শিরোনাম

রিয়াল মাদ্রিদ ট্রান্সফার ২০২৬: রেকর্ড দামে দিওমান্দে!

রিয়াল মাদ্রিদ ট্রান্সফার ২০২৬: রেকর্ড দামে দিওমান্দে!

Table of Contents

রিয়াল মাদ্রিদ ১২০ মিলিয়ন পাউন্ডের রেকর্ড চুক্তিতে আরবি লাইপজিগ থেকে ১৯ বছর বয়সী আইভরি কোস্টের উইঙ্গার ইয়ান দিওমান্দেকে সই করিয়েছে। দলবদলের বিস্তারিত জানুন। স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ ১২০ মিলিয়ন পাউন্ড (১৪০ মিলিয়ন ইউরো) চুক্তিতে আরবি লাইপজিগ থেকে আইভরি কোস্টের ১৯ বছর বয়সী তরুণ সেনসেশন ইয়ান দিওমান্দেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে ভিড়িয়েছে। সাত বছরের এই দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির মাধ্যমে দিওমান্দে ফুটবল ইতিহাসের চতুর্থ এবং আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসে সর্বকালের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়লেন। পিএসজি এবং লিভারপুলের মতো হেভিওয়েট ক্লাবগুলোকে পেছনে ফেলে রিয়াল মাদ্রিদের ঐতিহাসিক চুক্তিটি ইউরোপিয়ান ফুটবলের দলবদলের বাজারে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।

কেন রিয়াল মাদ্রিদ ১২০ মিলিয়ন পাউন্ডে ইয়ান দিওমান্দেকে সই করালো?

রিয়াল মাদ্রিদের ট্রান্সফার মার্কেট কৌশল বরাবরই বিশ্বসেরা প্রতিভাদের দলে ভেড়ানোর ওপর নির্ভরশীল, এবং ইয়ান দিওমান্দের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মাত্র ১৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গারকে দলে ভেড়াতে লস ব্লাঙ্কোসরা ১২০ মিলিয়ন পাউন্ড বা ১৪০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করতে দ্বিধা করেনি। এই বিশাল অঙ্কের ট্রান্সফার ফি ২০২৩ সালের জুনে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে জুড বেলিংহ্যামকে দলে ভেড়াতে খরচ করা ১১৫ মিলিয়ন পাউন্ডের (১৩৩.৯ মিলিয়ন ইউরো) রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিয়াল মাদ্রিদ ম্যানেজমেন্ট বিশ্বাস করে যে, দিওমান্দে তার ক্যারিয়ারের শীর্ষ ফর্মে পৌঁছানোর আগেই তাকে সুরক্ষিত করা ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্লাবের রাইট-উইং পজিশনে ধারাবাহিকতার যে অভাব ছিল, দিওমান্দের অন্তর্ভুক্তি সেই শূন্যস্থান পূরণে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।

আরবি লাইপজিগে তার অসাধারণ পারফরম্যান্সই মূলত এই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম দামি চুক্তির মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। ইউরোপে তার প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তিনি ১৩টি গোল এবং ১০টি অ্যাসিস্ট করেছেন, যা একজন তরুণের জন্য অত্যন্ত বিরল অর্জন। শুধুমাত্র বুন্দেসলিগাতেই ১২টি গোল এবং ৮টি অ্যাসিস্ট করে তিনি ২০২৫-২৬ মৌসুমের বুন্দেসলিগার ‘ইয়ং প্লেয়ার অব দ্য সিজন’ বা বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড়ের খেতাব জয় করেছেন। তার বিস্ফোরক গতি, নির্ভুল ড্রিবলিং, অসাধারণ সৃজনশীলতা এবং প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ভয়ংকর আক্রমণাত্মক প্রভাব তাকে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রতিভাবান খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে। মাদ্রিদের মতো বিশ্বমানের দলে তিনি তার এই দক্ষতাগুলোকে আরও শানিত করার সুযোগ পাবেন।

পিএসজি এবং লিভারপুলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দিওমান্দে কেন মাদ্রিদকে বেছে নিলেন?

ইয়ান দিওমান্দেকে দলে ভেড়াতে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর মধ্যে রীতিমতো এক অদৃশ্য যুদ্ধ চলছিল। ফ্রেঞ্চ চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি) এই তরুণকে দলে পেতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ছিল এবং গত রোববার তারা ১০২.৫ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি বিশাল প্রস্তাবও দিয়েছিল। কিন্তু আরবি লাইপজিগ সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করায় পিএসজি এই দৌড় থেকে সরে দাঁড়ায়। এর আগে, গত জুনে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের জায়ান্ট লিভারপুল ৬৯ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি প্রাথমিক প্রস্তাব দিয়েছিল, যা লাইপজিগ খারিজ করে দেয়। লিভারপুল মূলত তাদের কিংবদন্তি খেলোয়াড় মোহাম্মদ সালাহর বিকল্প খুঁজছিল, যিনি গত বৃহস্পতিবার তুরস্কের ক্লাব ত্রাবজোনস্পোরে যোগ দিয়েছেন। এতসব লোভনীয় প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও, দিওমান্দে তার স্বপ্নের ক্লাব হিসেবে স্পেনের রাজধানীকেই বেছে নেন।

মাদ্রিদে যোগদানের পর এক আবেগঘন বিবৃতিতে দিওমান্দে লাইপজিগ ভক্তদের তাদের “অবিশ্বাস্য সমর্থনের” জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “কে জানে? হয়তো একদিন চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আমাদের আবার দেখা হবে।” রিয়াল মাদ্রিদে নিজের দলবদল সম্পর্কে তিনি বলেন, “এটি আমার জন্য একটি শৈশবের স্বপ্ন পূরণ হওয়ার মতো ঘটনা। আমার বর্তমান চুক্তি থাকা সত্ত্বেও এই দলবদল সম্ভব করার জন্য আমি আরবি লাইপজিগ ম্যানেজমেন্টের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।” খেলোয়াড়দের জন্য সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর আকর্ষণ সবসময়ই আলাদা, আর দিওমান্দের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মাদ্রিদের জাদুকরী পরিবেশ এবং বিশ্বফুটবলে তাদের আধিপত্য তাকে পিএসজি বা লিভারপুলের মতো ক্লাবের চেয়ে মাদ্রিদকেই নিজের ভবিষ্যতের জন্য সেরা বিকল্প হিসেবে ভাবতে বাধ্য করেছে।

একনজরে ইয়ান দিওমান্দের ট্রান্সফার ডিল (At a Glance Summary)

ক্যাটাগরিবিস্তারিত তথ্য
খেলোয়াড়ের নামইয়ান দিওমান্দে (Yan Diomande)
বয়স ও পজিশন১৯ বছর, উইঙ্গার
পূর্ববর্তী ক্লাবআরবি লাইপজিগ (RB Leipzig)
নতুন ক্লাবরিয়াল মাদ্রিদ (Real Madrid)
ট্রান্সফার ফি১২০ মিলিয়ন পাউন্ড (১৪০ মিলিয়ন ইউরো)
চুক্তির মেয়াদ৭ বছর
জাতীয় দলআইভরি কোস্ট (Ivory Coast)

আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসে এই চুক্তিটি কীভাবে নতুন মাইলফলক স্থাপন করল?

ইয়ান দিওমান্দের এই দলবদল শুধুমাত্র রিয়াল মাদ্রিদের জন্যই নয়, বরং সমগ্র আফ্রিকান ফুটবলের জন্যও এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। ১২০ মিলিয়ন পাউন্ডের এই ট্রান্সফারের মাধ্যমে দিওমান্দে আফ্রিকান ফুটবলের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ট্রান্সফার-এর রেকর্ড ভেঙেছেন। এর আগে ২০১৯ সালে আইভরি কোস্টের আরেক তারকা নিকোলাস পেপেকে দলে ভেড়াতে ফরাসি ক্লাব লিলকে ৭২ মিলিয়ন পাউন্ড পরিশোধ করেছিল আর্সেনাল। দিওমান্দের এই চুক্তি বিশ্বজুড়ে আফ্রিকান প্রতিভাদের ক্রমবর্ধমান আর্থিক মূল্য এবং ফুটবল মাঠে তাদের অপরিহার্যতাকে নতুন করে প্রমাণ করেছে। শুধু আফ্রিকান হিসেবেই নয়, রিয়াল মাদ্রিদ যদি সম্পূর্ণ ১২০ মিলিয়ন পাউন্ড পরিশোধ করে, তবে তিনি ফুটবল ইতিহাসের চতুর্থ সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হয়ে উঠবেন, যার সামনে থাকবেন কেবল পিএসজির নেইমার ও কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং লিভারপুলের স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার ইসাক (যিনি নিউক্যাসল থেকে লিভারপুলে যোগ দিয়েছিলেন)।

আন্তর্জাতিক স্তরেও দিওমান্দে নিজের জাত চিনিয়েছেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আইভরি কোস্ট জাতীয় দলের হয়ে তিনি আলো ছড়িয়েছেন। টুর্নামেন্টে আইভরি কোস্টের খেলা চারটি ম্যাচের প্রতিটিতেই তিনি মাঠে উপস্থিত ছিলেন এবং দলের আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। যদিও রাউন্ড অব ৩২-এ নরওয়ের কাছে হেরে আইভরি কোস্টকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল, তবুও দিওমান্দের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য সারা বিশ্বের স্কাউটদের নজর কেড়েছিল। বিশ্বমঞ্চে তার সেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই মূলত তার বাজারমূল্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবকে এত বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করে। আফ্রিকান তরুণ ফুটবলারদের কাছে দিওমান্দে এখন এক জ্বলন্ত অনুপ্রেরণার নাম।

হোসে মরিনহোর অধীনে রিয়াল মাদ্রিদের কৌশলগত পরিকল্পনায় দিওমান্দের ভূমিকা কী হবে?

রিয়াল মাদ্রিদের নতুন হেড কোচ হোসে মরিনহো তার দ্বিতীয় মেয়াদে স্প্যানিশ রাজধানীতে এক নতুন গ্যালাকটিকো নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন এবং ইয়ান দিওমান্দে সেই পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান অস্ত্র। এই গ্রীষ্মের দলবদলে মরিনহোর অধীনে দিওমান্দে হলেন ষষ্ঠ সাইনিং। এর আগে ক্লাবটি বার্নার্ডো সিলভা, ইব্রাহিমা কোনাতে, ডেনজেল ডামফ্রিস, মার্ক কুকুরেল্লা এবং কার্লোস এসপি-র মতো হেভিওয়েট তারকাদের দলে ভিড়িয়েছে। মরিনহোর কৌশলগত ফর্মেশনে উইঙ্গারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যারা গতি এবং টেকনিক দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ তছনছ করতে পারে। রাইট উইংয়ে দিওমান্দের অন্তর্ভুক্তি মাদ্রিদের আক্রমণভাগকে আরও বেশি ধারালো এবং বৈচিত্র্যময় করে তুলবে, যা গত কয়েক মৌসুমে কিছুটা অস্থিতিশীল ছিল।

কৌশলগত দিক থেকে দিওমান্দের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হলো তার অবিশ্বাস্য বহুমুখিতা বা ভার্সেটালিটি। তিনি মাঠের উভয় প্রান্তেই সমান দক্ষতায় খেলতে পারেন। বাম প্রান্ত থেকে তিনি ডান পায়ে বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে সরাসরি গোলের জন্য শট নিতে পারেন, আবার ডান প্রান্ত থেকে নিজের বিস্ফোরক গতি ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করে সতীর্থদের জন্য নিখুঁত ক্রস সরবরাহ করতে পারেন। আরবি লাইপজিগে রাইট-ব্যাক রিডল বাকুর সাথে তিনি যেমন একটি শক্তিশালী জুটি গড়ে তুলেছিলেন, ঠিক একইভাবে রিয়াল মাদ্রিদে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড এবং কুকুরেল্লার মতো সৃজনশীল ও অভিজ্ঞ ফুল-ব্যাকদের সাথে তার বোঝাপড়া মাদ্রিদের আক্রমণাত্মক মাত্রাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। মরিনহোর প্রতিআক্রমণ নির্ভর ফুটবলে দিওমান্দে হয়ে উঠতে পারেন সবচেয়ে ভয়ংকর ট্রাম্পকার্ড।

অবিশ্বাস্য এই উত্থানের পেছনে ইয়ান দিওমান্দের ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রেক্ষাপট কেমন ছিল?

ফুটবল বিশ্বে ইয়ান দিওমান্দের উত্থান ঠিক যেন রূপকথার মতো। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাবে জায়গা করে নিয়েছেন, কিন্তু তার এই যাত্রাপথটি ছিল অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় এবং দ্রুতগামী। তিনি তার নিজ দেশ আইভরি কোস্ট থেকে ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করার পর প্রথমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি একাডেমিতে যোগ দেন, যেখানে তার প্রাথমিক ফুটবলের ভিত গড়ে ওঠে। এরপর ২০২৫ সালে স্প্যানিশ ক্লাব লেগানেসের হয়ে তিনি ইউরোপিয়ান ফুটবলে পা রাখেন। লেগানেসে তার অসাধারণ নৈপুণ্য ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজর কাড়তে সময় নেয়নি। একই বছরের শেষের দিকে জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগ তাকে দলে ভিড়িয়ে নেয়। একটিমাত্র ক্যালেন্ডার ইয়ারের মধ্যে এই বিশাল ভৌগলিক এবং পেশাদার ফুটবলের স্তরে পরিবর্তন প্রমাণ করে যে তার মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং মানসিক দৃঢ়তা কতটা প্রবল।

স্কাউটিং নেটওয়ার্কের প্রশংসা করতেই হয়, যারা দিওমান্দের মতো একটি রত্নকে এত দ্রুত সময়ের মধ্যে ইউরোপের মূল মঞ্চে তুলে এনেছে। রিয়াল মাদ্রিদের ১২০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিশাল বিনিয়োগ শুধুমাত্র তার বর্তমান পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং আগামী এক দশকে তার সম্ভাব্য প্রভাবের কথা মাথায় রেখেই করা হয়েছে। এক বছর আগেও যিনি স্পেনের একটি ছোট ক্লাবে খেলছিলেন, আজ তিনি সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সবুজ গালিচায় আলো ছড়ানোর অপেক্ষায়। ইউরোপিয়ান ফুটবলে তার প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌসুমেই বুন্দেসলিগার সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়া প্রমাণ করে যে, তিনি ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরে নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মাদ্রিদ ম্যানেজমেন্ট বিশ্বাস করে, তার এই উল্কাগতির উত্থান কোনো ফ্লুক নয়, বরং এটি বিশ্ব ফুটবলের পরবর্তী সুপারস্টার হওয়ার প্রাথমিক ধাপ মাত্র।

FAQ

১. ইয়ান দিওমান্দের ট্রান্সফার ফি কত?

রিয়াল মাদ্রিদ ইয়ান দিওমান্দেকে দলে ভেড়াতে আরবি লাইপজিগের সাথে ১২০ মিলিয়ন পাউন্ড বা ১৪০ মিলিয়ন ইউরোর বিশাল চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

২. দিওমান্দে কার রেকর্ড ভেঙে সবচেয়ে দামি আফ্রিকান খেলোয়াড় হয়েছেন?

তিনি আইভরি কোস্টের জাতীয় দলের সতীর্থ নিকোলাস পেপের রেকর্ড ভেঙেছেন, যাকে আর্সেনাল ২০১৯ সালে লিল থেকে ৭২ মিলিয়ন পাউন্ডে কিনেছিল।

৩. লিভারপুল কেন ইয়ান দিওমান্দেকে দলে ভেড়াতে চেয়েছিল?

লিভারপুলের তারকা খেলোয়াড় মোহাম্মদ সালাহ তুর্কি ক্লাব ত্রাবজোনস্পোরে যোগ দেওয়ায়, লিভারপুল তার আদর্শ বিকল্প হিসেবে ৬৯ মিলিয়ন পাউন্ডে দিওমান্দেকে কিনতে চেয়েছিল।

৪. আরবি লাইপজিগে দিওমান্দের গত মৌসুমের পরিসংখ্যান কেমন ছিল?

গত মৌসুমে দিওমান্দে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৩টি গোল এবং ১০টি অ্যাসিস্ট করেছেন। শুধু বুন্দেসলিগাতেই তিনি ১২টি গোল ও ৮টি অ্যাসিস্ট করে বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।

৫. রিয়াল মাদ্রিদে হোসে মরিনহোর অধীনে দিওমান্দে কততম সাইনিং?

এই গ্রীষ্মের দলবদলে রিয়াল মাদ্রিদের নতুন হেড কোচ হোসে মরিনহোর অধীনে ইয়ান দিওমান্দে হলেন ক্লাবের ষষ্ঠ নতুন মুখ।

৬. ইয়ান দিওমান্দের ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরুটা কোথায় হয়েছিল?

আইভরি কোস্টে জন্ম নেওয়া দিওমান্দে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি একাডেমিতে ফুটবলের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নেন, এরপর ২০২৫ সালে তিনি স্পেনের লেগানেসে যোগ দেন।

JitaBet ,  JitaWin , এবং  JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন,   তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!

উপসংহার

ইয়ান দিওমান্দেকে ১২০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে রিয়াল মাদ্রিদে নিয়ে আসার ঘটনাটি ইউরোপিয়ান ফুটবলের দলবদলের বাজারে একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এই চুক্তিটি শুধু টাকার অঙ্কের জন্য নয়, বরং একটি ক্লাবের সুদূরপ্রসারী ক্রীড়া দর্শনের নিখুঁত প্রতিফলন। ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের রিয়াল মাদ্রিদ বরাবরই গ্যালাকটিকো মডেলে বিশ্বাসী, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা শীর্ষ প্রতিভাদের ক্যারিয়ারের চূড়ায় পৌঁছানোর আগেই দলে ভেড়ানোর যে কৌশল নিয়েছে, দিওমান্দে তার সর্বশেষ এবং অন্যতম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। হোসে মরিনহোর মতো একজন ট্যাকটিক্যাল মাস্টারের অধীনে দিওমান্দে তার আক্রমণাত্মক বহুমুখিতা, ড্রিবলিং দক্ষতা এবং গোল করার অবিশ্বাস্য ক্ষমতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড এবং মার্ক কুকুরেল্লার মতো বিশ্বমানের ফুল-ব্যাকদের সাথে দিওমান্দের অন-ফিল্ড কেমিস্ট্রি রিয়াল মাদ্রিদের রাইট-উইংকে এক অভেদ্য দুর্গে পরিণত করবে বলে ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন। পিএসজি এবং লিভারপুলের মতো হেভিওয়েট ক্লাবগুলোকে নিরাশ করে দিওমান্দের মাদ্রিদকে বেছে নেওয়া প্রমাণ করে যে, ঐতিহ্য এবং আভিজাত্যের দিক দিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ আজও খেলোয়াড়দের কাছে এক নম্বরে অবস্থান করছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং বুন্দেসলিগায় বর্ষসেরা তরুণের খেতাব জয়ের পর, দিওমান্দের সামনে এখন সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর বিশাল প্রত্যাশার চাপ সামলে নিজেকে প্রমাণ করার কঠিন চ্যালেঞ্জ। যদি তিনি এই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারেন, তবে ১২০ মিলিয়ন পাউন্ডের এই বিশাল বিনিয়োগ রিয়াল মাদ্রিদের জন্য আগামী এক দশকের সেরা সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রমাণিত হবে, এবং ইয়ান দিওমান্দে হয়ে উঠবেন বিশ্ব ফুটবলের নতুন অবিসংবাদিত সম্রাট।

For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News