শিরোনাম

ইংল্যান্ড, আর্সেনাল ও চেলসির নতুন জার্সি নিয়ে কেন এত বিতর্ক?

ইংল্যান্ড, আর্সেনাল ও চেলসির নতুন জার্সি নিয়ে কেন এত বিতর্ক?

Table of Contents

ইংল্যান্ড মৌসুমের নতুন ফুটবল কিট ও জার্সি ডিজাইন নিয়ে ইন্টারনেটে কেন এত আলোচনা-সমালোচনা চলছে, ফ্যানদের প্রতিক্রিয়া এবং এর পেছনের গোপন রহস্য জানুন আমাদের এই বিশেষ প্রতিবেদনে। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের আসন্ন ২০২৪-২৫ মৌসুমের নতুন জার্সিগুলো উন্মোচনের পরপরই গোটা ফুটবল বিশ্বে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্ষরিক অর্থেই ঝড় উঠেছে। একদিকে নাইকি (Nike)অ্যাডিডাস (Adidas)-এর মতো স্পোর্টস ব্র্যান্ডগুলোর উদ্ভাবনী ও সাহসী ডিজাইন ফ্যানদের মুগ্ধ করেছে, অন্যদিকে ঐতিহ্যের সাথে আপস করার অভিযোগে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের জার্সিতে সেন্ট জর্জ ক্রসের রঙ বদল থেকে শুরু করে আর্সেনালের প্যান-আফ্রিকান থিম এবং চেলসির স্পন্সরবিহীন ফ্লেম ডিজাইনের জার্সি—প্রতিটিই যেন এখন কোটি কোটি ফুটবল ফ্যানের আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।

কেন ২০২৪-২৫ মৌসুমের ফুটবল কিটগুলো বিশ্বজুড়ে এত আলোচনার জন্ম দিয়েছে?

আধুনিক ফুটবল কিট (Football Kit) এখন আর কেবল মাঠে পরার পোশাক নয়; এটি একটি বিশাল বাণিজ্যিক হাতিয়ার, ফ্যাশন স্টেটমেন্ট এবং ক্লাবগুলোর ব্র্যান্ডিংয়ের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ২০২৪-২৫ মৌসুমের জন্য বিশ্বের বড় বড় স্পোর্টস ব্র্যান্ডগুলো চিরাচরিত গণ্ডি ভেঙে নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছে। তারা ক্লাবের ঐতিহাসিক মূল্যবোধের সাথে আধুনিক পপ কালচার এবং স্ট্রিট ফ্যাশনের সংমিশ্রণ ঘটানোর একটি সাহসী উদ্যোগ নিয়েছে। স্পন্সরশিপ চুক্তি, গ্লোবাল ফ্যানবেস এবং মার্সেন্ডাইজিংয়ের বিশাল বাজারের কথা মাথায় রেখেই মূলত এই ডিজাইনগুলোতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফ্যানরা সাধারণত ক্লাবের পুরোনো ঐতিহ্যের প্রতি গভীরভাবে শ্রদ্ধাশীল থাকেন, তাই ডিজাইনে সামান্য পরিবর্তন এলেও সেটি ইন্টারনেটে মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়।

স্পোর্টস মার্কেটিং বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বিতর্কের নেপথ্যে রয়েছে বিশাল অঙ্কের বাণিজ্যের হাতছানি। যখন কোনো নতুন জার্সি (New Jersey) নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক সৃষ্টি হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই সেই জার্সির ভিজিবিলিটি বা দৃশ্যমানতা বহুগুণ বেড়ে যায়, যা পরোক্ষভাবে বিক্রি বাড়াতে সাহায্য করে। প্রখ্যাত স্পোর্টস সাংবাদিকরা বলছেন, “ব্র্যান্ডগুলো এখন ইচ্ছাকৃতভাবেই এমন ডিজাইন তৈরি করছে যা সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এবং তাদের কথা বলতে বাধ্য করবে।” ক্লাবের সমর্থকরা একদিকে যেমন এই নতুন ডিজাইনগুলোকে তাদের সংস্কৃতির ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের ফ্যানরা আধুনিক এই ফ্যাশন ট্রেন্ড লুফে নিচ্ছেন। এই দুই প্রজন্মের মানসিকতার দ্বন্দ্বই মূলত ২০২৪-২৫ মৌসুমের জার্সিগুলোকে গ্লোবাল ট্রেন্ডিং টপিকে পরিণত করেছে।

ইংল্যান্ডের জার্সিতে ঐতিহ্যবাহী ক্রসের রঙ বদল নিয়ে বিতর্ক কেন তুঙ্গে?

আসন্ন টুর্নামেন্টগুলোর জন্য যখন ইংল্যান্ড জাতীয় দলের নতুন কিট উন্মোচন করা হলো, তখন কেউ কল্পনাও করেনি যে এটি জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিতর্কে রূপ নেবে। জার্সির কলারের পেছনে থাকা ঐতিহ্যবাহী লাল রঙের ‘সেন্ট জর্জ ক্রস’-এর বদলে সেখানে নীল ও বেগুনি রঙের সংমিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (FA) এবং নাইকি দাবি করেছিল যে এটি ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের প্রতি এক ধরণের সম্মান প্রদর্শন। কিন্তু রক্ষণশীল ফ্যানরা এবং প্রাক্তন ফুটবলাররা এই পরিবর্তনকে “উইক (woke) সংস্কৃতি” বলে তীব্র আক্রমণ করেন। ইংল্যান্ডের জার্সিতে সেন্ট জর্জ ক্রসের রঙ পরিবর্তন নিয়ে এই বিতর্ক এতটাই চরম আকার ধারণ করে যে, খোদ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত এই ঐতিহ্যে আঘাত করার সমালোচনা করতে বাধ্য হন।

এই পরিবর্তনের পেছনে থাকা মানসিকতা ও তার প্রভাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নাইকি চেয়েছিল ইংল্যান্ডের এই নতুন কিটটিকে আধুনিক এবং বহুমুখী একটি রূপ দিতে। কিন্তু তারা ব্রিটিশ ফুটবল ফ্যানদের আবেগের তীব্রতা বুঝতে আংশিক ব্যর্থ হয়। অনেক ফ্যান সোশ্যাল মিডিয়ায় এই জার্সির বয়কটের ডাক দেন, অন্যদিকে কিছু প্রাক্তন খেলোয়াড় যেমন হ্যারি কেন বা অন্যান্যরা বিষয়টিকে কিছুটা ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে ফুটবল ফ্যান (Football Fans)-দের কাছে জাতীয় প্রতীকগুলো কতটা স্পর্শকাতর। এই তীব্র প্রতিক্রিয়ার কারণে ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ভবিষ্যতে জার্সি অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় আরও কঠোর নিয়ম চালুর বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে।

আর্সেনালের আফ্রিকান সংস্কৃতির ছোঁয়া থাকা জার্সিটি কেন মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মুখে?

উত্তর লন্ডনের বিখ্যাত ক্লাব আর্সেনাল তাদের ২০২৪-২৫ মৌসুমের জন্য যে অ্যাওয়ে কিটটি প্রকাশ করেছে, সেটি ফুটবল বিশ্বে একটি নতুন মাত্রার আলোচনা তৈরি করেছে। ব্রিটিশ আফ্রিকান হেরিটেজ ব্র্যান্ড ল্যাব্রাম লন্ডনের (Labrum London) সাথে চুক্তির মাধ্যমে তৈরি এই জার্সিতে কালো রঙের ওপর প্যান-আফ্রিকান পতাকার ঐতিহ্যবাহী লাল এবং সবুজ রঙের ব্যবহার করা হয়েছে। ক্লাবের আফ্রিকান সমর্থকদের প্রতি সম্মান জানাতে এবং ক্লাবের হয়ে খেলা আফ্রিকান বংশোদ্ভূত কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের স্মরণে এই নকশা করা হলেও, ফ্যানদের মধ্যে এর প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। কেউ কেউ আর্সেনালের নতুন অ্যাওয়ে কিট -এর এই ডিজাইনকে মাস্টারপিস এবং সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, আবার অনেকেই একে জনপ্রিয় ডিওডোরেন্ট ‘লিংক্স আফ্রিকা’-এর বোতলের সাথে তুলনা করে ইন্টারনেটে মিমের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন।

আর্সেনাল অ্যাওয়ে কিট (Arsenal Away Kit)-এর এই বোল্ড লুক মূলত গ্লোবাল মার্কেটকে টার্গেট করে ডিজাইন করা হয়েছে। ক্লাবের বাণিজ্যিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, “এই ডিজাইন আমাদের বৈশ্বিক ফ্যানবেসের বৈচিত্র্যকে ধারণ করে এবং এটি শুধু একটি জার্সি নয়, বরং একটি শক্তিশালী বার্তা।” তবে যারা চিরাচরিত হলুদ বা নীল রঙের আর্সেনাল অ্যাওয়ে কিট দেখতে অভ্যস্ত, তাদের কাছে এই অত্যাধুনিক ডিজাইনটি সহজে হজম হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ডিং থেকে শুরু করে ইউটিউব রিভিউগুলোতে এই জার্সির প্রশংসা এবং সমালোচনা—দুটিই সমানতালে চলছে। ডিজাইনের দিক থেকে এটি অত্যন্ত ফ্যাশনেবল হলেও, মাঠে খেলোয়াড়দের গায়ে এটি কতটা মানানসই হবে তা নিয়েই মূলত ট্র্যাডিশনাল ফ্যানরা সংশয় প্রকাশ করছেন।

ক্লাবের নামকিটের ধরন (২০২৪-২৫)ডিজাইনের মূল থিম ও বৈশিষ্ট্যফ্যানদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়াস্পোর্টস ব্র্যান্ড
ইংল্যান্ডহোম কিট (Home Kit)কলারের পেছনে রঙিন সেন্ট জর্জ ক্রসঅত্যন্ত বিতর্কিত, রাজনৈতিক সমালোচনানাইকি (Nike)
আর্সেনালঅ্যাওয়ে কিট (Away Kit)প্যান-আফ্রিকান রঙ এবং সংস্কৃতির ছোঁয়ামিশ্র, মিম ম্যাটেরিয়াল হিসেবে ভাইরালঅ্যাডিডাস (Adidas)
চেলসিহোম কিট (Home Kit)লিকুইড গোল্ড ও ব্লু ফ্লেম (স্পন্সর ছাড়া)চমকপ্রদ কিন্তু সাহসী, ইতিবাচক সাড়ানাইকি (Nike)
রিয়াল মাদ্রিদহোম কিট (Home Kit)ক্লাসিক সাদা রঙের সাথে সাধারণ টেক্সচারইতিবাচক এবং ঐতিহ্যবাহীঅ্যাডিডাস (Adidas)

চেলসির স্পন্সরবিহীন ‘ব্লু ফ্লেম’ ডিজাইনের পেছনের আসল রহস্য কী?

পশ্চিম লন্ডনের জায়ান্ট চেলসি তাদের আসন্ন মৌসুমের জন্য এমন একটি জার্সি উন্মোচন করেছে যা ডিজাইনের দিক থেকে এক কথায় অসাধারণ। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, তারা টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বুকে কোনো মূল স্পন্সর ছাড়াই তাদের হোম কিট বাজারে ছেড়েছে। চেলসি হোম কিট (Chelsea Home Kit)-এ একটি উজ্জ্বল নীল রঙের বেস ব্যবহার করা হয়েছে, যা আগুনের সবচেয়ে উত্তপ্ত অংশ ‘ব্লু ফ্লেম’ থেকে অনুপ্রাণিত। ক্লাবের অফিশিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, এই তরল স্বর্ণ এবং রৌপ্যের মতো প্যাটার্নটি চেলসির সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং লন্ডনের তারুণ্যের সংস্কৃতির মেলবন্ধনকে তুলে ধরে। চেলসির স্পন্সরবিহীন নতুন হোম জার্সি ফ্যানদের কাছে একটি দারুণ সংগ্রহ হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে, কারণ স্পন্সর লোগো না থাকায় জার্সিটিকে অনেক বেশি প্রিমিয়াম এবং নান্দনিক দেখাচ্ছে।

একটি বৃহৎ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবের জন্য স্পন্সরশিপ ছাড়া জার্সি বাজারে আনা আর্থিকভাবে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। চেলসির পূর্ববর্তী স্পন্সর ‘ইনফিনিট অ্যাথলিট’-এর সাথে চুক্তি শেষ হওয়ার পর তারা উপযুক্ত মূল্যের নতুন কোনো চুক্তি করতে পারেনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিক্রিয়া (Social Media Reaction) বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ফ্যানরা এই “ক্লিন লুক” বা পরিষ্কার ডিজাইনকে ব্যাপক সমর্থন জানিয়েছেন। একজন সাধারণ সমর্থক টুইটারে লিখেছেন, “এটি চেলসির ইতিহাসের অন্যতম সেরা হোম কিট, যেখানে কেবল আমাদের ক্লাবের লোগো এবং নীল রঙটাই প্রধান।” স্পন্সরশিপের অভাব থাকা সত্ত্বেও, এই ডিজাইনের স্বকীয়তা এবং ফ্লেম প্যাটার্নের ব্যবহার নাইকির ডাটা-ড্রিভেন ফোর-ডি (4D) প্রযুক্তির এক দারুণ নিদর্শন হিসেবে ফুটবল বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে।

ক্রীড়া সামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর এই সাহসী পদক্ষেপ কি শুধু ব্যবসার কৌশল?

বর্তমান যুগে ফুটবল আর শুধু ৯০ মিনিটের খেলা নেই; এটি মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রি। নাইকি, অ্যাডিডাস, কিংবা পুমার মতো বড় স্পোর্টস গিয়ার কোম্পানিগুলো যখন কোনো ফুটবল কিট (Football Kit) ডিজাইন করে, তখন তাদের মূল লক্ষ্য থাকে বিক্রি সর্বাধিক করা। বিশ্লেষকদের মতে, ক্লাসিক বা সাধারণ ডিজাইনগুলো সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সীমার পর আর বিক্রি হয় না। কিন্তু যখন কোনো জার্সিতে বিতর্ক বা নতুনত্বের ছোঁয়া থাকে, তখন সেটি নিয়ে মূলধারার মিডিয়া থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। এই ফ্রি পাবলিসিটি বা বিনামূল্যের প্রচারণাই মূলত কোম্পানিগুলোর প্রধান লক্ষ্য থাকে। জার্সি বিতর্ককে কাজে লাগিয়ে তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত সেলস টার্গেট সহজেই পূরণ করতে পারে।

এছাড়া, আধুনিক স্ট্রিট ফ্যাশন বা লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডগুলোর সাথে ফুটবল জার্সির একটি নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এখনকার তরুণরা খেলা দেখার পাশাপাশি ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবেও জার্সি পরিধান করতে পছন্দ করেন। তাই ব্র্যান্ডগুলো স্পোর্টস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি ভিজ্যুয়াল আর্ট এবং কালচারাল রেফারেন্স ব্যবহার করে কিট তৈরি করছে। যদিও ঐতিহ্যবাহী ফ্যানদের চোখে এই পদক্ষেপগুলো অনেক সময় বাণিজ্যিক লোভ হিসেবে ধরা দেয়, তবুও দিনের শেষে এই স্ট্র্যাটেজি যে শতভাগ সফল, তা জার্সি বিক্রির বার্ষিক রিপোর্টগুলো দেখলেই বোঝা যায়। আগামী মৌসুমগুলোতেও আমরা হয়তো এমন আরও অনেক চমকপ্রদ, বিতর্কিত এবং ইন্টারনেট কাঁপানো জার্সি দেখতে পাব, যা ফুটবল সংস্কৃতিকে নতুন এক রূপ দেবে।

FAQ

১. ২০২৪-২৫ মৌসুমের কোন ক্লাবের জার্সি সবচেয়ে বেশি বিতর্ক সৃষ্টি করেছে?

ইংল্যান্ড জাতীয় দল এবং আর্সেনাল ক্লাবের জার্সি সবচেয়ে বেশি বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ইংল্যান্ডের জার্সিতে সেন্ট জর্জ ক্রসের রঙ পরিবর্তন এবং আর্সেনালের আফ্রিকান থিমের কিট ভক্তদের মাঝে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

২. চেলসি কেন তাদের নতুন জার্সিতে কোনো স্পন্সর রাখেনি?

চেলসির আগের স্পন্সর ‘ইনফিনিট অ্যাথলিট’-এর সাথে চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার পর তারা তাদের চাহিদামতো মূল্যে নতুন কোনো স্পন্সর জোগাড় করতে পারেনি। ফলে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো তারা বুকে স্পন্সর ছাড়াই নান্দনিক ‘ব্লু ফ্লেম’ ডিজাইনের হোম কিট বাজারে ছেড়েছে।

৩. ফুটবল জার্সিতে “উইক (woke) সংস্কৃতি” বলতে ফ্যানরা কী বোঝাচ্ছেন?

ঐতিহ্যবাহী ডিজাইন বা রং (যেমন- ইংল্যান্ডের লাল ক্রস) পরিবর্তন করে সেখানে আধুনিক বা ভিন্ন কোনো বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করাকে অনেক রক্ষণশীল ফ্যান “উইক সংস্কৃতি” বা জোরপূর্বক আধুনিকায়ন বলে সমালোচনা করছেন।

৪. স্পোর্টস ব্র্যান্ডগুলো কেন ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্কিত ডিজাইন তৈরি করে?

এর প্রধান কারণ হলো মার্কেটিং এবং পাবলিসিটি। বিতর্কিত ডিজাইনের কারণে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা হয়, যা পরোক্ষভাবে ব্র্যান্ডের দৃশ্যমানতা বাড়ায় এবং তরুণ প্রজন্মের ফ্যানদের আকৃষ্ট করে জার্সির বিক্রি বৃদ্ধি করে।

৫. আর্সেনালের অ্যাওয়ে জার্সির বিশেষত্ব কী?

আর্সেনালের ২০২৪-২৫ অ্যাওয়ে জার্সিতে প্যান-আফ্রিকান পতাকার লাল এবং সবুজ রঙের ব্যবহার করা হয়েছে। এটি উত্তর লন্ডন এবং ক্লাবের আফ্রিকান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় ও সমর্থকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ল্যাব্রাম লন্ডনের সহযোগিতায় ডিজাইন করা হয়েছে।

৬. নতুন এই আধুনিক জার্সিগুলোর দাম কি সাধারণ ফ্যানদের নাগালের মধ্যে রয়েছে?

অধিকাংশ প্রিমিয়াম বা “অথেনটিক” ম্যাচ ভার্সন জার্সির দাম বেশ চড়া (প্রায় ১৬০ ডলারের কাছাকাছি)। তবে ফ্যানদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম মূল্যের “স্টেডিয়াম ভার্সন” বা রেপ্লিকাও বাজারে ছাড়া হয়, যা সাধারণত ৯০-১১০ ডলারের মধ্যে বিক্রি হয়।

JitaBet ,  JitaWin , এবং  JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন,   তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!

উপসংহার

আধুনিক ফুটবল বিশ্বে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরের কার্যকলাপও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪-২৫ মৌসুমের এই বিতর্কিত এবং চমকপ্রদ জার্সিগুলো প্রমাণ করে যে, ফুটবল কিট (Football Kit) এখন একটি গ্লোবাল কালচারাল ফেনোমেনন। আমাদের এই বিস্তৃত তদন্তে এটি স্পষ্ট যে, স্পোর্টস ব্র্যান্ডগুলো যেমন নাইকি এবং অ্যাডিডাস অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই পরিবর্তনগুলো আনছে। তারা একদিকে যেমন ক্লাবগুলোর ঐতিহাসিক ভিত্তিকে আধুনিক প্রজন্মের সাথে যুক্ত করার চেষ্টা করছে, ঠিক তেমনি গ্লোবাল মার্কেট থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয়ের পথও সুগম করছে।

ইংল্যান্ডের জার্সিতে ক্রসের রঙ পরিবর্তন নিয়ে সৃষ্ট জাতীয় বিতর্ক কিংবা আর্সেনালের প্যান-আফ্রিকান থিম নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার উন্মাদনা—এসব কিছু আসলে প্রমাণ করে ফুটবল সাধারণ মানুষের আবেগের সাথে কতটা গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। স্পোর্টস ইকুইপমেন্ট কোম্পানিগুলোর উদ্দেশ্য যাই থাকুক না কেন, এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে তারা বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আবেগে নাড়া দিতে সফল হয়েছে। চেলসির মতো বড় ক্লাব যখন স্পন্সরবিহীন একটি সুন্দর এবং ছিমছাম জার্সি বাজারে আনে, তখন সেটি ফ্যানদের কাছে একটি বিশুদ্ধ ফুটবলের প্রতীক হিসেবেই ধরা দেয়।

পরিশেষে বলা যায়, ডিজাইন নিয়ে যতই সমালোচনা বা বিতর্ক থাকুক না কেন, এই জার্সিগুলোই আগামী মৌসুমে মাঠের গ্যালারি এবং শহরের রাস্তাগুলো রাঙিয়ে তুলবে। ফুটবল ফ্যান (Football Fans) তাদের প্রিয় ক্লাবের প্রতি আবেগ এবং ভালোবাসার টানে শেষ পর্যন্ত এই নতুন পরিচিতিগুলোকে গ্রহণ করে নেবেন। আর স্পোর্টস ব্র্যান্ডগুলো তাদের অভিনব ব্যবসায়িক কৌশল দিয়ে ফুটবল ইতিহাসকে নতুন করে লেখার এই ধারা অব্যাহত রাখবে, যা আগামী দিনগুলোতে ফুটবলকে আরও বেশি ফ্যাশন-ফরোয়ার্ড এবং বাণিজ্যিকভাবে সফল করে তুলবে।

For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News