ইসরায়েল বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে এমন উত্তেজনা আর নাটকীয়তা খুব কম সময়েই দেখা যায়। যেখানে একদিকে ছিল ইউরোপিয়ান ফুটবলের চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি, অন্যদিকে ছিল মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাবনাময় দল ইসরায়েল। দু’দলই একরকম বাঁচা-মরার লড়াইয়ে নেমেছিল। আর সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচেই ইসরায়েলকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিল আজ্জুরিরা। দীর্ঘদিন পর নিজেদের হারিয়ে ফেলা গৌরব ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে এই জয় ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যেখানে ইতালি হারলে হয়তো প্লে-অফেরও সুযোগ হারাতে পারতো, সেখানে এমন এক জয়ে সমর্থকদের মাঝে নতুন আশার আলো জ্বলে উঠেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের জন্য এটি ছিল ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি—যেখানে বারবারই তারা বাছাইপর্বে এসে থেমে যায়।
মাতেও রেতেগুই: ইতালির গোল মেশিন
মাঠে যখন কোনো দল সংকটে পড়ে, তখন একজন নির্ভরযোগ্য গোলদাতা দলের আশার প্রতীক হয়ে ওঠেন। সেই ভূমিকাতেই ছিলেন মাতেও রেতেগুই। ম্যাচের প্রথমার্ধে যখন দুই দলই একে অপরকে পরখ করছিল, তখন রেতেগুই বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হন এবং রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। এমন চাপের মুহূর্তে তিনি দারুণ আত্মবিশ্বাসে বল জালে পাঠান, যা পুরো দলের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে।
দ্বিতীয়ার্ধে তার দ্বিতীয় গোলটি ছিল আরও চমকপ্রদ। বাঁ দিক থেকে বল কন্ট্রোল করে ডান পায়ে নেয়া নিখুঁত শটে তিনি গোল করেন। তার খেলায় দেখা গিয়েছে দৃঢ়তা, ফিনিশিং দক্ষতা এবং রক্ষণভাগ ভেদ করার অসাধারণ ক্ষমতা। শুধু এই ম্যাচেই নয়, পুরো বাছাইপর্বে তার অবদান ইতালির জন্য ছিল অপরিসীম। ইতালির সমর্থকরা এখন তাকিয়ে রয়েছেন তার ওপরেই—বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করতে হলে রেতেগুইকে আরও গোলের ছন্দে ফিরতে হবে।
জিয়ানলুকা মানচিনির হেডে শেষ পেরেক
ফুটবলে একটি প্রবাদ আছে—“শেষ মুহূর্তের গোলই ম্যাচের আসল চিত্র তুলে ধরে।” সেই কথাই যেন সত্যি করলেন জিয়ানলুকা মানচিনি। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হওয়ার পর যোগ করা সময়ে যখন ম্যাচ প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে, তখন তিনি কর্নার থেকে আসা একটি দারুণ ক্রস হেড করে বল পাঠান জালের বাঁ কোণে। এই গোল শুধুই ব্যবধান বাড়ায়নি, বরং মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে প্রতিপক্ষ ইসরায়েলকে।
এই গোলটি যে কেবলই একটি গোল নয়, তা বুঝিয়ে দিয়েছে পুরো ইতালি দল। মাঠে উপস্থিত হাজারো দর্শকের চিৎকার আর বাঁশির শব্দে তখন স্টেডিয়াম ছিল উৎসবমুখর। মানচিনির এই গোল হয়তো বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেনি, তবে এটি ছিল বিশ্বকাপে খেলার শেষ আশাটুকুকে আরও একটু উজ্জ্বল করে তোলার নিদর্শন।
ইসরায়েলের ব্যর্থতা: ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
ইসরায়েল ফুটবল ইতিহাসে সবসময়ই একপ্রকার ‘আনডারডগ’ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। ১৯৭০ সালের পর তারা আর বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেনি। এবারও তারা অনেক আশায় ছিল। দলে ছিল তরুণ উইঙ্গার ম্যানর সোলোমনের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়। কিন্তু বড় ম্যাচে বড় মুহূর্তে ভুলের খেসারত দিতেই হয়। ম্যাচের শুরুতেই তার নেওয়া শট যদি গোল হয়ে যেত, তাহলে হয়তো গল্পটা অন্যরকম হতে পারত।
ইসরায়েলি মিডফিল্ড এবং ডিফেন্স একাধিকবার ইতালির চাপে পড়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই চাপে ভেঙে পড়ে পুরো দল। এই পরাজয় শুধু বিশ্বকাপ না খেলার হতাশাই নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি সতর্কবার্তা—বিশ্বমঞ্চে ভালো করতে হলে মানসিকভাবে আরও দৃঢ় হতে হবে।
নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা উদিনে
এই ম্যাচ ঘিরে শুধু খেলা নয়, ছিল রাজনৈতিক উত্তেজনাও। প্যালেস্টাইন সমর্থকদের উপস্থিতি ও শহরে প্রো-প্যালেস্টাইন সভা বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছিল। তবে ইতালির নিরাপত্তা বাহিনী সেই উত্তেজনা প্রশমনে সফল হয়েছে। উদিনের ব্লুয়েনার্জি স্টেডিয়ামে কঠোর নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো। মাঠের ভেতরে বা বাইরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
খেলা শেষে দর্শকদের শান্তিপূর্ণভাবে স্টেডিয়াম ত্যাগ ও খেলোয়াড়দের নিরাপদে মাঠ ছাড়ার ব্যবস্থা একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ইতালির প্রস্তুতিরই পরিচয় দেয়। এই ম্যাচ একটি বার্তা দিয়েছে—রাজনীতি বা উত্তেজনা যতই থাকুক, ফুটবল সবকিছুর ঊর্ধ্বে।
পরবর্তী চ্যালেঞ্জ: নরওয়ে ও মলদোভার বিপক্ষে ম্যাচ
এই জয়ের মাধ্যমে প্লে-অফ নিশ্চিত করলেও, সরাসরি বিশ্বকাপে যেতে হলে ইতালিকে এখনো দুইটি কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ মলদোভা, যাদের বিরুদ্ধে জয় সম্ভব হলেও কোনো দলকে হালকাভাবে নিলে ফলাফল খারাপ হতে পারে। দ্বিতীয় ম্যাচটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেটি নরওয়ের বিরুদ্ধে। নরওয়ে বর্তমানে গ্রুপ ‘আই’ এর শীর্ষে রয়েছে, তাদের পরাজয়ই শুধু যথেষ্ট নয়, বরং ইতালির জয়ের ধারা বজায় রাখাও আবশ্যক।
ইতালির কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়রা জানেন—প্রতিটি ম্যাচ এখন ফাইনালের সমতুল্য। প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে সঠিক কৌশল নির্ধারণ করাই হবে সফলতার চাবিকাঠি।
ইতালির ট্যাকটিকস: রক্ষণ ও আক্রমণে নিখুঁত সামঞ্জস্য
ম্যাচ জেতার পেছনে কেবল গোলদাতারাই নয়, বরং দলের সামগ্রিক কৌশলগত পরিকল্পনাও বড় ভূমিকা রাখে। ইতালি এই ম্যাচে রক্ষণভাগে ছিল সুসংগঠিত এবং আক্রমণভাগে ছিল ক্ষিপ্র ও পরিকল্পিত। কোচ রবার্তো মানচিনির পরিকল্পনায় মধ্যমাঠে বল দখলে রাখার কৌশল এবং উইং দিয়ে আক্রমণ গড়ার প্যাটার্ন ছিল চোখে পড়ার মতো। দলটি যখনই সুযোগ পেয়েছে, দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেছে। এমন কৌশলগত ভারসাম্য তাদের জয় ছিনিয়ে আনতে সাহায্য করেছে, যা বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য।
সমর্থকদের উচ্ছ্বাস: আবারও বিশ্বমঞ্চে ফেরার স্বপ্ন
ইতালির ফুটবল ইতিহাস গৌরবময় হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বকাপে অনুপস্থিতি তাদের জন্য হতাশাজনক ছিল। তাই এই ম্যাচে জয় পাওয়ার পর সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল সীমাহীন। স্টেডিয়ামে থাকা দর্শকদের মুখে ছিল চিৎকার, গান আর জাতীয় পতাকা হাতে উল্লাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ইতালিয়ান ফ্যানদের মধ্যে দেখা গেছে দারুণ উত্সাহ। এই জয় কেবল একটি ম্যাচ জয় নয়, বরং একটি জাতির ফুটবল আবেগের পুনর্জাগরণ। এই ধরনের জয় দল এবং সমর্থক উভয়ের মনোবল বাড়িয়ে দেয়।
বিশ্বকাপের স্টেজে ইতালির প্রত্যাবর্তন কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বসেরা দলগুলোর মিলনমেলা। আর সেই মঞ্চে ইতালির মতো ঐতিহাসিক দল না থাকাটা অনেকের কাছেই অপূর্ণতা মনে হয়। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, একাধিক কিংবদন্তি ফুটবলারের জন্মস্থান, এবং বিশ্ব ফুটবলে ট্যাকটিকস ও রক্ষণভিত্তিক খেলার এক অনন্য ধারক—এই দলটি যদি আবারও বিশ্বকাপে ফিরে আসে, তবে তা হবে টুর্নামেন্টের গ্ল্যামারে বাড়তি মাত্রা। বর্তমান দলের খেলোয়াড়রা তরুণ ও প্রতিভাবান, যারা ভবিষ্যতে ইতালিকে আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মঞ্চে নিয়ে যেতে পারে—এই বিশ্বাস এখন সমর্থকদের হৃদয়ে শক্তভাবে গেঁথে গেছে।
JitaBet , JitaWin , এবং JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন, তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!
উপসংহার
ইসরায়েলকে বিদায় করে বিশ্বকাপের আশা বাঁচিয়ে রাখলো ইতালি—এই শিরোনামের পেছনে লুকিয়ে আছে একটি দেশের ফুটবল ইতিহাস, আত্মমর্যাদা, এবং হাজারো সমর্থকের আবেগ। যখন সবাই ভেবেছিল ইতালির হয়তো আর ফেরা হবে না, তখনই তারা প্রমাণ করে দিল—আসল লড়াই হয় শেষ সময়েই। তাদের এই জয় প্রমাণ করে দেয়, ফুটবলে ইতিহাস বা সাফল্য নয়, বরং মুহূর্তের পারফরম্যান্সই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মাতেও রেতেগুইয়ের ডাবল গোল এবং মানচিনির দুর্দান্ত হেড—এই দুই মুহূর্ত ভবিষ্যতে ইতালির বিশ্বকাপ অভিযানের এক একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তবে যাত্রা এখানেই শেষ নয়। সামনে আরও কঠিন ম্যাচ, কঠিন প্রতিপক্ষ। তাদের লক্ষ্য এখন সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া। আর সেই লক্ষ্য পূরণে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে হবে, আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে হবে এবং দেশের জন্য নিজেদের উজাড় করে দিতে হবে।
এই ম্যাচ শুধুই ফুটবল নয়, এটি ছিল আবেগ, সম্মান ও আত্মপরিচয়ের এক বাস্তব উদাহরণ। এখন দেখার বিষয়, এই সাফল্যকে সামনে রেখে ইতালি কি পারবে আবারও বিশ্বকাপে জ্বলে উঠতে?
FAQs
ইতালি ইসরায়েলকে কত গোলে হারিয়েছে?
ইতালি ৩-০ গোলে ইসরায়েলকে হারিয়েছে।
কে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন এই ম্যাচে?
মাতেও রেতেগুই এই ম্যাচে দুইটি গোল করে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন।
এই জয়ে কি বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত হলো ইতালির?
না, তবে তারা প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে। বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার জন্য আরও দুটি ম্যাচে জিততে হবে।
ইসরায়েল কি এখনও বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ রাখে?
না, এই হারের ফলে তাদের সুযোগ শেষ হয়ে গেছে।
ম্যাচটি কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইতালির উদিনের ব্লুয়েনার্জি স্টেডিয়ামে।
পরবর্তী ম্যাচে ইতালির প্রতিপক্ষ কারা?
পরবর্তী ম্যাচে ইতালির প্রতিপক্ষ মলদোভা ও নরওয়ে।
For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News





