ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর, অনুষ্ঠিত হতে আর মাত্র ৮ মাস বাকি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে বসতে যাওয়া এই আসরটি হতে যাচ্ছে ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ, যেখানে ৪৮টি দল অংশ নেবে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ বাছাইপর্বের যাত্রা প্রায় শেষের দিকে। স্বাগতিক ৩টি দেশ সহ মোট ২৮টি দলের স্থান ইতোমধ্যেই নিশ্চিত হয়ে গেছে। অর্থাৎ, আর মাত্র ২০টি স্থানের জন্য লড়াই বাকি আছে। আফ্রিকা (CAF), এশিয়া (AFC), দক্ষিণ আমেরিকা (CONMEBOL) এবং ওশেনিয়া (OFC) অঞ্চলের বাছাইপর্ব ইতোমধ্যেই শেষ। এই অঞ্চলগুলো থেকে মোট ২৪টি দল তাদের স্থান পাকা করে ফেলেছে। কিন্তু মূল আকর্ষণ এখন ইউরোপ (UEFA) এবং উত্তর আমেরিকা (CONCACAF) অঞ্চলকে ঘিরে।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ কতো দল এখনো ফাঁকা আছে?
- মোট অংশগ্রহণসংখ্যা: ৪৮টি দল।
- এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করেছে: ২৫টি দল।
- তাই এখনো ফাঁকা রয়েছে: ২৩টি জায়গা।
(৪৮ ‑ ২৫ = ২৩)
এটি দেখায় শুরুর স্তর থেকে বাছাইপ্রক্রিয়া এখনও আগামি অবস্থায় রয়েছে।
এক নজরে: বিশ্বকাপ নিশ্চিত করলো যে ২৮টি দল
চলুন দেখে নিই ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য এখন পর্যন্ত কোন কোন দল তাদের জায়গা নিশ্চিত করেছে।
স্বাগতিক (৩টি দল)
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- কানাডা
- মেক্সিকো
এশিয়া (AFC) (৮/৮ টি দল নিশ্চিত)
- অস্ট্রেলিয়া
- ইরান
- জাপান
- জর্ডান
- উজবেকিস্তান
- কাতার
- দক্ষিণ কোরিয়া
- সৌদি আরব
আফ্রিকা (CAF) (৯/৯ টি দল নিশ্চিত)
- আলজেরিয়া
- কেপ ভার্দে
- মিশর
- ঘানা
- আইভরি কোস্ট
- মরক্কো
- সেনেগাল
- দক্ষিণ আফ্রিকা
- তিউনিসিয়া
দক্ষিণ আমেরিকা (CONMEBOL) (৬/৬ টি দল নিশ্চিত)
- আর্জেন্টিনা
- ব্রাজিল
- কলম্বিয়া
- ইকুয়েডর
- প্যারাগুয়ে
- উরুগুয়ে
ওশেনিয়া (OFC) (১/১ টি দল নিশ্চিত)
- নিউজিল্যান্ড
ইউরোপ (UEFA) (১৬টির মধ্যে ১টি দল নিশ্চিত)
- ইংল্যান্ড
আসল লড়াই বাকি ২০ স্থানে: ইউরোপের অগ্নিপরীক্ষা
মোট ৪৮টি দলের মধ্যে ২৮টি দল চূড়ান্ত হওয়ায় বাকি রয়েছে আর মাত্র ২০টি স্থান। এর মধ্যে:
- ইউরোপ (UEFA): ১৫টি স্থান
- উত্তর ও মধ্য আমেরিকা (CONCACAF): ৩টি স্থান
- আন্তঃকনফেডারেশন প্লে-অফ: ২টি স্থান
সবচেয়ে রুদ্ধশ্বাস লড়াইটা চলছে ইউরোপে। ১৬টি স্থানের মধ্যে এখন পর্যন্ত শুধু ইংল্যান্ডই তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা নিশ্চিত করতে পেরেছে। বাকি ১৫টি স্থানের জন্য আজ রাতেই (১৩ নভেম্বর) মাঠে নামছে হেভিওয়েট দলগুলো।
ক্ষেত্রভিত্তিক কোটা ও নিশ্চিত দলগুলোর তালিকা
নিচে অঞ্চলভিত্তিক কোটা ও ইতিমধ্যে নিশ্চিত দেশগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:
| অঞ্চল | কোটা (প্রত্যক্ষ) | ইতিমধ্যে নিশ্চিত দেশ | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| হোস্ট দেশ | ৩ (USA, Canada, Mexico) | স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিশ্চিত | তিনটি দেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিশ্চিত করেছে। |
| আফ্রিকা (CAF) | ৯ সরাসরি + ১ প্লে‑অফ সম্ভাবনা | ৯টি নিশ্চিত (উদাহরণ: আলজেরিয়া, মরক্কো, ঘানা…) | কোটা বাড়ায় আফ্রিকার দেশগুলোর সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। |
| এশিয়া (AFC) | ৮ সরাসরি + ১ প্লে‑অফ সম্ভাবনা | ৮টি নিশ্চিত (উদাহরণ: জাপান, সৌদি আরব…) | এশিয়া অঞ্চলেও নতুন কোটা বাস্তবায়িত। |
| দক্ষিণ আমেরিকা (CONMEBOL) | ৬ সরাসরি + সম্ভবত প্লে‑অফ | ৬টি নিশ্চিত (আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল…) | প্রথাগত শক্ত আরেকবার প্রমাণ করেছে। |
| ওশেনিয়া (OFC) | ১ সরাসরি + প্লে‑অফ সম্ভাবনা | ১টি নিশ্চিত (নিউজিল্যান্ড) | প্রথমবারের মতো ওশেনিয়ায় সরাসরি কোটা। |
| ইউরোপ (UEFA) | ১৬ সরাসরি | এখনও মাত্র ১টি নিশ্চিত (ইংল্যান্ড) | ইউরোপে লড়াই এখনো তীব্র। |
| উত্তরণ প্লে‑অফ (Inter‑confederation) | ২টি জায়গা | এখনও নিশ্চিত নয় | শেষ দিকে অনেক দল এই রাউন্ডে লড়াই করবে। |
ইউরোপের হাই-ভোল্টেজ: পর্তুগাল, ফ্রান্স ও ইতালির সমীকরণ
- পর্তুগাল: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল আজ রাতে আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচ থেকে মাত্র ২ পয়েন্ট পেলেই (অর্থাৎ, জয়) রবার্তো মার্তিনেজের শিষ্যদের বিশ্বকাপ নিশ্চিত হয়ে যাবে।
- ফ্রান্স: বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ ইউক্রেন। আজকের ম্যাচে জয় পেলে ফরাসিদেরও আর কোনো বাধা থাকবে না মূল পর্বে যেতে।
- ইতালি: চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির অবস্থা বেশ জটিল। আজ মলদোভার বিপক্ষে জিতলেও তাদের গ্রুপের শীর্ষে থাকা নরওয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। প্লে-অফের ঝুঁকি এড়াতে হলে আজ্জুরিদের শেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয়ের কোনো বিকল্প নেই।
উত্তর আমেরিকার লড়াই: স্বাগতিক বাদেও বাকি ৩টি
একটি বিষয় অবশ্যই পরিষ্কার হওয়া দরকার যে, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা (CONCACAF) অঞ্চল থেকে স্বাগতিক হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো সরাসরি মূল পর্বে খেলবে। কিন্তু ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটে এই অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ এখানেই শেষ নয়। স্বাগতিক দেশগুলো বাদেও আরও ৩টি দল সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পাবে। এই মুহূর্তে সেই ৩টি স্থানের জন্যই কনকাকাফ অঞ্চলের চূড়ান্ত পর্বের বাছাইপর্ব চলছে। কোস্টারিকা, পানামা, জ্যামাইকা এবং হন্ডুরাসের মতো দলগুলো এই স্থানগুলোর জন্য মরিয়া হয়ে লড়ছে, এবং এখন পর্যন্ত (১৩ নভেম্বর ২০২৫) কোনো দলই গাণিতিকভাবে তাদের স্থান নিশ্চিত করতে পারেনি। এই কারণেই মূল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর আমেরিকা থেকে এখনও কোনো দল (স্বাগতিক বাদে) কোয়ালিফাই করেনি। শুধু তাই নয়, এই অঞ্চল থেকে আরও ২টি দল আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে খেলার সুযোগ পাবে। তাই এই অঞ্চলের লড়াই শুধু সরাসরি ৩টি স্থান নিয়েই নয়, প্লে-অফের ২টি স্থান দখলের জন্যও তীব্র হয়ে উঠেছে, যা বিশ্বকাপের উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
৪৮ দলের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ: বিশ্ব ফুটবলের নতুন দিগন্ত
২০২৬ সালের এই আসরটি কেবল একটি সাধারণ বিশ্বকাপ নয়; এটি ফিফার ইতিহাসে একটি নতুন যুগের সূচনা। দীর্ঘদিনের ৩২ দলের পরিচিত ফরম্যাট ভেঙে এই প্রথমবার ৪৮টি দেশকে নিয়ে আয়োজিত হচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। এই বৈপ্লবিক সম্প্রসারণের ফলে এশিয়া (AFC) এবং আফ্রিকা (CAF) মহাদেশের জন্য বরাদ্দকৃত স্থানের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এশিয়া সরাসরি ৮টি (আগে ছিল ৪.৫) এবং আফ্রিকা সরাসরি ৯টি (আগে ছিল ৫) স্থান পেয়েছে, যা এই মহাদেশগুলোর জন্য সর্বকালের রেকর্ড। এর সুফলও হাতেনাতে পাওয়া যাচ্ছে। আপনার দেওয়া তথ্য অনুসারেই, জর্ডান এবং উজবেকিস্তানের মতো দেশ, যারা অতীতে বারবার প্লে-অফের বাধার মুখে পড়ে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় ভুগেছে, তারা এবার সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, নতুন এই ফরম্যাট বিশ্ব ফুটবলের প্রসারে এক বিশাল ভূমিকা রাখছে এবং তথাকথিত ‘ছোট’ দলগুলোর জন্য বিশ্ব মঞ্চের দরজা অবারিত করে দিয়েছে। এর ফলে ফুটবলের বিশ্বায়ন আরও দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মহাদেশীয় বাছাইপর্বের বৈপরীত্য: ইউরোপের নাটক
বাছাইপর্বের বর্তমান পরিস্থিতি (১৩ নভেম্বর ২০২৫) বিশ্ব ফুটবলের এক অদ্ভুত বৈপরীত্যকে সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে, এশিয়া (৮ দল), আফ্রিকা (৯ দল), দক্ষিণ আমেরিকা (৬ দল) এবং ওশেনিয়া (১ দল) তাদের বাছাইপর্বের দীর্ঘ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ করে ফেলেছে। এই মহাদেশগুলোর মোট ২৪টি দল (মূল আর্টিকেলের ২৫টির মধ্যে ইংল্যান্ড বাদে) ইতোমধ্যেই তাদের বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে নির্ভার হয়ে মূল টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। অন্যদিকে, ফুটবল ‘পাওয়ারহাউস’ খ্যাত ইউরোপ (UEFA) মহাদেশে চলছে চরম উত্তেজনা এবং জটিল সমীকরণ। ইউরোপের জন্য মোট ১৬টি স্থান বরাদ্দ থাকলেও এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র ইংল্যান্ডই তাদের টিকিট নিশ্চিত করতে পেরেছে। পর্তুগাল, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি এবং স্পেনের মতো হেভিওয়েট দলগুলোকেও সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের জন্য শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এর মূল কারণ ইউরোপের বাছাইপর্বের ফরম্যাট তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক, যেখানে ছোট গ্রুপে একটি বা দুটি খারাপ ম্যাচই সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নকে প্লে-অফের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
শেষ সুযোগ”: যেভাবে নির্ধারিত হবে শেষ ২টি দল
বিশ্বকাপের মোট ৪৮টি স্থানের মধ্যে ৪৬টি দল সরাসরি বাছাইপর্ব বা স্বাগতিক হিসেবে নিশ্চিত হবে। কিন্তু বাকি ২টি স্থানের জন্য আয়োজন করা হয়েছে এক নাটকীয় “আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ” টুর্নামেন্টের। এটিই হবে বিশ্বকাপে যাওয়ার ‘শেষ সুযোগ’। এই মিনি-টুর্নামেন্টে ইউরোপ (UEFA) বাদে বাকি সব মহাদেশের প্রতিনিধি থাকবে। মোট ৬টি দল এতে অংশ নেবে: কনকাকাফ (উত্তর আমেরিকা) থেকে ২টি এবং এশিয়া (AFC), আফ্রিকা (CAF), দক্ষিণ আমেরিকা (CONMEBOL) ও ওশেনিয়া (OFC) থেকে ১টি করে দল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে এই ৬টি দলের মধ্যে সেরা ২টি দলকে ‘সিডেড’ (বাছাই) করা হবে এবং তারা সরাসরি প্লে-অফ ফাইনালে চলে যাবে। বাকি ৪টি ‘আনসিডেড’ দল নিজেদের মধ্যে দুটি নকআউট ‘সেমিফাইনাল’ খেলবে। এই দুই সেমিফাইনালের বিজয়ীরা তখন অপেক্ষায় থাকা সিডেড দল দুটির বিপক্ষে দুটি আলাদা ‘ফাইনাল’ খেলবে। এই দুই ফাইনালের বিজয়ী দুটি দলই পাবে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ দুটি সোনার টিকিট। এই প্লে-অফ টুর্নামেন্টটি বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলোতেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা মূল টুর্নামেন্টের আগে একটি ‘টেস্ট ইভেন্ট’ হিসেবেও কাজ করবে।
JitaBet , JitaWin , এবং JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন, তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!
উপসংহার
বিশ্বকাপের পূর্ণাঙ্গ লাইনআপ পেতে আর বেশি সময় বাকি নেই। এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার লড়াই শেষ হলেও, ইউরোপের নাটকীয়তা সবে শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই জানা যাবে বাকি ১৫টি ইউরোপিয়ান দল কারা হচ্ছে, যারা যাচ্ছে ২০২৬ সালের বিশ্ব আসরে।
FAQs
২০২৬ বিশ্বকাপ কী সময় হবে?
২০২৬ সালের জুনে শুরু হবে, শেষ হবে জুলাইয়ের মাঝামাঝি।
কি কারণে দল সংখ্যা ৪৮‑এ বাড়লো?
ফুটবলের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর জন্য; ছোট ও মধ্যম ফুটবল রাষ্ট্রগুলোকে সুযোগ দেওয়া।
বাংলাদেশের সুযোগ আছে কি?
হ্যাঁ সুযোগ রয়েছে, তবে প্রস্তুতি ও কাঠামো এখনই শক্ত করে তুলতে হবে।
ইউরোপ থেকে কত দল যাবে?
১৬টি দল সরাসরি কোটা পেয়েছে, এবং কিছু দল প্লে‑অফ পার হয়ে অংশ নিতে পারে।
ইন্টার‑কনফেডারেশন প্লে‑অফ কী?
যেসব দল সরাসরি কোটা পায়নি, তারা প্লে‑অফ রাউন্ডে অংশ নিয়ে মূল আসরে উঠার সুযোগ পায়।
For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News



