ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাব্য নকআউট ব্লকবাস্টার ম্যাচের গাণিতিক সমীকরণ ও দুই দলের বর্তমান ফর্মের ইন-ডেপথ অ্যানালাইসিস পড়ুন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে অন্যতম বড় উন্মাদনা তৈরি হয়েছে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং এশিয়ান কোয়ালিফায়ার পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার একটি হাই-ভোল্টেজ সম্ভাব্য দ্বৈরথ নিয়ে। তবে টুর্নামেন্টের অফিশিয়াল ড্র ও গ্রুপ বিন্যাস অনুযায়ী, দল দুটি গ্রুপ পর্বে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে না, কারণ অস্ট্রেলিয়া খেলছে গ্রুপ ‘ডি’-তে এবং ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা অবস্থান করছে অন্য গ্রুপে। লיוনেল স্কালোনির আলবিসেলেস্তেরা যেখানে গত ১৭ জুন আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত সূচনা করেছে, সেখানে টনি পপোভিচের সকারুজরাও তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে তাদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হয়ে নকআউট পর্বে বা শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে এই দুই দলের পুনরায় মুখোমুখি হওয়ার এক তীব্র গাণিতিক ও কৌশলগত সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কেন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটি গ্রুপ পর্বে সম্ভব নয়?
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে মেগা টুর্নামেন্টটি উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশ—ইউএসএ, মেক্সিকো এবং কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফিফার অফিসিয়াল গ্রুপ ড্র অনুসারে, ল্যাটিন আমেরিকার অন্যতম সেরা দল আর্জেন্টিনা এবং এশিয়ার পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি গ্রুপে স্থান পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়াকে গ্রুপ ‘ডি’-তে স্বাগতিক ইউএসএ, প্যারাগুয়ে এবং তুরস্কের সাথে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যার কারণে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার সাথে তাদের দেখা হওয়ার কোনো আইনি বা গাণিতিক সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দলের এই ভিন্ন গ্রুপ বিন্যাস ভক্তদের গ্রুপ পর্বের রোমাঞ্চ থেকে বঞ্চিত করলেও নকআউট রাউন্ডের উত্তেজনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা তাদের বিশ্বকাপ ধরে রাখার অভিযানে গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া এবং জর্ডানের মুখোমুখি হচ্ছে, যা তাদের জন্য তুলনামূলক সহজ সমীকরণ তৈরি করেছে। গত ১৭ জুন ক্যানসাস সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে লিওনেল মেসির দল The Guardian-এর লাইভ ম্যাচ কাভারেজ অনুযায়ী আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে গ্রুপ টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছে। সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ভিন্ন গ্রুপ বিন্যাসের অর্থ হলো এই দুই দলের লড়াই দেখতে হলে উভয় দলকে নিজ নিজ গ্রুপে শীর্ষ দুইয়ের মধ্যে থেকে নকআউট পর্ব বা শেষ ৩২ (Round of 32) নিশ্চিত করতে হবে। ফলস্বরূপ, ভক্তরা যে ‘ম্যাচ প্রিভিউ’ খুঁজছেন, তা মূলত বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের এক সম্ভাব্য ব্লকবাস্টার রি-ম্যাচের রূপরেখা।
কাতার বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক দ্বৈরথ কীভাবে এই সম্ভাব্য ম্যাচের আবহ তৈরি করছে?
ফুটবলপ্রেমীদের মনে আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রেলিয়ার লড়াই বলতেই ভেসে ওঠে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সেই রোমাঞ্চকর রাউন্ড অব সিক্সটিনের (Round of 16) স্মৃতি। আহমাদ বিন আলী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই নকআউট ম্যাচে লিওনেল মেসির জাদুকরী গোল এবং জুলিয়ান আলভারেজের লক্ষ্যভেদে আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে কষ্টার্জিত জয় পেয়েছিল, যেখানে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার তরুণ ফরোয়ার্ড গ্যারাং কুওলের একটি শট এমিলিয়ানো মার্টিনেজ অবিশ্বাস্যভাবে সেভ না করলে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াত। সকারুজদের সেই লড়াকু মানসিকতা এবং আলবিসেলেস্তেদের স্নায়ুচাপের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিই মূলত ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে এই সম্ভাব্য ম্যাচটিকে ঘিরে এক তীব্র প্রতিশোধের আবহ তৈরি করেছে।
বিগত চার বছরে দুই দলের ফুটবল কাঠামো ও স্কোয়াডে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, তবে সেই মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের তীব্রতা এখনো ম্লান হয়নি। ২০২৩ সালের জুনে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে অস্ট্রেলিয়াকে পুনরায় পরাজিত করলেও সকারুজরা প্রমাণ করেছিল যে তারা যেকোনো বিশ্বমানের দলের রক্ষণভাগকে চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম। ফুটবল ডাটাবেজ ও ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়া সবসময়ই আর্জেন্টিনার হাই-প্রেসিং এবং পজেশনাল ফুটবলের বিরুদ্ধে শারীরিক শক্তি ও কাউন্টার-অ্যাটাকিং কৌশলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে এসেছে। কাতার বিশ্বকাপের সেই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর থেকেই ফুটবল বিশ্ব এই দুই দলের আরেকটি বৈশ্বিক লড়াই দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছে।
এক নজরে ২০২৬ বিশ্বকাপে দুই দলের গ্রুপ পর্বের পরিস্থিতি ও পরিসংখ্যান
| বিবরণের ক্ষেত্র | আর্জেন্টিনা (গ্রুপ পরিস্থিতি) | অস্ট্রেলিয়া (গ্রুপ পরিস্থিতি) |
| গ্রুপ বিন্যাস | গ্রুপ ‘জে’ (সম্ভাব্য) | গ্রুপ ‘ডি’ |
| প্রথম ম্যাচের ফলাফল | ৩-০ জয় (বনাম আলজেরিয়া, ১৭ জুন) | ২-০ জয় (বনাম তুরস্ক, ১৩ জুন) |
| পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ | ২২ জুন, ২০২৬ (বনাম অস্ট্রিয়া) | ১৯ জুন, ২০২৬ (বনাম ইউএসএ) |
| প্রধান কোচ | লিয়েনেল স্কালোনি (Lionel Scaloni) | টনি পপোভিচ (Tony Popovic) |
| দলের মূল তারকা | লিওনেল মেসি (Lionel Messi) | ম্যাথিউ রায়ান (Mathew Ryan) |
| বিশ্বকাপ পেডিগ্রি | ৩ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন (ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন) | ৬ষ্ঠ বার টানা অংশগ্রহণ (সেরা সাফল্য: রাউন্ড অব ১৬) |
২০২৬ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বর্তমান ফর্ম এবং কৌশল কেমন?
লিয়েনেল স্কালোনির অধীনে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলতে এসেছে এক বিশাল প্রত্যাশার চাপ মাথায় নিয়ে, যেখানে ৩৯ বছর বয়সী মহাতারকা লিওনেল মেসি এখনো দলের আক্রমণভাগের মূল কান্ডারি হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। স্কালোনি তার দলে ৪-৩-৩ এবং ৩-৫-২ ফরমেশনের এক চমৎকার মিশ্রণ ব্যবহার করছেন, যেখানে মাঝমাঠের মূল নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখছেন এনজো ফার্নান্দেজ এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় প্রমাণ করে যে, এই দলের আক্রমণভাগের ধার এবং মাঝমাঠের সৃজনশীলতা এখনো বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষস্তরে রয়েছে, যা যেকোনো রক্ষণভাগ চূর্ণ করতে সক্ষম।
আর্জেন্টাইন শিবিরের প্রধান কৌশল হলো ম্যাচের শুরু থেকেই বল পজেশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং উইং ধরে আলেহান্দ্রো গারনাচো ও লাউতারো মার্টিনেজের গতিকে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের বক্সে আক্রমণ শাণানো। তবে ডিফেন্সে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো এবং লিসান্দ্রো মার্টিনেজের জুটি প্রথম ম্যাচে ক্লিন শিট রাখলেও ল্যাটিন অঞ্চলের বাছাইপর্বে কাউন্টার-অ্যাটাক সামলাতে গিয়ে তারা বেশ কয়েকবার গতিহীনতার পরিচয় দিয়েছে। ফিফার অফিশিয়াল সংবাদমাধ্যম FIFA.com-এর বিশেষ টিম অ্যানালিসিস অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা তাদের গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে অস্ট্রিয়া এবং জর্ডানের বিরুদ্ধে পূর্ণ পয়েন্ট তুলে নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নকআউটের টিকিট কাটতে বদ্ধপরিকর, যাতে করে শেষ ৩২-এর সমীকরণ তাদের পক্ষে থাকে।
টনি পপোভিচের অধীনে সকারুজদের শক্তি এবং নতুন রূপান্তর কী?
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে টনি পপোভিচের দায়িত্ব গ্রহণ সকারুজদের খেলার ধরনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে, যা তাদের আরও বেশি গোছানো এবং রক্ষণাত্মকভাবে নিরেট করে তুলেছে। প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী তুরস্কের বিরুদ্ধে ২-০ গোলের ঐতিহাসিক জয়টি তাদের এই নতুন রূপান্তরেরই প্রমাণ, যেখানে তরুণ উইঙ্গার নেস্টরি ইরানকুন্ডা এবং মিডফিল্ডার কনর মেটকাফে গোল করে দলকে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট এনে দেন। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির অফিশিয়াল ক্রীড়া পোর্টাল Olympics.com-এর বিশ্বকাপ ট্র্যাকার ও ফলাফল তালিকা অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া এবার তাদের স্কোয়াডে ১৭ জন নতুন খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা দলের ভেতরে এক নতুন তারুণ্যের শক্তি ও গতির সঞ্চার করেছে।
পপোভিচের কৌশল মূলত একটি কমপ্যাক্ট মিডফিল্ড ব্লক তৈরি করা এবং দলের দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডার হ্যারি সুটারকে ব্যবহার করে সেট-পিস ও এরিয়াল ব্যাটেলে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করা। অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যাথিউ রায়ান এখনো পোস্টের নিচে এক অতন্দ্র প্রহরী, যার নেতৃত্ব দলের তরুণ রক্ষণভাগকে এক বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগায়। অস্ট্রেলিয়া খুব ভালো করেই জানে যে নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার মতো দলের মুখোমুখি হতে হলে তাদের রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা নিখুঁত হতে হবে। সকারুজরা তাদের শারীরিক শক্তির ফুটবল এবং কাউন্টার-ট্রানজিশনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে বিশ্বমঞ্চে আরেকটি বড় অঘটন ঘটানোর স্বপ্ন দেখছে।
নকআউট পর্বে এই দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার গাণিতিক সমীকরণ কী?
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নতুন ৪৮ দলের বর্ধিত ফরম্যাট অনুযায়ী, ১২টি গ্রুপের প্রতিটির শীর্ষ দুটি দল এবং সেরা ৪টি তৃতীয় স্থান অধিকারী দল সরাসরি শেষ ৩২ বা নকআউট রাউন্ডে কোয়ালিফাই করবে। গাণিতিক সমীকরণ অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা যদি তাদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয় এবং অস্ট্রেলিয়া তাদের গ্রুপ ‘ডি’-তে রানার্স-আপ হিসেবে শেষ করে, অথবা এর বিপরীত সমীকরণ ঘটে, তবে শেষ ৩২ বা শেষ ১৬-এর মঞ্চেই এই দুই দলের দেখা হয়ে যাওয়ার এক প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের তৈরি করা সম্ভাব্য ব্র্যাকেট বা নকআউট চার্ট অনুযায়ী, ক্যানসাস সিটি বা ডালাসের মাঠেই এই ঐতিহাসিক রি-ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে পারে।
আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে নকআউট পর্বের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেছেন:
“বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচই সহজ নয়, এবং নতুন ফরম্যাটে প্রতিটি দলই বিপজ্জনক। আমরা কাতার বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলেছি এবং আমরা জানি তারা কতটা কঠিন প্রতিরোধী দল। আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো গ্রুপের প্রতিটি ম্যাচ জিতে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়া, এবং সামনে যে দলই আসুক না কেন, আমাদের নিজেদের সেরা ফুটবলটাই খেলতে হবে।”
FAQ:
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রেলিয়া কি একই গ্রুপে অবস্থান করছে?
না, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে এই দুই দল একই গ্রুপে নেই। অস্ট্রেলিয়া খেলছে গ্রুপ ‘ডি’-তে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ইউএসএ, তুরস্ক ও প্যারাগুয়ে; অন্যদিকে আর্জেন্টিনা সম্পূর্ণ ভিন্ন গ্রুপে অবস্থান করছে।
প্রথম রাউন্ডের ম্যাচের পর এই দুই দলের বর্তমান অবস্থান ও পয়েন্ট কেমন?
প্রথম রাউন্ড শেষে দুই দলই জয় দিয়ে শুভসূচনা করেছে। আর্জেন্টিনা ১৭ জুন আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট পেয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়া ১৩ জুন তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে তাদের গ্রুপে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
কাতার বিশ্বকাপে এই দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ফলাফল কী ছিল?
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করেছিল। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনার পক্ষে লিওনেল মেসি ও জুলিয়ান আলভারেজ গোল করেছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান স্কোয়াডে প্রধান কোচ টনি পপোভিচের নতুন কৌশল কী?
কোচ টনি পপোভিচ দলে ১৭ জন নতুন খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত করে তারুণ্যের গতি বাড়িয়েছেন। তার কৌশল হলো কমপ্যাক্ট ডিফেন্সিভ ব্লক তৈরি করা এবং নেস্টরি ইরানকুন্ডার মতো দ্রুতগতির উইঙ্গারদের ব্যবহার করে কাউন্টারে আক্রমণ করা।
নকআউট পর্বে এই দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার মূল শর্ত কী?
উভয় দলকে নিজ নিজ গ্রুপ থেকে শেষ ৩২ বা নকআউট রাউন্ড নিশ্চিত করতে হবে। এরপর টুর্নামেন্টের ব্র্যাকেট বা ড্রয়ের সমীকরণ অনুযায়ী (যেমন এক দল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন এবং অন্য দল রানার্স-আপ হলে) তারা একে অপরের মুখোমুখি হতে পারে।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি কবে এবং কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
৪৮ দলের এই ঐতিহাসিক ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি আগামী ১৯ জুলাই, ২০২৬ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির বিখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
JitaBet , JitaWin , এবং JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন, তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!
উপসংহার
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের এই সম্ভাব্য আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রেলিয়া দ্বৈরথটি ফুটবল বিশ্বের জন্য কেবল একটি সাধারণ ম্যাচ নয়, বরং এটি কাতার বিশ্বকাপের সেই রুদ্ধশ্বাস নাটকের একটি দ্বিতীয় খণ্ড বা মহাকাব্যিক রি-ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। লিওনেল মেসির জাদুকরী ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার মূল লক্ষ্য হলো যেকোনো মূল্যে শিরোপা ধরে রাখা, এবং আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে তারা সেই অভিযানের সার্থক সূচনা করেছে। লুইস স্কালোনির ট্যাকটিক্যাল পরিপক্কতা এবং দলের তরুণ তুর্কিদের ফর্ম আলবিসেলেস্তেদের নকআউট পর্বের যেকোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ফেভারিট হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। তবে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা খুব ভালো করেই জানে যে, নকআউট পর্বের নকশায় অস্ট্রেলিয়ার মতো লড়াকু দলের মুখোমুখি হওয়া মানেই এক চরম শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষা।
অন্যদিকে, টনি পপোভিচের নতুন রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া দলটির হারানোর কিছু নেই, যা তাদের মানসিকভাবে অনেক বেশি বিপজ্জনক করে তুলেছে। তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে সকারুজরা প্রমাণ করেছে যে তাদের তারুণ্যনির্ভর নতুন স্কোয়াড বিশ্বমঞ্চে যেকোনো পরাশক্তিকে স্তব্ধ করে দিতে সক্ষম। শারীরিক শক্তি, নিখুঁত রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলা এবং সেট-পিসের কার্যকারিতাকে পুঁজি করে তারা আর্জেন্টিনার তিকিতাকা ফুটবলকে রুখে দেওয়ার ছক কষছে। যদি গাণিতিক সমীকরণ মিলে যায় এবং নকআউট পর্বের শেষ ৩২ বা শেষ ১৬-এর মঞ্চে এই দুই দলের দেখা হয়, তবে উত্তর আমেরিকার মাঠে কনকাকাফের গ্যালারি এক ঐতিহাসিক ফুটবল যুদ্ধের সাক্ষী হবে। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এই সম্ভাব্য লড়াইটি হতে চলেছে এক পরম রোমাঞ্চের উৎস, যা নির্ধারণ করবে কার বিশ্বকাপ মিশন দীর্ঘায়িত হবে আর কার স্বপ্ন মাঝপথেই থমকে যাবে।
For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News



