শিরোনাম

গোল উদ্‌যাপনের সময় টানেলে পড়ে গেলেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার!

গোল উদ্‌যাপনের সময় টানেলে পড়ে গেলেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার!

Table of Contents

কোরিতিবা বনাম শ্যাপেকোয়েনস ম্যাচে গোল উদ্‌যাপন করতে গিয়ে টানেলের গর্তে পড়ে গেলেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার জ্যাসি মারানহাও। জানুন এই অবিশ্বাস্য ঘটনার বিস্তারিত। ব্রাজিলের শীর্ষ লিগে গোল উদ্‌যাপন করতে গিয়ে এক ভয়াবহ ও অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন কোরিতিবার অধিনায়ক জ্যাসি মারানহাও। শ্যাপেকোয়েনসের বিপক্ষে হেডে গোল করার পর আনন্দে আত্মহারা হয়ে বিজ্ঞাপনী বোর্ড টপকে সোজা একটি অন্ধকার টানেলে আছড়ে পড়েন এই ২৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডার। যদিও তিনি বড় কোনো চোট থেকে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন, তবে গোড়ালিতে আঘাত পাওয়ায় তাকে মাঠ ছাড়তে হয় এবং পরবর্তীতে ভিএআর-এর সিদ্ধান্তে তার গোলটিও বাতিল ঘোষণা করা হয়।

কোরিতিবা বনাম শ্যাপেকোয়েনস ম্যাচে ঠিক কী ঘটেছিল?

ফুটবল মাঠে গোল উদ্‌যাপন একটি অত্যন্ত আবেগপূর্ণ মুহূর্ত, কিন্তু সেটি যদি ভয়ংকর কোনো দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে তা চরম বিস্ময়ের সৃষ্টি করে। ঠিক এমন একটি অভাবনীয় ঘটনাই ঘটেছে ব্রাজিলের শীর্ষ ঘরোয়া ফুটবল লিগ ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে। গত ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে, কউতো পেরেইরা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল স্বাগতিক দল কোরিতিবা এবং শ্যাপেকোয়েনস। ম্যাচের ৪১তম মিনিটে একটি চমৎকার হেডারের মাধ্যমে বল জালে জড়ান কোরিতিবার ২৯ বছর বয়সী সেন্টার-ব্যাক এবং দলের অধিনায়ক জ্যাসি মারানহাও। দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেওয়ার পর তিনি প্রচণ্ড উত্তেজনায় ফেটে পড়েন। সাধারণত ডিফেন্ডাররা গোল করার সুযোগ খুব কমই পান, তাই এই মুহূর্তটি তার জন্য ছিল অত্যন্ত স্পেশাল। আনন্দে আত্মহারা হয়ে তিনি বলটি তুলে নিজের জার্সির নিচে ঢুকিয়ে নেন এবং মাঠের এক প্রান্তে থাকা সমর্থকদের দিকে দৌড়াতে শুরু করেন। উদ্‌যাপনের এক পর্যায়ে তিনি মাঠের সীমানায় থাকা স্পনসরদের বিজ্ঞাপনী বোর্ড বা অ্যাডভার্টাইজিং হোয়ার্ডিং লাফিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি যে বিজ্ঞাপনী বোর্ডের ঠিক উল্টো পাশেই একটি উন্মুক্ত সুড়ঙ্গ বা টানেল রয়েছে।

বিজ্ঞাপনী বোর্ড পার হওয়ার সাথে সাথেই এক ভয়ানক শূন্যতায় হারিয়ে যান জ্যাসি। বোর্ডের ঠিক পেছনেই ছিল প্রতিপক্ষ দলের ড্রেসিংরুমে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত একটি গভীর ভূগর্ভস্থ টানেল, যার ওপর কোনো ঢাকনা বা নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়া ছিল না। লাফ দেওয়ার পর তিনি সরাসরি সেই অন্ধকার সুড়ঙ্গের নিচে আছড়ে পড়েন। স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শক এবং মাঠের খেলোয়াড়রা মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যান, কারণ তাদের চোখের সামনেই অধিনায়ক গর্তে হারিয়ে গেছেন। ঘটনার আকস্মিকতায় সতীর্থরা দ্রুত সেই বিজ্ঞাপনী বোর্ডের দিকে ছুটে যান তাকে উদ্ধার করার জন্য। এই টানেলটি মূলত অ্যাওয়ে টিমের খেলোয়াড়দের নিরাপদে সাজঘরে পৌঁছানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু খেলা চলাকালীন এটি খোলা রাখা স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের একটি বড় ধরনের অবহেলা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। এই পতনটি এতটাই ভয়ংকর ছিল যে, শুরুতে সবাই আশঙ্কা করেছিলেন জ্যাসির হয়তো বড় ধরনের কোনো ফ্র্যাকচার বা মেরুদণ্ডে আঘাত লেগেছে। গোল ডটকমের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গর্তে পড়ে যাওয়ার পর বেশ কয়েক সেকেন্ড পর্যন্ত জ্যাসিকে দেখা যাচ্ছিল না, যা স্টেডিয়ামে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল এবং মেডিকেল স্টাফরা দ্রুত সেখানে ছুটে যান।

জ্যাসি মারানহাও টানেলে পড়ে যাওয়ার পর কীভাবে রক্ষা পেলেন?

সুড়ঙ্গের গভীর অন্ধকারে পড়ে যাওয়ার পর কয়েক সেকেন্ডের জন্য স্তব্ধতা নেমে এলেও, জ্যাসি মারানহাও অদম্য সাহসিকতার সাথে নিজেই গর্ত থেকে উঠে আসার চেষ্টা করেন। তিনি কিছুটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এবং সতীর্থদের সাহায্যে টানেলের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে আসেন। তাৎক্ষণিকভাবে কোরিতিবার মেডিক্যাল টিম মাঠে প্রবেশ করে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। প্রাথমিকভাবে দেখা যায় যে, তিনি তার গোড়ালিতে বা অ্যাঙ্কেল ইনজুরি-তে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তার পিঠের নিচের অংশেও বেশ ব্যথা অনুভূত হচ্ছিল। এত উঁচু থেকে কংক্রিটের ফ্লোরে আছড়ে পড়ার পরও যে তার কোনো হাড় ভাঙেনি, সেটিকে চিকিৎসকরা অলৌকিক বলেই আখ্যা দিয়েছেন। আঘাত পাওয়ার পরও তিনি দাঁতে দাঁত চেপে প্রথমার্ধের বাকি কয়েক মিনিট খেলা চালিয়ে যান, যা তার স্পোর্টসম্যানশিপ এবং দলের প্রতি প্রতিশ্রুতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তবে বিরতির পর ড্রেসিংরুমে তার ব্যথার তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে কোচ বাধ্য হয়ে তাকে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মাঠ থেকে তুলে নেন এবং তার বদলি খেলোয়াড় নামানো হয়।

ভাগ্যের নির্মম পরিহাস যেন এখানেই শেষ হয়নি। চোট পেয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠে ফিরে আসার পর জ্যাসি জানতে পারেন যে, তার এত কষ্ট করে করা গোলটি রেফারি বাতিল ঘোষণা করেছেন। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর (VAR) রিভিউ-তে দেখা যায় যে, গোলটি করার সময় অফসাইড পজিশনে ছিলেন এক খেলোয়াড়। ফলে রেফারির বাঁশিতে গোলটি বাতিল হয়ে যায় এবং যে গোলের জন্য তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এতটা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন, সেই গোলটিই শেষ পর্যন্ত স্কোরবোর্ডে জায়গা পেল না। এটি জ্যাসির জন্য আক্ষরিক অর্থেই ‘কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা’ দেওয়ার মতো একটি অবস্থা ছিল। এত বড় দুর্ঘটনার শিকার হয়েও গোলটি টেকেনি, যা দর্শকদের মনেও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল। তবে এই অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা সত্ত্বেও দলের মনোবল ভেঙে যায়নি। তারা শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের দারুণ এক জয় তুলে নিয়ে মাঠ ছাড়ে, যা জ্যাসির জন্য কিছুটা হলেও সান্ত্বনার বিষয় ছিল।

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
খেলোয়াড়ের নামজ্যাসি মারানহাও (২৯ বছর)
ক্লাবের নামকোরিতিবা (Coritiba)
প্রতিপক্ষ দলশ্যাপেকোয়েনস (Chapecoense)
স্টেডিয়ামকউতো পেরেইরা স্টেডিয়াম
ঘটনার তারিখ১০ আগস্ট ২০২৬
ম্যাচের ফলাফলকোরিতিবা ২-১ গোলে জয়ী
আহত স্থানগোড়ালি (Ankle) ও পিঠের নিচের অংশ
ভিএআর (VAR) সিদ্ধান্তঅফসাইডের কারণে গোল বাতিল

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা নিয়ে জ্যাসি মারানহাও নিজে কী বলেছেন?

ম্যাচ শেষে যখন জ্যাসি মারানহাও সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন, তখন তিনি নিজের এই অদ্ভুত অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিস্তারিত কথা বলেন। রেকর্ড টিভি ব্রাজিল এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মিডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি হাসিমুখেই নিজের বোকামির কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “সেখানে লাফ দেওয়ার পর আমি আমার পায়ের পাতা মচকে ফেলি। এটি এখনও কিছুটা ব্যথা করছে, তবে আমি এখন পুরোপুরি ঠিক আছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি একজন সেন্টার-ব্যাক এবং আমরা রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা খুব কমই গোল করার সুযোগ পাই। তাই যখন আপনি গোল করেন… তখন আমি উত্তেজনায় একটু বেশিই ভেসে গিয়েছিলাম বা ‘ক্যারিড অ্যাওয়ে’ হয়ে পড়েছিলাম।” তার এই সরল স্বীকারোক্তি ফুটবল ভক্তদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন যে, গোলের আনন্দে তিনি পুরোপুরি ভুলে গিয়েছিলেন যে বিজ্ঞাপনী বোর্ডের ঠিক ওপাশেই একটি গভীর গর্ত রয়েছে।

তিনি ঘটনার পেছনের আরও একটি আবেগঘন কারণ উল্লেখ করেন। তিনি মূলত গ্যালারিতে থাকা তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর সাথে এই গোলটি উদ্‌যাপন করতে চেয়েছিলেন। পতনের মুহূর্তটি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি শিহরণ জাগানো এক উপমা দেন। তিনি বলেন, “যখন আমি লাফ দিলাম… আপনি কি জানেন স্বপ্নে যখন মনে হয় যে আপনি কোনো বহুতল ভবন থেকে নিচে পড়ে যাচ্ছেন, তখন ঠিক কেমন অনুভূতি হয়? আমার ঠিক সেই রকমই লাগছিল”। এই শূন্যতায় ভেসে থাকার কয়েক সেকেন্ড তার কাছে অনন্তকালের মতো মনে হয়েছিল। হিন্দুস্তান টাইমসের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া খবরে তার এই মন্তব্যগুলো ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে ফুটবল মাঠে এক মুহূর্তের অসতর্কতা কত বড় বিপদের কারণ হতে পারে এবং এটিকে তারা সর্বকালের অন্যতম ‘ভয়াবহ উদ্‌যাপন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

কউতো পেরেইরা স্টেডিয়ামে কি এমন ঘটনা এটাই প্রথম?

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, কোরিতিবার হোম গ্রাউন্ড কউতো পেরেইরা স্টেডিয়ামে গোল উদ্‌যাপন করতে গিয়ে টানেলে পড়ে যাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এক যুগেরও বেশি সময় আগে, ২০১৪ সালে ঠিক একই রকম একটি ঘটনার সাক্ষী হয়েছিল এই স্টেডিয়ামের দর্শকরা। সেই সময় কোরিতিবার হয়ে খেলতেন ক্যামেরুনের স্ট্রাইকার জোল (Joel)। সাও পাওলোর বিপক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৩-১ ব্যবধানে জেতার পথে জোল একটি দর্শনীয় গোল করেছিলেন। গোল করার পর তিনিও ঠিক একইভাবে আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে মাঠের সীমানায় থাকা বিজ্ঞাপনী বোর্ড টপকে দর্শকদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এবং জ্যাসির মতোই তিনিও বুঝতে পারেননি যে বোর্ডের পেছনে অ্যাওয়ে টিমের ড্রেসিংরুমে যাওয়ার ফাঁকা টানেল রয়েছে। জোলও একইভাবে সেই অন্ধকার গর্তে আছড়ে পড়েছিলেন। সেই সময় ওই সুড়ঙ্গের ওপর একটি পাতলা টারপলিন বা ক্যানভাসের আবরণ ছিল, যা তার ভার সইতে না পেরে ছিঁড়ে যায়।

২০১৪ সালের সেই ঘটনার পর স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রচুর সমালোচনা হয়েছিল। অনেকেই আশা করেছিলেন যে, এর পর হয়তো টানেলের মুখে কোনো শক্ত গ্রিল বা স্থায়ী নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়া হবে। কিন্তু এক যুগ পর জ্যাসি মারানহাওয়ের সাথে অবিকল একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে যে স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ অতীতের ভুল থেকে কোনো শিক্ষাই নেয়নি। ব্রাজিলিয়ান ক্রীড়া সাংবাদিক লিওনার্দো মেন্ডেস জুনিয়র সোশ্যাল মিডিয়ায় এই দুই ঘটনার মধ্যে একটি অবিশ্বাস্য মিলের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২০১৪ সালে জোল যখন লাফ দিচ্ছিলেন, তখন যে নিরাপত্তারক্ষী তাকে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন, ২০২৬ সালে জ্যাসির লাফ দেওয়ার সময়ও ঠিক একই নিরাপত্তারক্ষী সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তাকে আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন! টাইমস অফ ইন্ডিয়ার স্পোর্টস ডেস্কে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অদ্ভুত সমাপতন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম একটি হাস্যকর এবং একই সাথে উদ্বেগজনক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভিএআর বাতিল এবং চোটের পর কোরিতিবার চূড়ান্ত ফলাফল কী ছিল?

জ্যাসি মারানহাওয়ের এই নাটকীয় পতন, গোড়ালির চোট এবং পরবর্তীতে ভিএআর-এর মাধ্যমে গোল বাতিলের মতো এতগুলো নেতিবাচক ঘটনার পরও কোরিতিবা দল তাদের ফোকাস হারায়নি। অধিনায়ককে প্রথমার্ধের পরেই হারানো সত্ত্বেও দলের অন্য খেলোয়াড়রা শ্যাপেকোয়েনসের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ফুটবল বজায় রাখে। দ্বিতীয়ার্ধে তারা দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় এবং অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে। জ্যাসির বাতিল হওয়া গোলটির আক্ষেপ ঘুচিয়ে তারা শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয়। এই জয়টি সিরি আ টেবিলের পয়েন্ট তালিকায় কোরিতিবাকে একটি সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে গেছে। তবে জ্যাসির চোটের কারণে পরবর্তী কয়েকটি ম্যাচে তার অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দলের রক্ষণভাগের জন্য একটি বড় ধাক্কা হতে পারে।

এই পুরো ঘটনাটি ফুটবল বিশ্বে স্টেডিয়ামগুলোর স্থাপত্য এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিজ্ঞাপনী বোর্ডগুলো সাধারণত মাঠের সীমানা নির্ধারণ করে, কিন্তু এর ঠিক পেছনেই কোনো রকম পূর্ব সতর্কীকরণ চিহ্ন বা সুরক্ষা বেষ্টনী ছাড়া গভীর সুড়ঙ্গ রাখাটা যেকোনো মানদণ্ডেই একটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়। ফিফা এবং কনমেবল-এর মতো আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থাগুলো খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর, তবুও ঘরোয়া লিগগুলোতে এমন গাফিলতি অহরহ দেখা যায়। জ্যাসি ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও, ভবিষ্যতে অন্য কোনো খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে এটি ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়া বা প্রাণঘাতী কোনো ইনজুরির কারণ হতে পারে। তাই ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন এবং কউতো পেরেইরা স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষকে অনতিবিলম্বে এই খোলা সুড়ঙ্গগুলোতে স্থায়ী নিরাপত্তা গ্রিল স্থাপনের নির্দেশ দেওয়ার দাবি উঠেছে সর্বত্র, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো খেলোয়াড়কে গোল উদ্‌যাপনের সময় এমন ভয়ানক পরিণতির শিকার না হতে হয়।

FAQ

১. জ্যাসি মারানহাও কোন দলের হয়ে খেলেন?

জ্যাসি মারানহাও ব্রাজিলের শীর্ষ ফুটবল লিগ সিরি আ-তে ‘কোরিতিবা’ (Coritiba) ক্লাবের হয়ে খেলেন। তিনি দলটির একজন নির্ভরযোগ্য সেন্টার-ব্যাক এবং বর্তমান অধিনায়ক।

২. কউতো পেরেইরা স্টেডিয়ামে ঠিক কী দুর্ঘটনা ঘটেছিল?

শ্যাপেকোয়েনসের বিপক্ষে গোল করার পর জ্যাসি মারানহাও মাঠের বিজ্ঞাপনী বোর্ড টপকে দর্শকদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু বোর্ডের ঠিক পেছনেই থাকা অ্যাওয়ে টিমের খোলা টানেলে তিনি পড়ে যান।

৩. টানেলে পড়ে যাওয়ার পর জ্যাসি মারানহাওয়ের কী ধরনের ইনজুরি হয়েছিল?

কংক্রিটের টানেলে আছড়ে পড়ার পর তিনি মূলত গোড়ালিতে (Ankle) চোট পান এবং তার পিঠের নিচের অংশেও তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়, যার ফলে তাকে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়।

৪. জ্যাসি মারানহাওয়ের করা গোলটি কি শেষ পর্যন্ত টিকেছিল?

না, টানেলে পড়ে যাওয়ার পর মাঠে ফিরে জ্যাসি জানতে পারেন যে, ভিএআর (VAR) রিভিউর মাধ্যমে অফসাইডের কারণে রেফারি তার গোলটি বাতিল ঘোষণা করেছেন।

৫. একই স্টেডিয়ামে আগে কি এমন কোনো ঘটনা ঘটেছিল?

হ্যাঁ, ২০১৪ সালে কোরিতিবার ক্যামেরুন স্ট্রাইকার জোল (Joel) ঠিক একইভাবে গোল উদ্‌যাপন করতে গিয়ে সাও পাওলোর বিপক্ষে ম্যাচে এই একই টানেলে পড়ে গিয়েছিলেন।

৬. জ্যাসি মারানহাওয়ের ইনজুরি ও গোল বাতিলের পর ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল কী ছিল?

এত নাটকীয়তা এবং অধিনায়কের ইনজুরির পরও কোরিতিবা দল তাদের স্বাভাবিক খেলা বজায় রাখে এবং শেষ পর্যন্ত শ্যাপেকোয়েনসকে ২-১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে।

JitaBet ,  JitaWin , এবং  JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন,   তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!

উপসংহার

খেলাধুলার জগতে গোল উদ্‌যাপন একটি চিরন্তন আবেগের বিষয়, যা খেলোয়াড় এবং দর্শকদের এক সুতোয় গেঁথে দেয়। কিন্তু জ্যাসি মারানহাওয়ের এই ভয়াবহ পতন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, এক মুহূর্তের অসতর্কতা এবং স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি কীভাবে একটি আনন্দঘন মুহূর্তকে নিমিষেই বিষাদে রূপ দিতে পারে। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে, বিশেষ করে ব্রাজিলে ফুটবলারদের আবেগ এবং মাঠের উত্তেজনা সবসময়ই একটু বেশি থাকে। একজন পেশাদার সেন্টার-ব্যাক হিসেবে গোল করার সুযোগ সচরাচর আসে না, তাই জ্যাসির সেই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ছিল অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং বোধগম্য। কিন্তু বিজ্ঞাপনী বোর্ডের ঠিক পেছনেই একটি অরক্ষিত ও উন্মুক্ত টানেল ফেলে রাখা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

সবচেয়ে হতাশাজনক ও বিস্ময়কর বিষয় হলো, ২০১৪ সালে ঠিক একই ভেন্যুতে জোলের সাথে একই ঘটনা ঘটার পরও স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এটি শুধুমাত্র কোরিতিবা বা ব্রাজিলিয়ান লিগের নির্দিষ্ট কোনো সমস্যা নয়, বরং এটি বিশ্বজুড়ে ফুটবল মাঠের অবকাঠামোগত নিরাপত্তার একটি বড় নির্দেশক। ফিফা, কনমেবল এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর উচিত স্টেডিয়ামের ভেতরের এই ধরনের সম্ভাব্য বিপদের জায়গাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চিহ্নিত করে যথাযথ বেষ্টনী বা কভারের ব্যবস্থা করা। ফুটবল ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মাঠের রেফারিং বা ভিএআর প্রযুক্তির ওপর জোর দিলেই হবে না, বরং মাঠের চারপাশে খেলোয়াড়দের শারীরিক নিরাপত্তাকেও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ভাগ্যক্রমে জ্যাসি মারানহাও বড় ধরনের কোনো স্পাইনাল ইনজুরি বা ক্যারিয়ার ধ্বংসকারী দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে গেছেন। গোল বাতিল হওয়ার আক্ষেপ থাকলেও তার দল শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নিয়েছে, যা তার এবং সমর্থকদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক। এই অদ্ভুত দুর্ঘটনাটি ফুটবলারদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে যে, আবেগের বশবর্তী হয়ে উদ্‌যাপন করার সময়ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন থাকা কতটা জরুরি। পরিশেষে, আমরা দৃঢ়ভাবে আশা করি কউতো পেরেইরা স্টেডিয়ামের এই কুখ্যাত টানেলটি খুব দ্রুতই স্থায়ীভাবে নিরাপদ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে এমন বিভীষিকাময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয় এবং ফুটবল মাঠে খেলোয়াড়দের শতভাগ পেশাদার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News