শিরোনাম

বিরাট কোহলির মহাকাব্যিক ইনিংসে আরসিবির টানা দ্বিতীয় আইপিএল জয় নতুন ইতিহাস

বিরাট কোহলির মহাকাব্যিক ইনিংসে আরসিবির টানা দ্বিতীয় আইপিএল জয় নতুন ইতিহাস

Table of Contents

বিরাট কোহলির অনবদ্য ৭৫* রানে গুজরাট টাইটান্সকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হলো আরসিবি। আহমেদাবাদের ফাইনাল ম্যাচের বিস্তারিত বিশ্লেষণ। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে গুজরাট টাইটান্সকে ৫ উইকেটে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB)। প্রথমে ব্যাট করে গুজরাট টাইটান্স নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৫ রান সংগ্রহ করে, জবাবে আরসিবি ১২ বল বাকি থাকতেই ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। কিংবদন্তি ব্যাটার বিরাট কোহলি মাত্র ৪২ বলে ৯টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৭৫ রানের এক অপরাজিত ও বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলের ব্যাক-টু-ব্যাক শিরোপা জয় নিশ্চিত করেন। ২০২৫ সালে দীর্ঘ ১৮ বছরের খরা কাটিয়ে প্রথম ট্রফি জেতার পর, ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক জয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে আরসিবির আধিপত্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।

কেন ২০২৬ সালের আইপিএল ফাইনাল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জন্য এতটা ঐতিহাসিক?

বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে ট্র্যাজিক দল হিসেবে পরিচিত ছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। তবে ২০২৫ সালে প্রথম শিরোপা জেতার পর, ২০২৬ সালের ৩১ মে আহমেদাবাদের ফাইনালে গুজরাট টাইটান্সকে হারিয়ে ব্যাক-টু-ব্যাক আইপিএল ট্রফি জয় দলটির মানসিকতার এক বিশাল পরিবর্তনকে নির্দেশ করে। আহমেদাবাদের ১ লাখেরও বেশি দর্শকের সামনে আরসিবির পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং পরবর্তীতে কিং কোহলি-র অতিমানবীয় ব্যাটিং প্রদর্শনীর কারণে এই ম্যাচটি টুর্নামেন্টের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং একপেশে ফাইনাল হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এই জয়ের মাধ্যমে বেঙ্গালুরু প্রমাণ করেছে যে, তারা এখন কেবল কাগজে-কলমে তারকাখচিত দল নয়, বরং নক-আউট পর্বের চাপ সামলানোর মতো পরিপক্ক এক অপরাজেয় শক্তি।

এই ঐতিহাসিক জয়ের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে দলগত সংহতি এবং চাপের মুখে ভেঙে না পড়ার মানসিকতা। ম্যাচ শেষে এক আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকারে ফ্র্যাঞ্চাইজির বর্তমান পারফরম্যান্স নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা হয়। বিগত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এবার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নামা আরসিবির জন্য সহজ ছিল না, কারণ লিগ পর্ব থেকেই প্রতিটি দল তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছিল। তবে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে প্লে-অফে কোয়ালিফাই করা এবং ফাইনালে এসে এমন ক্লিনিকাল পারফরম্যান্স নিশ্চিত করা কেবলই মাঠের কৌশল নয়, বরং দলের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ফসল। BBC Sport-এর ম্যাচ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আরসিবির এই রূপান্তর ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তন।

গুজরাট টাইটান্সের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মূল কারণ কী ছিল?

ফাইনালে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে গুজরাট টাইটান্স শুরু থেকেই আরসিবির শৃঙ্খলিত ও আগ্রাসী বোলিং আক্রমণের মুখে পড়ে। দলের অভিজ্ঞ ওপেনার এবং ইংল্যান্ডের তারকা ব্যাটার জস বাটলার মাত্র ১৯ রানে স্টাম্পড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরলে বড় স্কোরের স্বপ্ন ধাক্কা খায়। গুজরাটের পক্ষে একমাত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন অলরাউন্ডার ওয়াশিংটন সুন্দর, যিনি ৩৭ বলে ৫০ রানের একটি লড়াকু ও অপরাজিত ইনিংস খেলেন। কিন্তু অন্য প্রান্তের ব্যাটারদের ব্যর্থতায় এবং নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর কারণে গুজরাট নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৫৫ রানের একটি মামুলি পুঁজি গড়তে সক্ষম হয়, যা আহমেদাবাদের পিচে জয়ের জন্য মোটেও যথেষ্ট ছিল না।

গুজরাট টাইটান্সের এই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মূল কারিগর ছিলেন আরসিবির তরুণ পেসার রাসিখ সালাম দার। তিনি তাঁর নির্ধারিত ৪ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন, যা গুজরাটের মিডল অর্ডারের কোমর ভেঙে দেয়। তাঁকে যোগ্য সংগত দিয়েছেন দুই অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক ক্যাম্পেইনার জশ হ্যাজেলউড এবং ভুবনেশ্বর কুমার, যাঁরা দুজনেই ২টি করে উইকেট নিয়ে গুজরাটের রান তোলার গতি সম্পূর্ণ টেনে ধরেন। আরসিবির এই অসাধারণ বোলিং লাইন-আপের ডিসিপ্লিনড ট্যাকটিক্সের সামনে গুজরাটের কোনো কৌশলী পরিকল্পনাই কাজে আসেনি। Reuters-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরসিবির পেস আক্রমণের এই দুর্দান্ত স্পেলই মূলত ম্যাচের ভাগ্য প্রথমার্ধেই নির্ধারণ করে দিয়েছিল।

এক নজরে ২০২৬ আইপিএল ফাইনালের সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড

দল ও ইনিংসমোট রান (ওভার)প্রধান ব্যাটার ও স্কোরপ্রধান বোলার ও উইকেট
গুজরাট টাইটান্স১৫৫-৮ (২০ ওভার)ওয়াশিংটন সুন্দর ৫০* (৩৭), জস বাটলার ১৯ (১৫)রাসিখ সালাম দার ৩-২৭, ভুবনেশ্বর কুমার ২-২৫
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু১৬১-৫ (১৮ ওভার)বিরাট কোহলি ৭৫* (৪২), ভেঙ্কটেশ আইয়ার ৩২ (১৬)রশিদ খান ২-২৫, মোহাম্মদ সিরাজ ১-৩০

রান তাড়া করতে নেমে কীভাবে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখল আরসিবি?

১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আরসিবির দুই ওপেনার বিরাট কোহলি এবং ভেঙ্কটেশ আইয়ার শুরু থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে ব্যাটিং করতে থাকেন। পাওয়ার-প্লে’র সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে এই জুটি মাত্র ১৬ বলে ৩২ রান করা ভেঙ্কটেশের কল্যাণে দ্রুত ৬২ রানের একটি উদ্বোধনী পার্টনারশিপ গড়ে তোলে। ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে মোহাম্মদ সিরাজ আউট করার পর এবং দ্রুতই দেবদত্ত পাডিক্কাল কাগিসো রাবাদার শিকার হলে আরসিবি কিছুটা চাপে পড়ে। এরপর গুজরাটের আফগান স্পিন জাদুকর রশিদ খান এক ওভারে জোড়া আঘাত হেনে আরসিবি অধিনায়ক রজত পাতিদার (১৫) এবং ক্রুনাল পান্ডিয়াকে আউট করলে ম্যাচ কিছুটা জমে ওঠে।

তবে এক প্রান্তে উইকেট পড়তে থাকলেও অপর প্রান্ত আগলে রেখে ম্যাচের হাল ধরেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়া কিংবদন্তি বিরাট কোহলি। তিনি মিডল অর্ডারে টিম ডেভিড-এর (২৪) সাথে ৪১ রানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ম্যাচ-রক্ষণশীল পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। টিম ডেভিড বিদায় নেওয়ার পর উইকেটরক্ষক ব্যাটার জিতেশ শর্মাকে সাথে নিয়ে বাকি কাজটুকু অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় সম্পন্ন করেন কোহলি। গুজরাটের বোলারদের সমস্ত পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়ে কোহলি কেবল নিজের উইকেটই বাঁচিয়ে রাখেননি, বরং রানের গতি সচল রেখে ১২ বল বাকি থাকতেই আরসিবির ৫ উইকেটের এক স্মরণীয় জয় নিশ্চিত করেন।

‘কিং কোহলি’র ৩৭ বছর বয়সেও এমন অবিশ্বাস্য ফর্মের রহস্য কী?

চলতি বছরের শেষের দিকে ৩৭ পেরিয়ে ৩৮ বছর বয়সে পা দিতে যাওয়া বিরাট কোহলি প্রমাণ করেছেন যে, বয়স কেবলই একটি সংখ্যা। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটকে বিদায় জানালেও, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তাঁর ব্যাট এখনো সমানে কথা বলছে। ফাইনালে ৪২ বলে খেলা ৭৫* রানের ইনিংসটি ছিল চলতি আইপিএল ২০২৬ মৌসুমে তাঁর পঞ্চম হাফ-সেঞ্চুরি, যা তাঁর ক্যারিয়ারের দ্রুততম আইপিএল ফিফটিগুলোর একটি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আরশাদ খানকে লং-অন দিয়ে ছক্কা মেরে যেভাবে তিনি ম্যাচ শেষ করলেন এবং গ্যালারির দিকে আঙুল উঁচিয়ে উদযাপন করলেন, তা ক্রিকেটপ্রেমীদের দীর্ঘদিন মনে থাকবে।

ম্যাচ শেষে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার নেওয়ার সময় কোহলি তাঁর এই চিরযৌবনা ফর্ম এবং আধুনিক ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি তরুণ ক্রিকেটারদের তীব্র প্রতিযোগিতার কথা উল্লেখ করে বলেন, আজকের ক্রিকেটে তরুণ খেলোয়াড়রা যেভাবে প্রতিনিয়ত গেমের ধরন পরিবর্তন করার চাপ সৃষ্টি করছে, তা সত্যিই দারুণ। ESPNcricinfo-এর ধারাভাষ্যে কোহলির এই বক্তব্য হাইলাইট করা হয়েছে, যেখানে তিনি বলেন:

“আজকের খেলার দাবিই এমন। আপনার পেছনে একদল দুর্দান্ত তরুণ খেলোয়াড় রয়েছে যারা আপনাকে প্রতিনিয়ত পুশ করছে, আপনার গেমের উন্নতি করতে এবং রানের গতি বাড়াতে বাধ্য করছে। এটি একটি রোমাঞ্চকর পরিস্থিতি কারণ এটি আপনাকে নতুন কিছু শেখার এবং খামতিগুলো নিয়ে কাজ করার সুযোগ করে দেয়। আমি নিজের উন্নতির এই প্রক্রিয়াটি খুব উপভোগ করি।”

ব্যাক-টু-ব্যাক শিরোপা জয়ের পর আরসিবি শিবিরের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

টানা দ্বিতীয়বারের মতো আইপিএল ট্রফি জয়ের পর আরসিবি শিবিরের আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছিল বাঁধভাঙা। ম্যাচ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ডাগ-আউট থেকে সমস্ত খেলোয়াড় ও স্টাফরা মাঠে ছুটে আসেন এবং কোহলিকে জড়িয়ে ধরে উদযাপনে মেতে ওঠেন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে দীর্ঘ ১৮ বছরের ট্রফির খরা কাটার পর, এবারের জয়টি আরসিবির জন্য অনেক বেশি স্বস্তির এবং আধিপত্য বিস্তারের ছিল। দলের এই জয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সমর্থকগোষ্ঠী, যারা ‘ই সালা কাপ নাম্দে’ স্লোগানে বিশ্বজুড়ে পরিচিত, তারা আহমেদাবাদ থেকে শুরু করে পুরো বেঙ্গালুরু শহরকে উৎসবের নগরীতে পরিণত করেছে।

বিরাট কোহলি দলের এই পারফরম্যান্সকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ‘ক্লিনিকাল পারফরম্যান্স’ বা নিখুঁত পারফরম্যান্স হিসেবে অভিহিত করেছেন। গত বছরের তুলনায় এবার দলের ওপর মানসিক চাপ অনেকটাই কম ছিল বলে তিনি জানান। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কোহলি দলের মানসিকতা স্পষ্ট করে বলেন:

“আমি ছেলেদের আগেই বলেছিলাম যে, এবার আমাদের ওপর গত বছরের মতো ট্রফি জেতার তীব্র মানসিক চাপ নেই। আমরা জানতাম এই দলে কী অসাধারণ প্রতিভা ও গভীরতা রয়েছে। আমরা লিগ টেবিলের শীর্ষে থেকে কোয়ালিফাই করেছি এবং প্রথম দল হিসেবে ফাইনালে এসেছি, যার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। আমাদের ক্রিকেটারদের স্কিল সেট, পরিপক্কতা এবং চাপের মুখে শান্ত থাকার ক্ষমতাই আজ মাঠে আবারও ফুটে উঠেছে এবং আমাদের সেরা দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।”

FAQ:

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ ২০২৬ ফাইনালে কোন দল জয়ী হয়েছে?

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) ২০২৬ সালের আইপিএল ফাইনালে গুজরাট টাইটান্সকে ৫ উইকেটে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

আহমেদাবাদের ফাইনালে ম্যাচ সেরা (Player of the Match) কে হয়েছেন?

আরসিবির কিংবদন্তি ব্যাটার বিরাট কোহলি ফাইনাল ম্যাচে মাত্র ৪২ বলে অপরাজিত ৭৫* রানের একটি ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন।

গুজরাট টাইটান্স ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে কত রান করেছিল?

টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে গুজরাট টাইটান্স নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান সংগ্রহ করেছিল, যেখানে সর্বোচ্চ রান (৫০*) করেন ওয়াশিংটন সুন্দর।

আরসিবির কোন বোলার ফাইনালে সবচেয়ে সফল ছিলেন?

আরসিবির তরুণ ডানহাতি পেসার রাসিখ সালাম দার ফাইনালে অসাধারণ বোলিং করে ৪ ওভারে মাত্র ২৭ রান খরচায় ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন।

বিরাট কোহলি কি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলছেন?

না, বিরাট কোহলি ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন, তবে তিনি আইপিএলে আরসিবির হয়ে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আরসিবি এ পর্যন্ত কতবার আইপিএল ট্রফি জিতেছে?

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এ পর্যন্ত মোট ২ বার আইপিএল ট্রফি জিতেছে—প্রথমটি ২০২৫ সালে এবং দ্বিতীয়টি টানা দ্বিতীয়বারের মতো ২০২৬ সালে।

JitaBet ,  JitaWin , এবং  JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন,   তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!

উপসংহার

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ২০২৬ সালের এই টানা দ্বিতীয় আইপিএল শিরোপা জয় কেবল একটি টুর্নামেন্ট জয় নয়, বরং এটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে একটি নতুন রাজত্বের সূচনা। বছরের পর বছর ধরে ট্রল এবং ব্যর্থতার বৃত্তে আটকে থাকা একটি দল কীভাবে সঠিক নেতৃত্ব, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং ক্রিকেটারদের পরিপক্কতার মাধ্যমে টানা দুই বছরে দুটি ট্রফি জিতে নিজেদের ‘সেরা দল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, আরসিবি তার অন্যতম সেরা উদাহরণ। আহমেদাবাদের ফাইনালে গুজরাট টাইটান্সের মতো শক্তিশালী দলকে যেভাবে তারা বোলিং এবং ব্যাটিং উভয় বিভাগেই পরাস্ত করেছে, তা দলটির শক্তিমত্তা এবং আত্মবিশ্বাসেরই বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে, রাসিখ সালাম দারের মতো তরুণ প্রতিভার বোলিং পারফরম্যান্স এবং জশ হ্যাজেলউড ও ভুবনেশ্বর কুমারের অভিজ্ঞতা দলটিকে ডিফেন্সিভলি অত্যন্ত শক্তিশালী করে তুলেছে।

তবে এই পুরো মহাকাব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন একজনই—বিরাট কোহলি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরও ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তাঁর এই ক্ষুধা, ফিটনেস এবং রানের প্রতি একাগ্রতা বিশ্ব ক্রিকেটের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। ৩৭ বছর বয়সে এসেও টুর্নামেন্টের দ্রুততম হাফ-সেঞ্চুরি করা এবং ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করার যে ধারাবাহিকতা তিনি দেখিয়েছেন, তা তাঁকে ক্রিকেটের ইতিহাসে ‘গ্রেটেস্ট অব অল টাইম’ (GOAT) হিসেবে আরও একবার প্রমাণ করে। আরসিবির এই ব্যাক-টু-ব্যাক শিরোপা জয় বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি আরসিবি ভক্তদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আনন্দের জোয়ার এনে দিয়েছে এবং এই জয় আগামী বহু বছর আইপিএলের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News