শিরোনাম

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড ভেঙে বাইসাইকেল কিকের নতুন রাজা ম্যাকটমিনে!

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড ভেঙে বাইসাইকেল কিকের নতুন রাজা ম্যাকটমিনে!

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ফুটবল মাঠে গোল তো অনেকেই করেন কেউ ভলিতে, কেউ হেডারে, আবার কেউ দারুণ সব ড্রিবলিংয়ে। কিন্তু এমন কিছু গোল আছে যা ভক্তদের মনের মণিকোঠায় গেঁথে থাকে আজীবন। এমনই এক জাদুকরী ও অবিশ্বাস্য স্কিলের নাম ‘বাইসাইকেল কিক’ বা ‘ওভারহেড কিক’। যখনই এই কিকের কথা ওঠে, চোখের সামনে ভেসে ওঠে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সেই আইকনিক লাফের দৃশ্য। কিন্তু এবার রোনালদোর সেই আকাশচুম্বী লাফের রেকর্ড ভেঙে দিলেন স্কটল্যান্ডের এক মিডফিল্ডার।

গত ১৯ নভেম্বর ২০২৫, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে অবিশ্বাস্য এক বাইসাইকেল কিকে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন স্কটিশ তারকা স্কট ম্যাকটমিনে (Scott McTominay)। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই রেকর্ডব্রেকিং গোলের বিস্তারিত এবং বাইসাইকেল কিকের ইতিহাস।

রোনালদোর রেকর্ড ভাঙলেন ম্যাকটমিনে

ফুটবল বিশ্ব এতদিন জানত, বাইসাইকেল কিকে সবচেয়ে উঁচুতে লাফিয়ে গোল করার রেকর্ডটি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দখলে। কিন্তু সেই ধারণা এখন অতীত।

  • ম্যাকটমিনের নতুন রেকর্ড: গত ১৯ নভেম্বর ডেনমার্কের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে স্কট ম্যাকটমিনে যে বাইসাইকেল গোলটি করেন, তা উচ্চতার দিক থেকে নতুন বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টি করেছে। আইরিশ মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, গোল করার সময় ম্যাকটমিনে ২.৫৩ মিটার (প্রায় ৮ ফুট ৩ ইঞ্চি) উচ্চতায় শট নিয়েছিলেন।
  • রোনালদোর সেই বিখ্যাত গোল: এর আগে ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জুভেন্টাসের বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে রোনালদো যে গোলটি করেছিলেন, সেখানে তার শটের উচ্চতা ছিল ২.৩৮ মিটার (প্রায় ৭ ফুট ৮ ইঞ্চি)
  • পার্থক্য: অর্থাৎ, রোনালদোর চেয়ে প্রায় ০.১৫ মিটার বেশি উচ্চতায় শট নিয়ে ম্যাকটমিনে এখন এই রেকর্ডের একক মালিক।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন নাইজেরিয়ান ফুটবলার পল ওনুয়াচু (২.৪১ মিটার)। ফলে রোনালদো এখন নেমে গেছেন তৃতীয় স্থানে।

বাইসাইকেল কিক: ফুটবলের সবচেয়ে কঠিন শিল্প

মাটিতে না দাঁড়িয়ে, শূন্যে ভেসে উল্টো হয়ে সাইকেলের প্যাডেলের মতো পা চালিয়ে গোল করাকে বলা হয় বাইসাইকেল কিক। এটি দেখতে যতটা সুন্দর, করা তার চেয়েও কঠিন।

  • চ্যালেঞ্জ: এই শটের জন্য শরীরে নিখুঁত ভারসাম্য, টাইমিং এবং সাহসের প্রয়োজন হয়। একটু এদিক-সেদিক হলেই বড় ধরনের ইনজুরি বা চোটের ঝুঁকি থাকে।
  • রোনালদোর দাপট: ৪০ বছর বয়সে এসেও রোনালদো আল নাসরের হয়ে সম্প্রতি বাইসাইকেল কিকে গোল করেছেন, যা প্রমাণ করে ফিটনেসের দিক থেকে তিনি এখনও অনন্য।

রেকর্ড ব্রেকিং লাফের বিজ্ঞান: ম্যাকটমিনের উচ্চতা নাকি স্কিল?

স্কট ম্যাকটমিনের এই ২.৫৩ মিটারের রেকর্ডটি কেবল ভাগ্যের জোরে হয়নি, এর পেছনে ছিল অসাধারণ শারীরিক সক্ষমতা। ম্যাকটমিনে নিজে ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি লম্বা, যা তাকে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু লম্বা হলেই এমন গোল করা যায় না। শরীরকে শূন্যে ভাসিয়ে মাটির সমান্তরালে নিয়ে যাওয়া এবং সঠিক সময়ে বলের সংযোগ ঘটানো—এটি জিমন্যাস্টিকস পর্যায়ের নমনীয়তা দাবি করে। ম্যাকটমিনে যখন শটটি নেন, তখন তার পা ছিল ক্রসবারের (২.৪৪ মিটার) উচ্চতার চেয়েও ওপরে। একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হয়েও স্ট্রাইকারদের মতো এমন ফিনিশিং দক্ষতা এবং শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ তাকে এই অনন্য রেকর্ডের মালিক করেছে।

৪০ বছরের রোনালদো বনাম নতুন প্রজন্মের চ্যালেঞ্জ

যদিও উচ্চতার বিচারে স্কটিশ তারকা রোনালদোকে ছাড়িয়ে গেছেন, তবুও ৪০ বছর বয়সে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বাইসাইকেল কিকের প্রচেষ্টা এবং সাফল্য ফুটবল বিশ্বের জন্য এক বিস্ময়। ম্যাকটমিনে তার ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে (২৮ বছর বয়সে) এই রেকর্ড গড়েছেন, অন্যদিকে রোনালদো তার ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে এসেও আল নাসরের হয়ে একই ধরনের গোল করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাকটমিনের রেকর্ডটি শারীরিক সক্ষমতার প্রতীক, আর রোনালদোর গোলগুলো হলো টেকনিক বা কৌশলের চূড়ান্ত নিদর্শন। ম্যাকটমিনে হয়তো উচ্চতায় জিতেছেন, কিন্তু রোনালদো জিতেছেন ধারাবাহিকতায়। এই বয়সে এসেও তিনি যেভাবে শরীর শূন্যে ভাসান, তা নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং শিক্ষার বিষয়।

ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত এবং সোশ্যাল মিডিয়া রিয়েকশন

ম্যাকটমিনের এই গোলটি কেবল একটি ব্যক্তিগত ছিল না, এটি ছিল ডেনমার্কের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত। ম্যাচের শুরুতেই এমন একটি গোল প্রতিপক্ষের মনোবল ভেঙে দেয় এবং স্কটল্যান্ডকে চালকের আসনে বসিয়ে দেয়। গোলটি হওয়ার সাথে সাথেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তা ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা রোনালদোর জুভেন্টাসের বিপক্ষে করা সেই আইকনিক গোলের সাথে ম্যাকটমিনের গোলের ছবি পাশাপাশি রেখে তুলনা শুরু করেন। ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, ম্যাকটমিনের লাফের উচ্চতা এতটাই বেশি ছিল যে, ডেনমার্কের ডিফেন্ডারদের মাথার অনেক ওপর দিয়ে তিনি বলটি জালে জড়ান। এই গোলটি প্রমাণ করে যে, আধুনিক ফুটবলে শারীরিক কসরত এবং অ্যাথলেটিজম এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

বাংলাদেশের হামজা চৌধুরী এবং অন্যান্য কিংবদন্তি

বাইসাইকেল কিকের ইতিহাসে শুধু ইউরোপিয়ান তারকারাই নন, উঠে এসেছে বাংলাদেশের নামও।

  • হামজা চৌধুরী: সম্প্রতি নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশের ফুটবলার হামজা চৌধুরী যে ওভারহেড কিক গোলটি করেছিলেন, তা এদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে থাকবে বহুদিন।
  • অন্যান্য সেরা গোল: ফুটবল ইতিহাসে ১৯১৪ সালে চিলিতে এই কিকের উদ্ভব হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮২ বিশ্বকাপে পাওলো রোসি, ২০১১ সালের ম্যানচেস্টার ডার্বিতে ওয়েইন রুনি এবং ২০১২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইব্রাহিমোভিচের ৩৫ গজের সেই বাইসাইকেল গোল আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।

JitaBet ,  JitaWin , এবং  JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন,   তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!

উপসংহার

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বাইসাইকেল কিকের সমার্থক শব্দ হয়ে উঠলেও, স্কট ম্যাকটমিনে প্রমাণ করলেন গড়া হয় ভাঙার জন্যই। ২.৫৩ মিটার উচ্চতার এই গোলটি ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অ্যাথলেটিক মোমেন্ট হিসেবে লেখা থাকবে। তবে উচ্চতা যা-ই হোক, ৪০ বছর বয়সে রোনালদোর এমন পারফরম্যান্স এবং ম্যাকটমিনের এই অতিমানবীয় লাফ—সব মিলিয়ে জাদুকরী ফুটবলেরই জয় হয়েছে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এতদিন বাইসাইকেল কিকের ‘পোস্টার বয়’ হয়ে ছিলেন, কিন্তু স্কট ম্যাকটমিনে প্রমাণ করলেন যে রেকর্ড গড়া হয় কেবল ভাঙার জন্যই। ২.৫৩ মিটার উচ্চতায় শূন্যে ভেসে করা এই গোলটি আধুনিক ফুটবলের শারীরিক সক্ষমতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে ইতিহাসে লেখা থাকবে। যদিও উচ্চতার পরিসংখ্যানে ম্যাকটমিনে এগিয়ে গেলেন এবং বিশ্বরেকর্ড নিজের করে নিলেন, কিন্তু ৪০ বছর বয়সেও রোনালদোর এমন অ্যাক্রোব্যাটিক প্রচেষ্টা তাকে কিংবদন্তির পর্যায়েই রাখে। শেষ পর্যন্ত, কে কত উঁচুতে লাফালেন তার চেয়ে বড় কথা হলো ফুটবলের সৌন্দর্য; আর ম্যাকটমিনে ও রোনালদোর মতো তারকারা সেই জাদুকরী মুহূর্তগুলো উপহার দিয়ে ফুটবলকে করছেন আরও রোমাঞ্চকর।

For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News