শিরোনাম

দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াড ২০২৬: সনের নেতৃত্ব ও চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দল!

দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াড ২০২৬: সনের নেতৃত্ব ও চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দল!

Table of Contents

ফিফা বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা। সন হিউং-মিনের শেষ বিশ্বকাপ ও হং মিয়ুং-বোর কৌশলে গ্রুপ ‘এ’ জয়ের লক্ষ্যে ‘তায়েগুক ওয়ারিয়র্স’। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জন্য এশিয়ার অন্যতম সফল ফুটবল পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়া তাদের ২৬ সদস্যের শক্তিশালী চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। জাতীয় দলের প্রধান কোচ হং মিয়ুং-বো ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা তারকা এবং ঘরোয়া কে-লিগের সেরা পারফর্মারদের সমন্বয়ে এই ভারসাম্যপূর্ণ দল সাজিয়েছেন। দলের দীর্ঘদিনের অধিনায়ক এবং টটেনহ্যাম হটস্পার ছেড়ে বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি (LAFC)-তে যোগ দেওয়া কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড সন হিউং-মিন তাঁর ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ আসরে দলটির আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দেবেন। বায়ার্ন মিউনিখের ডিফেন্স প্রাচীর কিম মিন-জে এবং প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (PSG) মাঝমাঠের জাদুকর লি কাং-ইনের উপস্থিতিতে এই স্কোয়াডটি গ্রুপ ‘এ’-তে মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা ও চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়তে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

কেন এই বিশ্বকাপ স্কোয়াড দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময়?

দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল ইতিহাসে এই স্কোয়াডটিকে অন্যতম সেরা ‘স্বর্ণালী প্রজন্ম’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে, কারণ এর প্রতিটি বিভাগে বিশ্বমানের প্রতিভার অবিশ্বাস্য উপস্থিতি রয়েছে। এশিয়ান অঞ্চলের বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে (১১টি জয় ও ৫টি ড্র) রেকর্ড ৪0টি গোল করার দুর্দান্ত পরিসংখ্যান নিয়েই মূল টুর্নামেন্টে পা রাখছে ‘তায়েগুক ওয়ারিয়র্স’। প্রধান কোচ হং মিয়ুং-বো, যিনি ২০০২ সালের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপে দলটির কিংবদন্তি অধিনায়ক ছিলেন, খেলোয়াড়দের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিবেচনা করে এই চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করেছেন। কলোরাডো ও ইউটাতে অনুষ্ঠিত শেষ প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোকে ৫-০ এবং এল সালভাদরকে ১-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তারা তাদের বর্তমান বিধ্বংসী ফর্মের প্রমাণ দিয়েছে।

এই স্কোয়াডের ঐতিহাসিক তাৎপর্য হলো, এটি অধিনায়ক সন হিউং-মিনের ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ, যা পুরো দলকে এক আবেগঘন ও সর্বোচ্চ উজাড় করে খেলার বাড়তি প্রেরণা জোগাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংবাদমাধ্যম The Guardian তাদের বিশেষ ফুটবল বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছে যে, কোরিয়ার বর্তমান স্কোয়াডটি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে গতি ও পজিশনাল ফুটবলে অনেক বেশি নিখুঁত। গত কাতার বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে খেলার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার তারা ২০০২ সালের সেমিফাইনালের রূপকথাকে নতুন করে স্পর্শ করতে চায়। ঘরের মাঠের মতো কন্ডিশন না পেলেও উত্তর আমেরিকার কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে তারা দীর্ঘ সময় ধরে বিশেষ ক্যাম্প পরিচালনা করেছে।

কারা থাকছেন কোরিয়ান ডিফেন্সের মূল প্রাচীর ও গোলপোস্টের দায়িত্বে?

দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণভাগকে এই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা এবং নিখুঁত ডিফেন্স লাইন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যার মূল কাণ্ডারি বায়ার্ন মিউনিখের তারকা ডিফেন্ডার কিম মিন-জে। মিন-জেকে ফুটবল বিশ্বে “দ্য মনস্টার” বা দৈত্য নামে ডাকা হয়, যার শারীরিক সক্ষমতা এবং ডিলিং ট্যাকটিক্স বিশ্বের যেকোনো আক্রমণভাগকে স্তব্ধ করতে সক্ষম। তাঁর সাথে রক্ষণভাগে থাকছেন রেড স্টার বেলগ্রেডের সিওল ইয়ং-উ এবং বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখের তরুণ ডিফেন্ডার জেনস কাস্ট্রপ, যিনি ইউরোপীয় ফুটবলে সদ্য আলোড়ন তৈরি করেছেন। গ্যাংওন এফসির হয়ে ঘরোয়া লিগে দুর্দান্ত পারফর্ম করার পর অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার লি গি-হিউককে পুনরায় দলে ফিরিয়ে আনা কোচ মিয়ুং-বোর একটি চতুর সিদ্ধান্ত।

গোলপোস্টের নিচে প্রধান গোলরক্ষক হিসেবে এক নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামবেন অভিজ্ঞ কিম সেউং-গিউ, যিনি জাপানি ক্লাব এফসি টোকিওর হয়ে খেলছেন। সেউং-গিউর ব্যাকআপ হিসেবে দলে রয়েছেন উলসান এইচডি-র জো হিয়ন-উ এবং জেওনবুকের সং বুম-কেউন, যা কোরিয়ার গোলকিপিং পজিশনকে অত্যন্ত নিরাপদ করেছে। বৈশ্বিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা FIFA তাদের স্কোয়াড উন্মোচন রিপোর্টে দক্ষিণ কোরিয়ার এই ব্যাকলাইনকে ট্যাকটিক্যালি গোছানো এবং এশিয়ার সবচেয়ে কম গোল হজম করা ডিফেন্স লাইন হিসেবে রেট করেছে। কিম মিন-জের আকাশছোঁয়া আত্মবিশ্বাস পুরো দলকে রক্ষণাত্মক দিক থেকে এক বিশাল মানসিক শক্তি জোগাচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার স্কোয়াড একনজরে

পজিশনমূল খেলোয়াড়দের নামক্লাব/প্রতিনিধিত্ববিশেষ মন্তব্য
গোলরক্ষককিম সেউং-গিউ, জো হিয়ন-উ, সং বুম-কেউনএফসি টোকিও, উলসান এইচডিঅভিজ্ঞ সেউং-গিউর ওপর মূল ভরসা
ডিফেন্ডারকিম মিন-জে, জেনস কাস্ট্রপ, সিওল ইয়ং-উ, লি গি-হিউকবায়ার্ন মিউনিখ, গ্যাংওন এফসি‘মনস্টার’ মিন-জের নেতৃত্বে ডিফেন্স
মিডফিল্ডারলি কাং-ইন, 황인범 (হওয়াং ইন-বিওম), পে জুন-হো, বায়েক সেউং-হোপিএসজি, ফেইনুর্ড, স্টোক সিটিলি কাং-ইনের ক্রিয়েটিভ প্লে-মেকিং
ফরোয়ার্ডসন হিউং-মিন, হওয়াং হি-চ্যান, ওহ হিয়ন-গিউ, চো গুয়ে-সুংলস অ্যাঞ্জেলেস এফসি, উলভসসনের নেতৃত্ব ও আক্রমণভাগের ধার

মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগে কি বড় কোনো চমক রয়েছে?

দক্ষিণ কোরিয়ার আক্রমণভাগ এবং মাঝমাঠকে গতি ও নিখুঁত পাসের এক অনবদ্য রণক্ষেত্র বলা যায়, যেখানে ক্রিয়েটিভিটির মূল কারিগর পিএসজির তারকা লি কাং-ইন। কাং-ইনের পিন-পয়েন্ট পাসিং এবং ড্রিবলিং স্কিল প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে ও স্ট্রাইকারদের গোল করতে সাহায্য করবে, যাকে যোগ্য সঙ্গ দেবেন ফেইনুর্ডের হওয়াং ইন-বিওম এবং স্টোক সিটির তরুণ উদীয়মান তারকা পে জুন-হো। আক্রমণভাগে অধিনায়ক সন হিউং-মিনের সাথে থাকছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের (Wolves) বিধ্বংসী ফরোয়ার্ড হওয়াং হি-চ্যান। হি-চ্যানের গতি এবং উইং ধরে ওপরে ওঠার ক্ষমতা প্রতিপক্ষের সাইড-ব্যাকদের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হবে।

প্রধান স্ট্রাইকার বা প্রথাগত ‘নাম্বার নাইন’ পজিশনের জন্য দলে বড় চমক হিসেবে থাকছেন বেসিকতাসের ওহ হিয়ন-গিউ এবং এফসি মিডজিল্যান্ডের চো গুয়ে-সুং, যিনি কাতার বিশ্বকাপে জোড়া গোল করে বিশ্বমঞ্চে নিজের নাম চিনিয়েছিলেন। ফুটবল বিষয়ক শীর্ষ আন্তর্জাতিক পোর্টাল Goal.com তাদের বিশেষ টিম রিপোর্টে প্রকাশ করেছে যে, এই আক্রমণভাগে ইউরোপের শীর্ষ স্তরে খেলা ৫ জন তারকা রয়েছেন, যা এশিয়ার অন্য কোনো দলের নেই। এছাড়া সোয়ানসি সিটির ইওম জি-সুং এবং সেল্টিকের ইয়াং হিউন-জুন দলের সাইড বেঞ্চকে এতটাই শক্তিশালী করেছে যে যেকোনো মুহূর্তে তারা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

কোচ হং মিয়ুং-বোর ট্যাকটিক্যাল রণকৌশল কেমন হতে যাচ্ছে?

জাতীয় দলের প্রধান কোচ হং মিয়ুং-বো কোরিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং সম্মানিত নাম, যিনি তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনে ২০০২ বিশ্বকাপে দেশকে চতুর্থ স্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন। এটি মেক্সিকো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে কোচ হিসেবে তাঁর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ অভিযান, এর আগে তিনি ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মিয়ুং-বো সাধারণত হাই-প্রেসিং এবং দ্রুত উইং-অ্যাটাকিং ফুটবল খেলতে পছন্দ করেন, যা প্রতিপক্ষকে গুছিয়ে ওঠার কোনো সুযোগ দেয় না। তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট বলেছেন, “আমাদের ফুটবল হবে গতিময় ও আগ্রাসী, ঘরের মাঠের দর্শকদের সামনে যারা আমাদের ভয় ডরহীন ফুটবল উপহার দেবে।”

ট্যাকটিক্যাল দিক থেকে মিয়ুং-বো সাধারণত ৪-২-৩-১ ফর্মেশন পছন্দ করেন, যেখানে সন হিউং-মিন বাম উইং দিয়ে ভেতরে ঢুকে ফ্রি-রোল খেলেন এবং হওয়াং হি-চ্যান ডান দিক থেকে আক্রমণ শানান। এই ফর্মেশনটি ডিফেন্স করার সময় দ্রুত ৪-৪-১-১ রূপ নিতে পারে, যা মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সাহায্য করে। গ্রুপ ‘এ’-র উদ্বোধনী ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের মুখোমুখি হওয়ার আগে মিয়ুং-বোর মূল পরিকল্পনা হলো লি কাং-ইনকে ফ্রি-স্পেস দেওয়া, যাতে তিনি নিখুঁত সব থ্রু-বল স্ট্রাইকারদের সাপ্লাই দিতে পারেন।

বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার গ্রুপ পর্বের প্রতিপক্ষ ও সমীকরণ কী?

ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এ’-তে দক্ষিণ কোরিয়া একটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ ও হাই-ভোল্টেজ গ্রুপে অবস্থান করছে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং চেক প্রজাতন্ত্র। কোরিয়া তাদের প্রথম ম্যাচটি খেলতে নামছে গুয়াদালাজারা স্টেডিয়ামে শক্তিশালী চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে, যা তাদের টুর্নামেন্টের ভাগ্য নির্ধারণে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে। এরপরের ম্যাচে তারা একই ভেন্যুতে মুখোমুখি হবে সহ-আয়োজক দেশ মেক্সিকোর, যেখানে গ্যালারির ১ লক্ষেরও বেশি দর্শকের প্রতিকূল চাপ সামলাতে হবে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তারা মন্টেরি স্টেডিয়ামে আফ্রিকান পরাশক্তি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে লড়বে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি দক্ষিণ কোরিয়ার রেকর্ড দ্বাদশ (১২তম) অংশগ্রহণ এবং এটি তাদের টানা ১১তম বিশ্বকাপ আসর, যা এশিয়ান অঞ্চলের ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড। অতীতের সেরা সাফল্য বলতে ২০০২ সালের ঘরের মাঠের চতুর্থ স্থান এবং ২০১০ ও ২০২২ সালের রাউন্ড অব সিক্সটিন বা শেষ ১৬-তে পৌঁছানো। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, গ্রুপ ‘এ’ থেকে পরবর্তী রাউন্ডে যেতে হলে দক্ষিণ কোরিয়াকে প্রথম ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ৩ পয়েন্ট নিশ্চিত করতেই হবে, অন্যথায় মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের জন্য বাঁচা-মরার লড়াইয়ে পরিণত হবে।

FAQ:

২০২৬ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া দলের প্রধান কোচ কে?

২০০২ বিশ্বকাপের কিংবদন্তি অধিনায়ক হং মিয়ুং-বো ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এটি কোচ হিসেবে তাঁর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ আসর।

সন হিউং-মিন বর্তমানে কোন আন্তর্জাতিক ক্লাবের হয়ে খেলছেন?

কোরিয়ান কিংবদন্তি সন হিউং-মিন দীর্ঘ বছর টটেনহ্যাম হটস্পারে খেলার পর বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার (MLS) ক্লাব লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি (LAFC)-এর হয়ে খেলছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার ডিফেন্স লাইনের প্রধান তারকা কে এবং তিনি কোথায় খেলেন?

দক্ষিণ কোরিয়া ডিফেন্সের প্রধান তারকা হলেন কিম মিন-জে। ফুটবল বিশ্বে “দ্য মনস্টার” নামে পরিচিত এই ডিফেন্ডার বর্তমানে জার্মানির বিখ্যাত ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে খেলছেন।

পিএসজি (PSG)-তে খেলা কোরিয়ান মিডফিল্ডারের নাম কী?

প্যারিস সেন্ট জার্মেই (PSG)-তে খেলা কোরিয়ান তরুণ ফুটবলারের নাম লি কাং-ইন। তিনি এই স্কোয়াডের অন্যতম প্রধান ক্রিয়েটিভ মিডফিল্ডার ও প্লে-মেকার।

গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ কোরিয়াকে কোন কোন দেশের বিরুদ্ধে লড়তে হবে?

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া গ্রুপ ‘এ’-তে খেলছে। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ দলগুলো হলো সহ-আয়োজক মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং চেক প্রজাতন্ত্র।

বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া দলের সর্বোচ্চ ঐতিহাসিক সাফল্য কী?

বিশ্বকাপের ইতিহাসে দক্ষিণ কোরিয়ার সর্বোচ্চ সাফল্য হলো সেমিফাইনালে পৌঁছানো। ২০০২ সালে জাপান ও কোরিয়ায় যৌথভাবে আয়োজিত বিশ্বকাপে তারা চতুর্থ স্থান অর্জন করে ইতিহাস গড়েছিল।

JitaBet ,  JitaWin , এবং  JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন,   তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!

উপসংহার

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-কে সামনে রেখে ঘোষিত দক্ষিণ কোরিয়ার এই ২৬ সদস্যের স্কোয়াড কেবল একটি দল নয়, এটি এশিয়ান ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করার এক নতুন ঐতিহাসিক হাতিয়ার। প্রধান কোচ হং মিয়ুং-বো তাঁর নিখুঁত কৌশলে ইউরোপীয় লিগে খেলা বিশ্বসেরা তারকাদের সাথে ঘরোয়া কে-লিগের গতিশীল ফুটবলারদের এক অনন্য কম্বিনেশন তৈরি করেছেন। অধিনায়ক সন হিউং-মিনের অভিজ্ঞতা ও লিডারশিপ এবং কিম মিন-জের রক্ষণভাগের ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা দলটিকে যেকোনো বিশ্বমানের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ফেভারিট হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। এশিয়ান অঞ্চলের বাছাইপর্বে অপরাজিত থাকার দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাস এবং প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে ত্রিনিদাদ ও এল সালভাদরের বিপক্ষে সহজ জয় প্রমাণ করে যে ‘তায়েগুক ওয়ারিয়র্স’ সঠিক সময়ে তাদের ফর্মের তুঙ্গে রয়েছে। গ্রুপ ‘এ’-র মেক্সিকো বা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কঠিন প্রতিপক্ষদের ঘরের মাঠের কন্ডিশন ও দর্শকদের বিশাল চাপ সামলানোর জন্য এই দলের মানসিক শক্তিই হবে সবচেয়ে বড় এক্স-ফ্যাক্টর। পিএসজির লি কাং-ইন এবং উলভসের হওয়াং হি-চ্যানের আক্রমণাত্মক জুটির ওপর ভর করে কোরিয়ান ফুটবল ভক্তরা এবার ২০০২ সালের সেই সেমিফাইনালের রূপকথা পুনরাবৃত্তির স্বপ্ন দেখছেন। যদি মিয়ুং-বোর হাই-প্রেসিং ও কাউন্টার-অ্যাটাকিং রণকৌশল গুয়াদালাজারা ও মন্টেরির মাঠে শতভাগ সফল হয়, তবে দক্ষিণ কোরিয়া কেবল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে যাবে না, বরং টুর্নামেন্টের অন্যতম ডার্ক হর্স হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনাল বা সেমিফাইনালের মঞ্চে নিজেদের নাম খোদাই করবে। কোটি কোটি এশিয়ান ফুটবলপ্রেমী এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সন হিউং-মিনের এই ঐতিহাসিক ফুটবল যুদ্ধের শেষ অঙ্ক দেখার জন্য।

For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News