শিরোনাম

আর্সেনাল থেকে রিয়াল মাদ্রিদে জুবিমেন্ডি? জানুন আর্তেতার প্ল্যান!

আর্সেনাল থেকে রিয়াল মাদ্রিদে জুবিমেন্ডি? জানুন আর্তেতার প্ল্যান!

Table of Contents

আর্সেনাল মার্টিন জুবিমেন্ডির আর্সেনাল থেকে রিয়াল মাদ্রিদ ট্রান্সফার গুঞ্জন এবং মিকেল আর্তেতার গোপন প্ল্যান নিয়ে এক্সক্লুসিভ মেগা-রিপোর্ট। রিয়াল মাদ্রিদ কি এবার সফল হবে? গত গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতে শেষ মুহূর্তে রিয়াল মাদ্রিদের একটি অপ্রত্যাশিত হাইজ্যাক প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার মার্টিন জুবিমেন্ডিকে দলে ভিড়িয়েছিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের জায়ান্ট আর্সেনাল। তবে ২০২৬ সালের নতুন ফুটবল মৌসুমে লস ব্লাঙ্কোসরা আবারও এই ২৭ বছর বয়সী তারকাকে নিজেদের ডেরায় টানতে প্রবলভাবে ফিরে এসেছে। যদিও আর্সেনাল বস মিকেল আর্তেতা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে জুবিমেন্ডি তার দীর্ঘমেয়াদী মেগা প্রজেক্টের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তবুও ফুটবল বিশ্বে প্রতিটি খেলোয়াড়েরই একটি নির্দিষ্ট বাজারমূল্য থাকে। ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্দরমহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, স্প্যানিশ জায়ান্টরা যদি একটি বিশাল অঙ্কের মেগা প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয়, তবে এমিরেটস স্টেডিয়ামের নীতিনির্ধারকরা এই ট্রান্সফারের বিষয়টি নতুন করে মূল্যায়ন করতে বাধ্য হতে পারেন।

কেন রিয়াল মাদ্রিদ পুনরায় মার্টিন জুবিমেন্ডিকে টার্গেট করেছে?

ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের অন্যতম সফল দল রিয়াল মাদ্রিদ বরাবরই বিশ্বের সেরা প্রতিভাদের নিজেদের স্কোয়াডে যুক্ত করতে আগ্রহী থাকে, আর মার্টিন জুবিমেন্ডি বর্তমানে তাদের সেই হাই-প্রোফাইল টার্গেট লিস্টের একদম শীর্ষস্থানে অবস্থান করছেন। গত গ্রীষ্মে যখন আর্সেনাল রিয়াল সোসিয়েদাদ থেকে ৫১ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে দলে ভেড়ানোর একদম দ্বারপ্রান্তে ছিল, তখন রিয়াল মাদ্রিদের ব্যর্থ হাইজ্যাক প্রচেষ্টা ফুটবল দুনিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। রিয়াল মাদ্রিদ মূলত তিন মাস দেরিতে এই ট্রান্সফার রেসে প্রবেশ করেছিল, যখন আর্সেনাল ইতোমধ্যে খেলোয়াড়ের সাথে চুক্তি চূড়ান্ত করে ফেলেছিল। এখন এক বছর পর, কার্লো আনচেলত্তির দল তাদের মিডফিল্ডে একজন অভিজ্ঞ এবং ট্যাকটিক্যালি বুদ্ধিমান ‘নাম্বার সিক্স’-এর প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করছে। টনি ক্রুস এবং লুকা মদ্রিচের যুগের অবসান ঘটার পর স্প্যানিশ ঘরানার মিডফিল্ড কন্ট্রোলার হিসেবে জুবিমেন্ডির মতো একজন নিখুঁত ডিপ-লায়িং প্লেমেকারের শূন্যতা রিয়াল মাদ্রিদে প্রকট হয়ে উঠেছে, যা পূরণের জন্যই তারা দ্বিতীয় দফায় মাঠে নেমেছে।

ফুটবল মহলের অভ্যন্তরীণ সূত্র মতে, রিয়াল মাদ্রিদ প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ ব্যক্তিগতভাবে এই ট্রান্সফারের বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী এবং তিনি আর্সেনালের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য সবধরনের কৌশল অবলম্বন করছেন। ২৭ বছর বয়সী জুবিমেন্ডি সম্প্রতি স্পেনের হয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, যা তার আন্তর্জাতিক প্রোফাইলকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদ মনে করে যে, স্প্যানিশ জাতীয় দলের মূল মিডফিল্ডার হিসেবে জুবিমেন্ডির আসল জায়গা হওয়া উচিত সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে। ইংলিশ ফুটবলের ফিজিক্যালিটির সাথে তিনি যেভাবে মানিয়ে নিয়েছেন এবং আর্সেনালকে গত ২০ বছরেরও বেশি সময় পর লিগ জেতাতে সহায়তা করেছেন, তা মাদ্রিদের স্কাউটদের দারুণভাবে মুগ্ধ করেছে। ফলে, যেকোনো মূল্যে এই স্প্যানিশ তারকাকে দলে ভিড়িয়ে লস ব্লাঙ্কোসরা তাদের মিডফিল্ডের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে, যদিও এই পথ তাদের জন্য মোটেও সহজ হবে না।

মিকেল আর্তেতার দীর্ঘমেয়াদী মাস্টারপ্ল্যানে জুবিমেন্ডির ভূমিকা কতটুকু?

আর্সেনালের বর্তমান ম্যানেজার মিকেল আর্তেতা তার দলের কৌশলগত কাঠামোতে মার্টিন জুবিমেন্ডিকে একজন ‘কি প্লেয়ার’ বা প্রধান চাবিকাঠি হিসেবেই বিবেচনা করেন। গত মৌসুমে ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার আর্তেতার ট্যাকটিকাল সিস্টেমে নিজেকে অনবদ্যভাবে প্রমাণ করেছেন। এমিরেটস স্টেডিয়ামে পা রাখার পরপরই আর্তেতা গণমাধ্যমের সামনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেছিলেন, “মার্টিন এমন একজন খেলোয়াড় যে আমাদের দলে প্রচুর পরিমাণে গুণগত মান এবং ফুটবল বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আসবে। সে আমাদের সাথে খুব ভালোভাবে মানিয়ে নেবে এবং আমাদের জন্য একজন মূল খেলোয়াড় হওয়ার সমস্ত বৈশিষ্ট্য তার মধ্যে রয়েছে।” মূলত ডেক্লান রাইস, মার্টিন ওডেগার্ড এবং নতুন রিক্রুট ব্রুনো গুইমারেসকে নিয়ে একটি অপ্রতিরোধ্য মিডফিল্ড ডাইনামিকস তৈরির যে ছক আর্তেতা কষেছেন, তার একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জুবিমেন্ডি। তার উপস্থিতি আর্সেনালের বল পজেশন এবং ট্রানজিশনাল প্লে-তে যে মসৃণতা এনেছে, তা ক্লাবের লিগ জয়ে বিশাল অবদান রেখেছে।

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, নিজের অভিষেক মৌসুমেই জুবিমেন্ডি আর্সেনালের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মোট ৫৭টি ম্যাচ খেলেছেন, যেখানে তার নামের পাশে রয়েছে ৬টি গোল এবং ৩টি অ্যাসিস্ট। এই অসাধারণ ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে যে, তিনি আর্তেতার হাই-প্রেসিং এবং পজিশনাল প্লে-এর জন্য কতটা অপরিহার্য। আর্সেনালের স্পোর্টিং ডিরেক্টর আন্দ্রেয়া বার্তাও এই চুক্তির বিষয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, “মার্টিন আমাদের প্রধান টার্গেট ছিল এবং আমরা সবাই জানি যে তার উচ্চমানের সাথে সে আমাদের স্কোয়াডের জন্য একদম পারফেক্ট ফিট।” আর্তেতা কোনোভাবেই চান না তার তৈরি করা এই চ্যাম্পিয়নশিপ উইনিং দলের মূল ইঞ্জিন রুম ভেঙে পড়ুক। তাই রিয়াল মাদ্রিদের মতো মেগা ক্লাবের দিক থেকে যতই চাপ আসুক না কেন, স্প্যানিশ ম্যানেজারের স্পষ্ট নির্দেশ হলো, ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের স্বার্থে জুবিমেন্ডিকে যেকোনো মূল্যে এমিরেটস স্টেডিয়ামেই ধরে রাখতে হবে।

ট্রান্সফার ইস্যুবর্তমান পরিস্থিতি / তথ্য
খেলোয়াড়ের নামমার্টিন জুবিমেন্ডি (স্পেন)
বর্তমান ক্লাবআর্সেনাল এফসি (২০২৫ থেকে)
আগ্রহী ক্লাবরিয়াল মাদ্রিদ
বর্তমান চুক্তির মেয়াদজুন ২০৩০ পর্যন্ত
আর্সেনালের ট্রান্সফার ফি (দাবিকৃত)আনুমানিক ৭৭ মিলিয়ন পাউন্ড
আর্সেনালে অভিষেক মৌসুমে পারফরম্যান্স৫৭ ম্যাচ (৬ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট)
মিকেল আর্তেতার অবস্থানবিক্রয়ে অনিচ্ছুক, দলের ‘কি প্লেয়ার’

আর্সেনাল বোর্ড ও ম্যানেজমেন্টের বর্তমান ট্রান্সফার পলিসি কী বলছে?

জুবিমেন্ডিকে নিয়ে মাদ্রিদের প্রবল আগ্রহ থাকলেও, আর্সেনাল বোর্ডের বর্তমান ট্রান্সফার পলিসি এবং আর্থিক অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ়। বিগত কয়েক বছরে আর্সেনাল ট্রান্সফার মার্কেটে নিজেদের এমন এক অবস্থানে নিয়ে গেছে, যেখানে তারা আর বাধ্য হয়ে কোনো তারকা খেলোয়াড় বিক্রি করে না। আর্সেনালের ট্রান্সফার পলিসি ও রিয়ালের অবস্থান নিয়ে প্রকাশিত সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, লন্ডন ক্লাবটি যদি শেষ পর্যন্ত জুবিমেন্ডিকে বিক্রি করার কথা ভাবেও, তবে তার জন্য তাদের অন্তত ৭৭ মিলিয়ন পাউন্ডের বিশাল রিলিজ ক্লজ বা ফি দাবি করার শক্ত অবস্থান রয়েছে। যেহেতু এই স্প্যানিশ তারকার সাথে আর্সেনালের চুক্তি ২০৩০ সালের জুন মাস পর্যন্ত বহাল রয়েছে, তাই দরকষাকষির টেবিলে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে গানার্স কর্তৃপক্ষের হাতে। তারা খুব পরিষ্কারভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছে যে, ইউরোপের অন্য কোনো ক্লাবের চাপে তারা নিজেদের চ্যাম্পিয়ন স্কোয়াড দুর্বল করবে না।

তাছাড়া, আর্সেনাল সম্প্রতি তাদের স্কোয়াড থেকে লিয়েন্দ্রো ট্রোসার্ডের মতো কিছু খেলোয়াড়কে বিক্রি করে স্কোয়াড ট্রিমিং বা কাটছাঁটের কাজটি সেরে ফেলেছে, যা তাদের ফিন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে (FFP) বা প্রফিটেবিলিটি অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি রুলসের (PSR) দিক থেকেও একটি আরামদায়ক অবস্থানে রেখেছে। এর মানে হলো, শুধুমাত্র অর্থের জন্য জুবিমেন্ডিকে বিক্রি করার কোনো অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা আর্সেনালের নেই। ক্লাবের শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করেন যে, নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে ব্রুনো গুইমারেসের সাম্প্রতিক আগমনের ফলে মিডফিল্ডে হয়তো কিছুটা রদবদল হতে পারে, কিন্তু সেটি জুবিমেন্ডিকে জোর করে বের করে দেওয়ার কোনো কারণ হতে পারে না। বরং, আর্সেনাল বোর্ড স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে তাদের ড্রেসিংরুমের একজন অপরিহার্য লিডার হিসেবেই গণ্য করছে, যাকে ঘিরেই আগামী দিনের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্ন বুনছেন ক্লাব কর্তারা।

রিয়াল মাদ্রিদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও ট্রান্সফার প্রক্রিয়ায় এর প্রভাব কতটা?

বাইরে থেকে রিয়াল মাদ্রিদকে এই ট্রান্সফারের জন্য মরিয়া মনে হলেও, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর অন্দরমহলে মার্টিন জুবিমেন্ডিকে দলে ভেড়ানো নিয়ে কিছু গভীর মতবিরোধ এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব রয়েছে। স্প্যানিশ ফুটবলের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে, রিয়াল মাদ্রিদের সমস্ত সিনিয়র কর্মকর্তা এবং বোর্ড মেম্বাররা জুবিমেন্ডিকে সই করানোর ধারণার সাথে একমত নন। ক্লাবের একাংশ মনে করে যে, ২৭ বছর বয়সী একজন মিডফিল্ডারের জন্য ৭৭ মিলিয়ন পাউন্ড বা তার চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করা ক্লাবের গ্যালাকটিকো পলিসির সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, বিশেষ করে যখন দলে জুড বেলিংহাম, ফেদেরিকো ভালভার্দে, এবং অহেলিয়া চুয়ামেনির মতো তরুণ ও প্রতিভাবান মিডফিল্ডাররা ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত। এই নীতিগত পার্থক্যের কারণেই গত বছর আর্সেনাল যখন রিয়াল সোসিয়েদাদের সাথে ডিল চূড়ান্ত করে ফেলেছিল, তখন রিয়াল মাদ্রিদ তিন মাস পর ঘুম থেকে জেগে এই ট্রান্সফার রেসে অংশ নিয়েছিল।

এই প্রাতিষ্ঠানিক দ্বিধাদ্বন্দ্ব রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান ট্রান্সফার অ্যাপ্রোচকে কিছুটা ধীরগতির এবং অস্পষ্ট করে তুলেছে। একদিকে প্রেসিডেন্ট পেরেজ স্প্যানিশ জাতীয় দলের একজন আইকনকে ক্লাবে দেখতে চান, অন্যদিকে টেকনিক্যাল ডিরেক্টররা বয়সের বিষয়টি বিবেচনা করে এত বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এই অভ্যন্তরীণ মতানৈক্য আর্সেনালকে একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা প্রদান করছে। মাদ্রিদের এই দোদুল্যমান অবস্থা যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে আর্সেনাল খুব সহজেই জুবিমেন্ডিকে ক্লাবে ধরে রাখার ব্যাপারে আরও কনফিডেন্ট হতে পারবে। ট্রান্সফার মার্কেটের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যতক্ষণ না রিয়াল মাদ্রিদ বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে একটি আনুষ্ঠানিক এবং বিশাল অঙ্কের বিড তৈরি করতে পারছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই ট্রান্সফারটি বাস্তবে রূপ নেওয়ার চেয়ে পত্রিকার পাতায় গুঞ্জন হিসেবেই বেশি সীমাবদ্ধ থাকবে।

মার্টিন জুবিমেন্ডি নিজে এই ট্রান্সফার গুঞ্জন নিয়ে কী ভাবছেন?

যেকোনো হাই-প্রোফাইল ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত ইচ্ছাই সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়ায়, আর মার্টিন জুবিমেন্ডির ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। আর্সেনালে যোগ দেওয়ার পর তিনি স্পষ্টভাবে নিজের সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেছিলেন, “এটি আমার ক্যারিয়ারের একটি বিশাল মুহূর্ত। এটি এমন একটি পদক্ষেপ ছিল যা আমি খুঁজছিলাম এবং করতে চেয়েছিলাম। আপনি এখানে পা রাখলেই বুঝতে পারবেন যে এই ক্লাব এবং এই দলটি কত বড়।” সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে আর্সেনালের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয় এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানোর পর তিনি লন্ডনের জীবন এবং মিকেল আর্তেতার প্রজেক্টের সাথে দারুণভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন। রিয়াল মাদ্রিদের ট্রান্সফার গুঞ্জন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি বরাবরই আর্সেনালের প্রতি নিজের পূর্ণ মনোযোগ ও প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠে স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের জন্য রিয়াল মাদ্রিদের জার্সির আবেদন সবসময়ই এক অদম্য মানসিক প্রলোভন তৈরি করে। জুবিমেন্ডি একজন স্প্যানিয়ার্ড হিসেবে জানেন যে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে খেলা এবং সেখানে কিংবদন্তি হওয়া যেকোনো ফুটবলারের জন্য সর্বোচ্চ সম্মানের বিষয়। বর্তমানে তিনি একটি মোড়কে দাঁড়িয়ে আছেন—একদিকে রয়েছে আর্সেনালে তার নিশ্চিত জায়গা, কোচের অগাধ বিশ্বাস এবং একটি বিজয়ী স্কোয়াডের সদস্য হওয়ার আরাম; অন্যদিকে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের মতো বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে গ্ল্যামারাস ক্লাবের ঐতিহাসিক ডাক। যদিও তিনি এই মুহূর্তে প্রকাশ্যে ক্লাব ছাড়ার কোনো ইচ্ছে প্রকাশ করেননি, তবে ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, যদি রিয়াল মাদ্রিদ আনুষ্ঠানিকভাবে আর্সেনালের সাথে ফিতে রফা করতে পারে, তবে জুবিমেন্ডির জন্য সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়াটা মানসিকভাবে অত্যন্ত কঠিন একটি সিদ্ধান্ত হবে।

FAQ

১. মার্টিন জুবিমেন্ডির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ কতদিন?

মার্টিন জুবিমেন্ডি আর্সেনালের সাথে একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে আবদ্ধ রয়েছেন, যার মেয়াদ ২০৩০ সালের জুন মাস পর্যন্ত। এই দীর্ঘ চুক্তির কারণেই আর্সেনাল তার ট্রান্সফার নিয়ে দরকষাকষিতে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

২. আর্সেনাল জুবিমেন্ডির জন্য কত টাকা ট্রান্সফার ফি নির্ধারণ করেছে?

বিভিন্ন বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, আর্সেনাল তাদের এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে বিক্রি করার জন্য ন্যূনতম ৭৭ মিলিয়ন পাউন্ড ট্রান্সফার ফি নির্ধারণ করেছে বলে জানা গেছে।

৩. রিয়াল মাদ্রিদ কেন জুবিমেন্ডিকে দলে নিতে আগ্রহী?

টনি ক্রুস এবং লুকা মদ্রিচের যুগের অবসানের পর রিয়াল মাদ্রিদ তাদের মিডফিল্ডে একজন অভিজ্ঞ এবং ট্যাকটিক্যালি বুদ্ধিমান ডিপ-লায়িং প্লেমেকার খুঁজছে। স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা তাদের সেই শূন্যতা পূরণের জন্য আদর্শ বিকল্প।

৪. গত মৌসুমে জুবিমেন্ডি আর্সেনালের হয়ে কেমন পারফর্ম করেছেন?

অভিষেক মৌসুমে তিনি আর্সেনালের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মোট ৫৭টি ম্যাচ খেলেছেন। এর মধ্যে তিনি ৬টি গোল করেছেন এবং ৩টি অ্যাসিস্ট প্রদান করেছেন, যা দলের প্রিমিয়ার লিগ জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

৫. মিকেল আর্তেতা জুবিমেন্ডিকে নিয়ে কী পরিকল্পনা করেছেন?

আর্সেনাল ম্যানেজার মিকেল আর্তেতা জুবিমেন্ডিকে তার স্কোয়াডের অন্যতম প্রধান বা ‘কি প্লেয়ার’ হিসেবে বিবেচনা করেন। তিনি রাইস এবং ওডেগার্ডের সাথে তাকে মিলিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং অপ্রতিরোধ্য মিডফিল্ড তৈরি করেছেন।

৬. জুবিমেন্ডি কি রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিতে ইচ্ছুক?

জুবিমেন্ডি প্রকাশ্যে আর্সেনালে থাকার ব্যাপারে নিজের সন্তুষ্টি জানিয়েছেন। তবে স্প্যানিশ খেলোয়াড় হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদের ডাক উপেক্ষা করা যেকোনো ফুটবলারের জন্যই কঠিন, তাই আনুষ্ঠানিকভাবে বিশাল প্রস্তাব এলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।

JitaBet ,  JitaWin , এবং  JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন,   তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায় যে, মার্টিন জুবিমেন্ডিকে কেন্দ্র করে আর্সেনাল এবং রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যে চলমান এই ট্রান্সফার স্নায়ুযুদ্ধ আধুনিক ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় একটি সাবপ্লটে পরিণত হয়েছে। গত বছর রিয়াল সোসিয়েদাদ থেকে ৫১ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে তাকে এমিরেটস স্টেডিয়ামে নিয়ে আসার মাধ্যমে আর্সেনাল প্রমাণ করেছিল যে, তারা ট্রান্সফার মার্কেটে যেকোনো ইউরোপিয়ান জায়ান্টের সাথে লড়াই করতে প্রস্তুত। অভিষেক মৌসুমেই ৫৭ ম্যাচ খেলে, ৬ গোল করে এবং সর্বোপরি দীর্ঘ ২০ বছরের খরা কাটিয়ে দলকে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতাতে সাহায্য করে জুবিমেন্ডি প্রমাণ করেছেন যে, মিকেল আর্তেতা তাকে নিয়ে যে মেগা প্ল্যান সাজিয়েছিলেন, তা শতভাগ সফল। স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার এখন আর্সেনালের ট্যাকটিকাল সিস্টেমের অন্যতম প্রধান ধমনী, যাকে কোনোভাবেই হারাতে চাইবে না লন্ডনের ক্লাবটি।

অন্যদিকে, ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ তাদের প্রথম দফার ব্যর্থতার পর দ্বিতীয়বারের মতো এই স্প্যানিশ বিশ্বকাপজয়ী তারকাকে দলে পেতে মরিয়া। যদিও সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ভেতরে তাকে দলে ভেড়ানো নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুটা মতানৈক্য রয়েছে, তবুও ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের অদম্য জেদ এবং স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের কাছে মাদ্রিদের ঐতিহাসিক আবেদন যেকোনো মুহূর্তে এই ট্রান্সফারের দৃশ্যপট বদলে দিতে পারে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ থাকা জুবিমেন্ডির জন্য আর্সেনালের ৭৭ মিলিয়ন পাউন্ডের বিশাল মূল্য নির্ধারণ বুঝিয়ে দেয় যে, বল এখন সম্পূর্ণরূপে গানার্সদের কোর্টে। আগামী দিনগুলোতে রিয়াল মাদ্রিদ যদি সত্যিই এই বিশাল অঙ্কের প্রস্তাব নিয়ে টেবিলে আসে, তবে ফুটবল বিশ্ব হয়তো আরেকটি মেগা ট্রান্সফার ড্রামার সাক্ষী হতে চলেছে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মিকেল আর্তেতার মাস্টারপ্ল্যান এবং আর্সেনালের অনড় অবস্থানই এই মুহূর্তে স্প্যানিশ তারকার ভবিষ্যৎকে এমিরেটস স্টেডিয়ামেই সুরক্ষিত রাখছে।

For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News