শিরোনাম

ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপ জার্সি ডিজাইন: ফুটবল ফ্যাশন ও ভাইরাল জার্সির বিতর্ক!

ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপ জার্সি ডিজাইন: ফুটবল ফ্যাশন ও ভাইরাল জার্সির বিতর্ক!

Table of Contents

ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল মাঠে গড়ানোর আগেই বিশ্বের ফুটবলপ্রেমী ও ফ্যাশন বোদ্ধাদের মাঝে এক অভূতপূর্ব ভার্চুয়াল যুদ্ধের জন্ম দিয়েছে, যেখানে ৪৮টি দলের জন্য উন্মোচিত অফিশিয়াল জার্সি বা কিট ডিজাইন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠেছে। বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া ব্র্যান্ড নাইকি, অ্যাডিডাস এবং পুমার তৈরি করা কিছু রেট্রো ও ফিউচারিস্টিক ডিজাইন যেখানে প্রশংসায় ভাসছে, ঠিক তেমনি বেশ কয়েকটি দলের কিট ডিজাইনকে ‘ইতিহাসের নিকৃষ্টতম’ আখ্যা দিয়ে ভক্তরা এক্স (টুইটার) ও টিকটকে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। বিশেষ করে নাইকি ও অ্যাডিডাসের ডিজাইন বৈচিত্র্য এবং ড্রেইক, জি-ড্রাগন কিংবা ভার্চিল আবলোর মতো বৈশ্বিক ফ্যাশন আইকনদের সাথে লিমিটেড-এডিশন মার্চেন্ডাইজ কোলাবোরেশন এই জার্সিগুলোকে রাতারাতি ভাইরাল করে তুলেছে। ফুটবল ইতিহাসের এই বৃহত্তম টুর্নামেন্টে জার্সি বিক্রির বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা এবার কেবল মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং ডিজিটাল ট্রেন্ড ও সোশ্যাল মিডিয়া হাইপের ওপর ভিত্তি করে নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে।

কেন ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের জার্সি ডিজাইন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এত বড় বিতর্ক তৈরি হলো?

ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবার ৪৮টি দলের বিশাল ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা কিট ম্যানুফ্যাকচারারদের জন্য নকশায় বিশাল বৈচিত্র্য আনার সুযোগ করে দিয়েছে। জুন ২০২৬-এ টুর্নামেন্ট শুরুর প্রাক্কালে বড় বড় স্পোর্টস ব্র্যান্ডগুলো যখন ১ শতাধিক হোম ও অ্যাওয়ে কিট উন্মোচন করে, তখন থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ফুটবল সমর্থকরা এখন আর কেবল দলের লোগো সম্বলিত সাধারণ শার্টে সন্তুষ্ট নন; তারা জার্সির টেক্সচার, কালার কম্বিনেশন এবং সাংস্কৃতিক সংযোগের চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন। এই ডিজিটাল যুগে একটি জার্সির ডিজাইন ভাইরাল হতে বা ট্রোলের শিকার হতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় লাগছে, যা ব্র্যান্ডগুলোর বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক বাজারকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।

বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম Goal.com-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এবারের কিট কালেকশনগুলোতে মূলত ঐতিহাসিক ভিজ্যুয়াল আইডেন্টিটি এবং মডার্নিস্ট ফিউচারিস্টিক নান্দনিকতার এক জটিল মিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। নাইকি এবং অ্যাডিডাস তাদের ডিজাইনে বৈশ্বিক পপ কালচারকে যুক্ত করতে পপ আইকন ড্রেইকের ‘নোক্টা’ (NOCTA) ব্র্যান্ড কিংবা কে-পপ তারকা জি-ড্রাগনের ‘পিসমাইনাসওয়ান’ এর মতো হাই-এন্ড ফ্যাশন হাউসের সাথে হাত মিলিয়েছে। এই সংস্কৃতির মেলবন্ধন একদিকে যেমন তরুণ প্রজন্মের মাঝে উন্মাদনা তৈরি করেছে, ঠিক তেমনি প্রথাগত ফুটবল সমর্থকদের একাংশকে ক্ষুব্ধ করেছে। ফলস্বরূপ, এক্স (সাবেক টুইটার) এবং ইনস্টাগ্রামে হ্যাশট্যাগ #WorldCupKits এবং #FIFA2026 ট্রেন্ডিংয়ের শীর্ষে চলে এসেছে, যেখানে প্রতি সেকেন্ডে হাজার হাজার ভক্ত নিজেদের ‘সেরা’ ও ‘নিকৃষ্ট’ জার্সির তালিকা প্রকাশ করছেন।

কোন দেশগুলোর জার্সি ডিজাইন ভক্তদের মতে ২০২৬ সালের ‘সেরা’ তালিকা দখল করেছে?

এবারের বিশ্বকাপের ‘বেস্ট কিট’ বা সেরা জার্সির তালিকায় বেশ কয়েকটি দেশ তাদের ঐতিহ্য ও আধুনিকতার নিখুঁত ভারসাম্যের কারণে ফুটবল অনুরাগীদের মন জয় করে নিয়েছে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার হোম এবং অ্যাওয়ে জার্সি দুটিই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে, যেখানে তাদের আগের বিশ্বজয়ের নীল-সাদা আভা এবং ঐতিহ্যবাহী মোটিফের একটি দুর্দান্ত কালার প্যালেট ব্যবহার করা হয়েছে। একইভাবে জার্মানির অ্যাওয়ে জার্সিতে নেভি ব্লুর সাথে অ্যাকুয়া-ব্লু রঙের মিশ্রণ এবং ১৯৯০ ও ২০১৪ সালের সফল বিশ্বকাপের রেট্রো লুকের ছোঁয়া ভক্তদের নস্টালজিক করে তুলেছে। অন্যদিকে আয়োজক দেশ কানাডার নাইকি হোম কিট এবং সেনেগালের ডাকার শহরের ঐতিহ্যবাহী হাতে আঁকা বাসের নকশা থেকে অনুপ্রাণিত পুমার অ্যাবস্ট্রাক্ট প্রিন্ট ডিজাইন ফ্যাশন বোদ্ধাদের প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হয়েছে।

ফুটবল সংস্কৃতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ব্রাজিলের জার্সি সবসময়ই আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে, এবং ২০২৬ সালের জন্য তাদের আইকনিক হলুদ, সবুজ ও নীল রঙের বোনা মোটিফটি ভক্তদের দারুণ পছন্দ হয়েছে। নামী সংবাদমাধ্যম Fox Sports-এর ফুটওয়্যার ও অ্যাপারেল ট্রেন্ড রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রেট্রো থ্রোব্যাক এবং ফিউচারিস্টিক এক্সপেরিমেন্টাল স্টাইলের চাহিদা এবার বাজারে আকাশচুম্বী। আমেরিকার বাজারে নাইকি এবং প্রয়াত ডিজাইনার ভার্চিল আবলোর আর্কাইভ (Virgil Abloh Archive) মিলে যে ‘ফুটবল আমেরিকা’ থিমের প্রাক-ম্যাচ জার্সি বাজারে এনেছে, তা রিলিজ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অনলাইন স্টোরগুলোতে সম্পূর্ণ ‘আউট অব স্টক’ হয়ে যায়। এই হাইপ প্রমাণ করে যে, সঠিক কৌশল ও নান্দনিক ডিজাইন কীভাবে একটি সাধারণ স্পোর্টস কিটকে বৈশ্বিক লাইফস্টাইল স্টেটমেন্টে পরিণত করতে পারে।

এক নজরে ফিফা ২০২৬ ভাইরাল জার্সি ট্রেন্ডস ও রেটিং

দেশের নাম (Country)প্রস্তুতকারক ব্র্যান্ড (Manufacturer)ডিজাইনের মূল থিম (Design Theme)সোশ্যাল মিডিয়া রেটিং ও ট্রেন্ড (Status)
আর্জেন্টিনাঅ্যাডিডাস (Adidas)বিশ্বজয়ের ঐতিহ্য ও ব্ল্যাক-ব্লু সুইরলিং গ্রাফিক্স মোটিফ।সেরা (9.5/10) — নস্টালজিয়া ও ফ্যাশনের সেরা মেলবন্ধন।
ইউনাইটেড স্টেটস (USMNT)নাইকি (Nike)ভার্চিল আবলো আর্কাইভ ও স্ট্রিটওয়্যার ডিটেকশন থিম।ভাইরাল (9.0/10) — তরুণ প্রজন্মের মাঝে ব্যাপক চাহিদা।
জার্মানিঅ্যাডিডাস (Adidas)১৯৯০ ও ২০১৪ সালের রেট্রো আর্কিটেকচার ও নেভি ব্লু বেস।সেরা (8.8/10) — নিখুঁত রেট্রো ভাইব।
সেনেগালপুমা (Puma)ডাকার শহরের হাতে আঁকা বাসের অ্যাবস্ট্রাক্ট কালার কালচার।মিশ্র প্রতিক্রিয়া (7.5/10) — সাহসী কিন্তু কিছুটা অগোছালো।
মেক্সিকোঅ্যাডিডাস (Adidas)উইলি চাভারিয়া স্ট্রিটওয়্যার এবং প্রাচীন কালচারাল আর্ট।পুনর্বিন্যাসকৃত (8.0/10) — সমালোচনার পর নকশা পরিবর্তন।

কোন কিটগুলো ‘সবচেয়ে বাজে ডিজাইন’ বা ট্রোলের শিকার হয়ে নিন্দিত হচ্ছে?

প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনার ঝড় এবং উগ্র ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হয়েছে বেশ কয়েকটি দেশের কিট ডিজাইনকে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় মিমে পরিণত হয়েছে। কিছু কিছু দেশের জার্সিতে অতিরিক্ত জ্যামিতিক প্যাটার্ন এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ রঙের ব্যবহার ভক্তদের চোখের জন্য ‘অস্বস্তিকর’ বলে বিবেচিত হয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি আফ্রিকান এবং ইউরোপীয় দেশের কিটের ক্ষেত্রে ম্যানুফ্যাকচারাররা বৈচিত্র্য আনতে গিয়ে মূল নকশার ঐতিহ্যই নষ্ট করে ফেলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উগ্র সমর্থকরা পুমার কিছু একই টেমপ্লেটের সাধারণ নকশাকে ‘অলস ডিজাইন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং নাইকির অতিরিক্ত এক্সপেরিমেন্টাল থিমকে কটাক্ষ করেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে ভক্তদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে স্বাগতিক মেক্সিকো এবং ব্রাজিলের প্রাথমিক কিটের কিছু অনানুষ্ঠানিক লিকড ভার্সন, যা পরবর্তীতে ব্র্যান্ডগুলোকে কিছুটা সংশোধন করতে বাধ্য করে। যুক্তরাজ্যের প্রধান সংবাদমাধ্যম Evening Standard-এর শপিং ও মার্সেন্ডাইজ অ্যানালাইসিসে বলা হয়েছে, ১১৮টিরও বেশি হোম ও অ্যাওয়ে কিটের এই বিশাল বাজারে ডিজাইনের সামান্য ত্রুটি বা রঙের অসঙ্গতি ভক্তদের ক্ষোভের কারণ হচ্ছে, কারণ প্রতিটি জার্সির দাম এখন ১০০ থেকে ১৮০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত স্পর্শ করেছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে ভক্তরা যখন সাধারণ বা অদ্ভুত কোনো ডিজাইন পান, তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে এবং এর ফলে অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের অফিশিয়াল কিটের বিক্রি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার রেকর্ড তৈরি হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা এই জার্সি বিপ্লবকে কীভাবে দেখছেন?

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া বিশ্লেষক এবং ফ্যাশন ডিজাইনাররা এই জার্সি বিতর্ককে কেবল একটি সাধারণ স্পোর্টস ট্রেন্ড হিসেবে দেখছেন না; তারা এটিকে ক্রীড়া বাণিজ্যের একটি নতুন কোয়ান্টাম লিপ বা যুগান্তকারী লাফ হিসেবে বর্ণনা করছেন। আধুনিক ফুটবল জার্সির সংজ্ঞা এখন আর মাঠের ৯০ মিনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন ক্যাটওয়াক, মিউজিক কনসার্ট এবং স্ট্রিটওয়্যার সংস্কৃতির একটি বড় অংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাইকি বা অ্যাডিডাসের মতো জায়ান্টরা এখন ফুটবল ভক্তদের পাশাপাশি সাধারণ ফ্যাশন সচেতন সাধারণ গ্রাহকদেরও লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

অ্যাডিডাসের গ্লোবাল ফুটবল ডিজাইনের একজন সিনিয়র ডিরেক্টর একটি আন্তর্জাতিক প্রেস রিলিজে বলেছেন, “আমরা যখন ২০২৬ বিশ্বকাপের জার্সি ডিজাইন করেছি, আমাদের মাথায় ছিল কীভাবে প্রতিটি দেশের ইতিহাসকে তরুণ প্রজন্মের উপযোগী করে তুলে ধরা যায়। জার্সি এখন শুধু ১১ জন খেলোয়াড়ের পোশাক নয়, এটি একটি দেশের সংস্কৃতি পরিধান করার মতো।” আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এবারের টুর্নামেন্টে জার্সির ডিজাইন এবং এর সোশ্যাল মিডিয়া হাইপ সরাসরি দলগুলোর ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়াতে সাহায্য করছে, যা এর আগে আর কোনো বিশ্বকাপে এতটা প্রবল আকারে দেখা যায়নি।

জার্সি বিক্রির এই বৈশ্বিক বাজার কীভাবে ফুটবল বাণিজ্যের নতুন রেকর্ড গড়ছে?

ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের এই জার্সি উন্মাদনা ফুটবল বাণিজ্যের ইতিহাসে সর্বকালীন সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করার পথে রয়েছে। অফিসিয়াল ফিফা স্টোর এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা রিটেইলারদের ডেটা অনুযায়ী, জার্সি উন্মোচনের প্রথম কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী কিট বিক্রির পরিমাণ গত বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৩৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে লিওনেল মেসির নাম সম্বলিত আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্সের জার্সি ক্রয়ের জন্য বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি ভক্ত অগ্রিম বুকিং দিয়ে রেখেছেন, যার একক মূল্য প্রায় ১৫০ থেকে ১৮০ মার্কিন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লস অ্যাঞ্জেলেস এবং নিউ ইয়র্কের মতো বড় শহরগুলোতে লোকাল ডিজাইনাররা ফুটবল কিটকে কাস্টমাইজ করে নারীদের জন্য ক্রপ-টপ, ব্যাকলেস হাল্টার টপ এবং সিল্কি লেস ট্রিম ডিজাইনে রূপান্তর করছেন, যা টিকটকে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ফ্যাশন ডিজাইনারদের বরাত দিয়ে একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক ফিচারে বলা হয়েছে, পপ তারকা জো জোনাস থেকে শুরু করে কারোল জি-র মতো সেলিব্রিটিরা কনসার্টে এই কাস্টমাইজড ফুটবল জার্সি পরে পারফর্ম করছেন। স্পোর্টস ইকোনমিস্টদের মতে, এই ট্রেন্ডের কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগেই অফিশিয়াল জার্সি এবং মার্চেন্ডাইজ বিক্রি থেকে আয় কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে, যা ফুটবলের বাণিজ্যিক ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক।

FAQ:

ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে কোন দেশের জার্সিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত হচ্ছে?

২০২৬ বিশ্বকাপের কিটগুলোর মধ্যে আর্জেন্টিনা এবং জার্মানির জার্সি দুটি সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের কাছে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পাচ্ছে। আর্জেন্টিনার ক্লাসিক ব্লু-সুইরলিং মোটিফ এবং জার্মানির রেট্রো থ্রোব্যাক নকশা ভক্তদের নস্টালজিক আবেগকে স্পর্শ করেছে।

জার্সি ডিজাইনের ক্ষেত্রে এই বছর সবচেয়ে বড় বিতর্কটি কী নিয়ে?

সবচেয়ে বড় বিতর্কটি হলো ব্র্যান্ডগুলোর ফিউচারিস্টিক ডিজাইনের নামে অতিরিক্ত এক্সপেরিমেন্ট এবং প্রথাগত কালার টেমপ্লেট পরিবর্তন করা। কিছু কিছু দেশের ভক্তরা অভিযোগ করেছেন যে ব্র্যান্ডগুলো ঐতিহ্যকে বাদ দিয়ে অতিরিক্ত স্ট্রিটওয়্যার ধাঁচের অলস ডিজাইন তৈরি করেছে।

ভার্চিল আবলো আর্কাইভ’ ও ‘ড্রেইক নোক্টা’ কোলাবোরেশন জার্সিগুলোর বিশেষত্ব কী?

নাইকি এবং অ্যাডিডাস বিশ্বখ্যাত ডিজাইনার ও মিউজিশিয়ানদের সাথে মিলে লিমিটেড-এডিশন কিট তৈরি করেছে। যেমন, ইউএসএমএনটি-র জন্য তৈরি ভার্চিল আবলো আর্কাইভের শার্টে স্ট্রিটওয়্যার ও ভার্সিটি লুকের মিশ্রণ ঘটানো হয়েছে, যা খেলাধুলার পোশাককে উচ্চমানের ফ্যাশনে রূপান্তর করেছে।

কাস্টমাইজড ফুটবল জার্সি কেন টিকটক এবং ইনস্টাগ্রামে ট্রেন্ড করছে?

উত্তর আমেরিকার ডিজাইনাররা অফিশিয়াল ফুটবল জার্সিকে কেটে নারীদের জন্য আকর্ষণীয় ফ্যাশনেবল ক্রপ-টপ, হাল্টার নেক এবং ব্যাকলেস পোশাকে রূপান্তর করছেন। পপ সেলিব্রিটিরা এগুলো পরে কনসার্ট করায় এই ‘ফুটবল ফ্যাশন’ তরুণীদের মাঝে ভাইরাল হয়েছে।

ফিফা ২০২৬ অফিশিয়াল জার্সিগুলোর বাজারমূল্য কত নির্ধারণ করা হয়েছে?

বিশ্বকাপের অফিশিয়াল রেপ্লিকা এবং অথেনটিক জার্সিগুলোর মূল্য ডিজাইন ও ব্র্যান্ড ভেদে ১০০ মার্কিন ডলার থেকে শুরু করে ১৮০ মার্কিন ডলার (অথেনটিক প্লেয়ার্স এডিশন) পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভক্তদের তীব্র সমালোচনার পর কোনো ব্র্যান্ড কি জার্সি ডিজাইন পরিবর্তন করেছে?

হ্যাঁ, সোশ্যাল মিডিয়ায় লিক হওয়া প্রাথমিক নকশা নিয়ে ভক্তদের তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং উগ্র ট্রোলিংয়ের পর মেক্সিকো এবং ব্রাজিলের মতো কিছু দেশের কিটের ফাইনাল প্রোডাকশনে সামান্য পরিবর্তন বা রঙের সমন্বয় করা হয়েছে।

JitaBet ,  JitaWin , এবং  JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন,   তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!

উপসংহার

ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের জার্সি ডিজাইন নিয়ে চলমান এই বৈশ্বিক উন্মাদনা ও বিতর্ক প্রমাণ করে যে, আধুনিক ফুটবল এখন আর কেবল মাঠের সবুজ ঘাসের ভেতরের কোনো খেলা নয়। এটি এখন বিনোদন, ফ্যাশন, ডিজিটাল টেকনোলজি এবং ট্রিলিয়ন ডলারের কর্পোরেট বাণিজ্যের এক অভূতপূর্ব মহা-মিশ্রণ। নাইকি, অ্যাডিডাস এবং পুমার মতো বৈশ্বিক স্পোর্টস জায়ান্টরা যেভাবে সংস্কৃতির বৈচিত্র্য এবং রেট্রো নস্টালজিয়াকে পুঁজি করে তাদের কিট বা জার্সিগুলো সাজিয়েছে, তা বাণিজ্যিক দিক থেকে অত্যন্ত সফল। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ার উগ্র ট্রোলিং এবং সমালোচনার মুখে কিছু ব্র্যান্ডকে পড়তে হয়েছে, কিন্তু দিনশেষে এই নেতিবাচক বা ইতিবাচক ব্যবস্থাপনাই জার্সিগুলোর হাইপ এবং বিক্রি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

৪৮টি দলের এই মেগা টুর্নামেন্টে উত্তর আমেরিকার ১৬টি ভেন্যুতে যখন খেলোয়াড়রা মাঠে নামবেন, তখন তাদের গায়ের জার্সিগুলো কেবল একটি পোশাক হিসেবে নয়, বরং কোটি কোটি মানুষের আবেগ ও সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে প্রতিফলিত হবে। পপ আইকন ও ডিজাইনারদের সাথে এই কোলাবোরেশন স্পোর্টস মার্সেন্ডাইজিংয়ের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে, যেখানে খেলাধুলা এবং দৈনন্দিন লাইফস্টাইল ফ্যাশনের মধ্যকার দেয়ালটি পুরোপুরি ভেঙে গেছে। মাঠের লড়াইয়ে কোন দেশ ট্রফি জিতবে তা এখনো নিশ্চিত নয়, তবে জার্সি ডিজাইনের এই বৈশ্বিক মহাযুদ্ধে যে ডিজিটাল মিডিয়া এবং আধুনিক ফ্যাশন কালচারই চূড়ান্ত জয়ী হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News