিএসএলের একজন শীর্ষ বিনিয়োগকারীর সরাসরি তোপের মুখে পড়ল। সিডি ভেঞ্চার্সের মাধ্যমে ২০২৬ সালের শুরুতে ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনে নেওয়া গওহর শাহ কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন; ফলে তাঁর এই বক্তব্যকে উড়িয়ে দেওয়া বোর্ডের জন্য সহজ হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, পিসিবির বর্তমান নেতৃত্বের ওপর সংস্কারের জন্য যে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া চাপ তৈরি হয়েছে, তা এই বক্তব্যের পর আরও ঘনীভূত হলো।

তবে এই বিস্ফোরণ দলের ড্রেসিংরুম এবং খেলোয়াড়দের ওপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আসন্ন সিরিজগুলোর আগে ক্রিকেটাররা মিডিয়া এবং ভক্তদের আরও কঠোর আতশকাঁচের নিচে পড়বেন। যদি পিসিবি এই তির্যক সত্যগুলোকে ইতিবাচক আত্মসমালোচনার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে কাঠামোগত সংস্কার না করে, তবে পাকিস্তান ক্রিকেটের নিম্নগামী পতন ঠেকানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। গওহর শাহ নিজে উপসংহারে লিখেছেন, “পাকিস্তান ক্রিকেট সবসময় আমার হৃদয়ে থাকবে। আমাদের আগের মতো বিশ্বের সেরা দলে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রার্থনা করুন—শুধু ভালো বা প্রতিযোগী নয়, একেবারেই সেরা দল।” এই আকুল আহ্বান এখন প্রতিটি পাকিস্তান ক্রিকেট সমর্থকের অন্তরের দাবি।

FAQ

গওহর শাহ কে এবং পাকিস্তান ক্রিকেটে তাঁর ভূমিকা কী?

গওহর শাহ একজন সাবেক প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার এবং স্পোর্টস এক্সিকিউটিভ। তিনি ২০২৬ সালে সিডি ভেঞ্চার্সের মাধ্যমে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি মুলতান সুলতানসের মালিকানা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

খেলোয়াড়দের খাদ্যাভ্যাস ও রুটিন নিয়ে তাঁর প্রধান অভিযোগ কী?

তিনি অভিযোগ করেছেন যে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে গভীর রাত জাগা এবং অনিয়ন্ত্রিত জাঙ্ক ফুড খাওয়ার সংস্কৃতি অত্যন্ত সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আধুনিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পেশাদারি মানদণ্ডের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

পেসাররা কেন টেস্ট ক্রিকেটে পূর্ণ শক্তিতে বোলিং করছেন না বলে দাবি করা হয়েছে?

শাহের মতে, ফাস্ট বোলাররা ইনজুরিতে পড়ার ভয় এবং লাভজনক বৈশ্বিক টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের চুক্তি হারানোর আশঙ্কায় টেস্টে নিজেদের পুরো গতি ও সর্বোচ্চ শ্রম দিতে দ্বিধাবোধ করেন।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গওহর শাহ কী ধরনের সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন?

তিনি দাবি করেছেন যে কিছু সাংবাদিক গোপন তথ্য ফাঁস, উপহার কিংবা ব্যক্তিগত সুবিধার বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড়ের পক্ষে বা বিপক্ষে গল্প তৈরি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেন।

ইংল্যান্ড সফরের মাঝপথে পিসিবি কী অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছিল?

প্রথম দুই টেস্টে শোচনীয় হারের পর পিসিবি স্কোয়াড থেকে সাবেক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদসহ সাতজন সিনিয়র খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে টেস্ট চলাকালীনই ছাঁটাই করে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

পিএসএলের ১০ বছরের লিজ মডেল নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের অসন্তোষ কেন?

দশ বছরের লিজ চুক্তিতে দল পরিচালনা করতে গিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা ব্র্যান্ড তৈরি এবং প্রতিভা অন্বেষণে বিপুল বিনিয়োগ করেন, কিন্তু মেয়াদ শেষে কোনো স্থায়ী মালিকানা না থাকায় এবং নিয়ম পরিবর্তনের কারণে তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।

JitaBet ,  JitaWin , এবং  JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন,   তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!

উপসংহার:

মুলতান সুলতানসের কর্ণধার গওহর শাহের এই নজিরবিহীন ও দুঃসাহসিক মন্তব্য পাকিস্তান ক্রিকেটের বাস্তব রূপকে চরম নির্মমতার সাথে জনসমক্ষে উন্মোচিত করেছে। দীর্ঘকাল ধরে প্রশাসনিক তোষামোদ, সাংবাদিকদের গোষ্ঠীস্বার্থ এবং ক্রিকেটারদের অতিরিক্ত আত্মতুষ্টির যে বিষবাষ্প জাতীয় দলকে ভেতরে ভেতরে ক্ষয় করছিল, তা এবার অন্দরমহলের একজন শীর্ষ ব্যক্তিত্বের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হলো। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে কোনো দল কেবল অতীত ঐতিহ্য দিয়ে টিকে থাকতে পারে না; আধুনিক ক্রিকেট দাবি করে চরম ফিটনেস, বৈজ্ঞানিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিঃশর্ত পেশাদারি দায়বদ্ধতা। টেস্ট ম্যাচে আড়াই দিনে পরাজয় বরণ করার পরও পেসারদের গা বাঁচিয়ে চলার যে অভিযোগ উঠেছে, তা দেশের ক্রিকেটের মৌলিক দর্শনের চরম অবক্ষয়েরই পরিচায়ক।

এখন সময় এসেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামোগত অস্ত্রোপচার পরিচালনা করার। পিএসএলের বিতর্কিত ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল সংস্কার, ঘরোয়া ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক মানের ইনসেনটিভ নিশ্চিত করা এবং খেলোয়াড়দের চুক্তিতে শারীরিক শৃঙ্খলার কঠোর ধারা যুক্ত করা ছাড়া এই পতন রোখার বিকল্প নেই। সাবেক ক্রিকেটারদেরও টিভির টকশো থেকে বেরিয়ে এসে কোচিং ও তৃণমূলের দায়িত্ব নেওয়ার সৎ সাহস দেখাতে হবে। গওহর শাহের এই বক্তব্যকে কোনো ষড়যন্ত্র হিসেবে না দেখে পিসিবির উচিত একে একটি জেগে ওঠার ডাক (wake-up call) হিসেবে গ্রহণ করা। যদি ক্ষমতার লড়াই ও আমলাতান্ত্রিক ভয়ের সংস্কৃতি ভেঙে একটি স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক পরিবেশ নিশ্চিত না করা যায়, তবে পাকিস্তান ক্রিকেটের সোনালী দিনগুলো কেবল ইতিহাসের পাতায়ই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *