শিরোনাম

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: স্কালোনির অধীনে মেসির অবিশ্বাস্য ফর্মের কারণ

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: স্কালোনির অধীনে মেসির অবিশ্বাস্য ফর্মের কারণ

Table of Contents

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ লিওনেল মেসির অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্স এবং স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনার ঐক্যবদ্ধতার পেছনের রহস্য জানুন এই বিস্তারিত প্রতিবেদনে। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মঞ্চে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল এক অনন্য ভাতৃত্ববোধ এবং কৌশলগত স্বাধীনতার মাধ্যমে নিজেদের সেরা ফর্মে ফিরে এসেছে। ইজিপ্টের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পরও অসাধারণ কামব্যাক করে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে লা আলবিসেলেস্তেরা। কোচ লিওনেল স্কালোনির সঠিক দিকনির্দেশনা, রদ্রিগো ডি পলের মতো সতীর্থদের নিঃস্বার্থ সমর্থন এবং দলের ভেতরের চমৎকার পরিবেশই মূলত ৩৯ বছর বয়সী মেসিকে তার শেষ বিশ্বকাপে আরেকবার ইতিহাস গড়ার আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।

কেন লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা দল এতটা ঐক্যবদ্ধ?

লিওনেল স্কালোনি ২০১৮ সালে যখন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন দলটি ছিল এক ক্লান্ত এবং দিকভ্রান্ত তারকাদের সমাবেশ। কিন্তু তিনি এই দলকে একটি নিবিড় পরিবারে রূপান্তরিত করেছেন, যেখানে কৌশলগত ছকের চেয়ে দলের মানসিক বন্ধনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্কালোনি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছেন, যেখানে খেলোয়াড়রা কোনো চাপ ছাড়াই নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটি খেলতে পারেন। প্রখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক গিলেম বালাগ তার বিবিসি স্পোর্টসের বিশেষ কলামে উল্লেখ করেছেন যে, স্কালোনি শুধু একটি ফুটবল দল নয়, বরং এমন একটি গ্রুপ তৈরি করেছেন যারা একসঙ্গে হাসতে, কাঁদতে এবং একে অপরের জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত। এই দলটির মূল ভিত্তি হলো লিওনেল মেসি, যাকে কেন্দ্র করেই পুরো দলের আক্রমণাত্মক এবং রক্ষণাত্মক কৌশল সাজানো হয়েছে। দলের প্রতিটি খেলোয়াড় এখন বিশ্বাস করে যে, মেসির জন্য তারা মাঠের যেকোনো প্রান্তে জীবন বাজি রাখতে পারে। এই ঐক্যবদ্ধতার কারণেই আর্জেন্টিনা গত কয়েক বছরে চারটি বড় শিরোপা জিতেছে, যার মধ্যে দুটি কোপা আমেরিকা, একটি ফিনালাসিমা এবং একটি বিশ্বকাপ রয়েছে।

দলের এই পারিবারিক পরিবেশ এবং ভাতৃত্ববোধ সম্পর্কে স্কালোনি নিজেই সবচেয়ে সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, “আমার কাছে সবচেয়ে সেরা মুহূর্ত হলো দলের সবার সাথে উদযাপনের মুহূর্তগুলো। আমি এর জন্যই কোচিং করাই, কোনো ৪-৩-৩ ফরমেশন পছন্দ করি বলে নয়। আমি আমার বন্ধুদের ও খেলোয়াড়দের সাথে ‘মেট’ (দক্ষিণ আমেরিকান চা) পান করতে, বারবিকিউ শেয়ার করতে এবং ‘ত্রুকো’ (তাসের খেলা) খেলতে পছন্দ করি, ঠিক যেমনটা আমরা সবসময় করে এসেছি।” স্কালোনির এই মন্তব্য প্রমাণ করে যে দলের ভেতরে কতটা স্বাচ্ছন্দ্য এবং স্বাধীনতা বিরাজ করছে। তিনি তার ট্যাকটিক্যাল প্ল্যানে মেসিকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন; মেসি কখন ডানে খেলবেন, কখন মাঝখানে আসবেন, তা তিনি নিজেই নির্ধারণ করেন। স্কালোনির মতে, মেসি কোনো জটিল পরিস্থিতিতে সমাধান খোঁজেন না, বরং তিনি নিজেই সমাধান তৈরি করেন। দলের অন্যান্য খেলোয়াড়রাও এই পরিবর্তনের সাথে তাৎক্ষণিকভাবে মানিয়ে নিতে প্রস্তুত থাকে।

রদ্রিগো ডি পলের সাথে লিওনেল মেসির বন্ধুত্বের পেছনের রহস্য কী?

বর্তমান আর্জেন্টিনা দলে রদ্রিগো ডি পল হয়ে উঠেছেন লিওনেল মেসির সবচেয়ে কাছের বন্ধু এবং বিশ্বস্ত ছায়াসঙ্গী, যেমনটা একসময় বার্সেলোনায় হোসে ম্যানুয়েল পিন্টো বা লুইস সুয়ারেজ ছিলেন। তাদের এই বন্ধুত্বের সূত্রপাত হয়েছিল জাতীয় দলের একটি ক্যাম্প থেকে। একদিন অনুশীলনের পর মেসিকে একা এবং বিষণ্ণ অবস্থায় বসে থাকতে দেখে ডি পল তার রুমের দরজায় কড়া নেড়ে বলেছিলেন, “এক কাপ মেট এবং ত্রুকো খেলবেন নাকি?” সেই থেকে শুরু হওয়া বন্ধুত্ব আজ এক অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সকালে ডি পলের রুমে সবার আগে মেসি প্রবেশ করেন মেট পান করার জন্য, এরপর দলের অন্যান্য সদস্যরা আসেন। ডি পল ভালো করেই জানেন যে মেসিকে কখন একা থাকতে দিতে হবে এবং কখন তাকে মানসিকভাবে সমর্থন জোগাতে হবে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্সের একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ডি পলের এই সহজ এবং সাধারণ আচরণই মেসিকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে, কারণ তিনি সবসময় একজন সাধারণ ‘লিও’ হিসেবেই বাঁচতে চেয়েছেন, কোনো বিশাল স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে নয়।

মাঠের ভেতরে এবং বাইরে ডি পল যেন মেসির এক বিশ্বস্ত পাহারাদার। যখন তারা টানেল দিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন, তখন মেসি থাকেন সবার সামনে এবং ডি পল থাকেন ঠিক তার পাশে, আর বাকি খেলোয়াড়রা তাদের পেছনে এমনভাবে থাকে যেন একটি গ্যাং তাদের নেতাকে সুরক্ষা দিচ্ছে। ডি পল প্রায়শই মজা করে ৩৯ বছর বয়সী মেসিকে ‘এল পেকুইনো’ (ছোট্ট ছেলে) বলে ডাকেন, যদিও মেসি দলের সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়। দলের তরুণ খেলোয়াড়দের কাছে মেসি শুধু একজন সতীর্থ নন, তিনি হলেন তাদের ছোটবেলার টেলিভিশন আইডল, যার খেলা দেখে তারা ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। এই বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরূপ জুন মাসে মেসির জন্মদিনে দলের সকল খেলোয়াড় এমন একটি টি-শার্ট পরেছিলেন, যেখানে জাতীয় দলের ক্যারিয়ারের কোনো না কোনো মুহূর্তে মেসির সাথে তাদের ছবি ছাপা ছিল। এই ধরনের মানসিক সমর্থন এবং ভাতৃত্ববোধ মেসিকে তার ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় এসেও একজন তরুণ খেলোয়াড়ের মতো উজ্জীবিত করে রেখেছে, যা তাকে আরও একবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

একনজরে ম্যাচ সারাংশ

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
খেলোয়াড়ের নামলিওনেল মেসি (অধিনায়ক, আর্জেন্টিনা)
বয়স৩৯ বছর
টুর্নামেন্টফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬™
বর্তমান ফর্মদুই বিশ্বকাপে ১০ বা তার বেশি সরাসরি গোল কন্ট্রিবিউশন
শারীরিক পরিসংখ্যানহাঁটার হার ৪৭%, সর্বোচ্চ গতি কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে ৫% বেশি
দলের প্রধান কোচলিওনেল স্কালোনি
সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষইংল্যান্ড (১৫ জুলাই ২০২৬)

খাদ্যাভ্যাস এবং দ্বিগুণ অনুশীলনের মাধ্যমে মেসি কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন?

৩৯ বছর বয়সে এসেও ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মতো একটি তীব্র প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে নিজের সেরা ফর্ম ধরে রাখা কোনো সাধারণ ব্যাপার নয়। এর পেছনে রয়েছে লিওনেল মেসির অসাধারণ অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম এবং বিজ্ঞানসম্মত খাদ্যাভ্যাস। কোচ স্কালোনি যখন দলের ট্যাকটিক্যাল দিকগুলো সামলাচ্ছেন, তখন ইন্টার মায়ামির এই ফরোয়ার্ড রদ্রিগো ডি পলের সাথে মাসের পর মাস ধরে প্রতিদিন দ্বিগুণ সেশনের অনুশীলন করে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। মেসির ব্যক্তিগত পুষ্টিবিদের মতে, কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় বর্তমানে মেসির টপ স্পিড বা সর্বোচ্চ গতি প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, বয়সের সাথে সাথে শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়ার যে সাধারণ ধারণা রয়েছে, মেসি তাকে ভুল প্রমাণ করেছেন। নিজের খাদ্যাভ্যাসে আমূল পরিবর্তন এনে এবং অত্যন্ত নিখুঁত ডায়েট প্ল্যান অনুসরণ করে তিনি তার পেশীর শক্তি এবং স্ট্যামিনা ধরে রেখেছেন, যা তাকে দীর্ঘ টুর্নামেন্ট জুড়ে ক্লান্তিহীনভাবে খেলতে সাহায্য করছে।

মাঠের খেলায় মেসির এই প্রস্তুতির প্রভাব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। অবাক করার মতো বিষয় হলো, টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলোতে মেসি তার মোট সময়ের প্রায় ৪৭ শতাংশ সময়ই হেঁটে কাটান এবং পুরো টুর্নামেন্টে তিনি সর্বোচ্চ গতিতে মাত্র ৬৩১ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করেছেন। এটি কোনো অলসতা নয়, বরং এটি হলো তার এনার্জি বা শক্তি সঞ্চয় করার একটি মাস্টারক্লাস কৌশল। যখনই দলের তার ম্যাজিক প্রয়োজন হয়, ঠিক তখনই তিনি তার সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ছিন্নভিন্ন করে দেন। এই বয়সেও তিনি এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোলদাতা। গোল ডট কমের এক পরিসংখ্যান রিপোর্টে দেখা যায়, ফুটবল ইতিহাসে মাত্র দুজন খেলোয়াড় দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ১০ বা তার বেশি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন—এর মধ্যে একজন হলেন মেসি (২০২২ সালে ১০টি এবং ২০২৬ সালেও এখন পর্যন্ত ১০টি) এবং অপরজন হলেন কিলিয়ান এমবাপে। এই পরিসংখ্যানগুলোই প্রমাণ করে যে, সঠিক প্রস্তুতি এবং ফিটনেসের মাধ্যমে মেসি নিজেকে কতটা অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছেন।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার কৌশল কী হতে পারে?

আগামী ১৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর হাই-ভোল্টেজ সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ড। এই ম্যাচটি ঘিরে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক উন্মাদনা বিরাজ করছে, কারণ ১৯৮৬ সালের ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ১৯৯৮ সালের সেই বিখ্যাত লড়াইয়ের পর থেকে এই দুই দলের মুখোমুখি হওয়া মানেই এক অন্যরকম উত্তেজনা। ইংল্যান্ডের শক্তিশালী মিডফিল্ড এবং গতির বিপক্ষে স্কালোনির প্রধান কৌশল হতে পারে বল পজেশন ধরে রাখা এবং ছোট ছোট পাসের মাধ্যমে আক্রমণ শানানো। ইজিপ্টের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও আর্জেন্টিনা যেভাবে ঠান্ডা মাথায় ম্যাচ বের করে এনেছিল, তা প্রমাণ করে যে দলের স্নায়ুচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা অসাধারণ। ইংল্যান্ডের ডিফেন্সের ফাঁকফোকর বের করার জন্য স্কালোনি সম্ভবত মেসিকে ‘ফ্রি রোল’ বা স্বাধীনভাবে খেলার সুযোগ দেবেন, যাতে মেসি তার স্বভাবসুলভ ভিশন ব্যবহার করে জুলিয়ান আলভারেজ বা লাউতারো মার্টিনেজদের জন্য গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেন।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্কালোনির আরেকটি বড় হাতিয়ার হতে পারে দলের মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের নিখুঁত বোঝাপড়া। মেসি যখন ডান প্রান্ত থেকে মাঝখানে সরে আসবেন, তখন ডি পল সেই ফাঁকা জায়গাটি ব্যবহার করে ওভারল্যাপ করবেন। স্কালোনি এবং মেসির মধ্যকার দীর্ঘদিনের বোঝাপড়া এই কৌশলগুলোকে আরও ধারালো করে তোলে। মেসি তার কোচ সম্পর্কে বলতে গিয়ে একটি চমৎকার স্মৃতির কথা স্মরণ করে বলেন, “আমি এখনও তাকে (স্কালোনিকে) খেপাই। ২০০৬ বিশ্বকাপের অনুশীলনে সে আমাকে প্রচণ্ড লাথি মারত। সে আমাকে বলে যে এটা সত্যি নয়। কিন্তু আমার সব মনে আছে।” এই ধরনের রসিকতা এবং পারষ্পরিক সম্মান দলের ড্রেসিংরুমের পরিবেশকে হালকা রাখে, যা ইংল্যান্ডের মতো একটি বড় দলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে মানসিক চাপ কমাতে দারুণভাবে সাহায্য করে। আর্জেন্টিনা দল খুব ভালো করেই জানে যে এই ম্যাচটি শুধু সেমিফাইনাল নয়, এটি তাদের জাতীয় আবেগের সাথে জড়িত একটি মর্যাদার লড়াই।

দলের নতুন সঙ্গীত ‘লা কুয়ার্তা এস্ত্রেয়া’ কেন মেসির জন্য এতটা তাৎপর্যপূর্ণ?

আর্জেন্টিনায় ফুটবল শুধুমাত্র একটি খেলা নয়, এটি তাদের সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ এবং জাতীয় পরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য মাধ্যম। ডিয়েগো ম্যারাডোনা থেকে শুরু করে লিওনেল মেসি পর্যন্ত—এই প্রতিভাধর খেলোয়াড়রা শুধু মাঠেই খেলেন না, তারা কোটি কোটি আর্জেন্টাইনদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করেন। যখন মেসি বা ম্যারাডোনার মতো কেউ বিশ্বমঞ্চে সফলতা অর্জন করেন, তখন তা প্রমাণ করে যে আর্জেন্টিনা এখনো বিশ্বের সেরা দেশগুলোর একটি। এই আবেগেরই প্রতিফলন ঘটেছে দলের নতুন গান ‘লা কুয়ার্তা এস্ত্রেয়া’ (চতুর্থ তারকা)-এর মধ্যে। ডি পলের নেতৃত্বে তৈরি করা এই গানটি মূলত মেসিকে উৎসর্গ করে এবং ম্যারাডোনার পুরনো একটি হিসাব মেটানোর উদ্দেশ্যে গাওয়া হয়। গানের কথাগুলো এমন—”আমরা লিওনেলের সাথে তৃতীয়টি জিতেছি, আমরা আবার চ্যাম্পিয়ন হতে চাই, এবং ৩২ বছর পর, লা স্কালোনেতা ১০ নম্বরের কাছ থেকে চুরি যাওয়া কাপের প্রতিশোধ নেবে (১৯৯০ বিশ্বকাপের রেফারেন্স)।” এই গানের প্রতিটি লাইন খেলোয়াড়দের মধ্যে এক তীব্র জাতীয়তাবাদী আবেগ এবং মেসিকে জেতানোর অদম্য বাসনা তৈরি করে।

ফুটবল ইতিহাসে সম্ভবত এটিই প্রথমবার যে, একজন জীবন্ত কিংবদন্তিকে তার নিজের সতীর্থরা মিলে গান গেয়ে উদযাপন করছে, যখন তিনি এখনো তাদের সাথেই মাঠে খেলছেন। গানের শেষ দিকের কথাগুলো আরও আবেগময়—”আমি দেখতে চাই শার্টে চতুর্থ তারকাটি জ্বলজ্বল করছে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমি আর্জেন্টাইন, ফকল্যান্ডের জন্য, ডিয়েগোর জন্য, এবং লিওর শেষ যাত্রার জন্য। আর্জেন্টিনা, আমি দেখতে চাই তোমরা আবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছ।” সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে যখন মেসি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন, তখন লিয়ান্দ্রো পারেদেসসহ পুরো দল তাকে জড়িয়ে ধরেছিল। সেটি শুধু সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য ছিল না, বরং মেসিকে এটি মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য ছিল যে তারা সবসময় তার পাশে আছেন। সতীর্থরা প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, তারা মাঠের প্রতিটি ঘাস চিবিয়ে খাবেন শুধু এটা নিশ্চিত করার জন্য যে মেসির শেষ ম্যাচটি যেন কোনোভাবেই পরাজয়ের মাধ্যমে শেষ না হয়। এই অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং সম্মানই মেসিকে তার জীবনের সেরা ফর্মে খেলতে এবং বিশ্বকাপ জয়ের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিতে উদ্বুদ্ধ করছে।

FAQ

১. লিওনেল মেসি কেন সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে কাঁদছিলেন?

ইজিপ্টের বিপক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি মিস করার পর দলের টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু দল যখন ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও কামব্যাক করে সেমিফাইনালে ওঠে, তখন সেই স্বস্তি এবং সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ থেকেই মেসি আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদে ফেলেন।

২. রদ্রিগো ডি পলের সাথে মেসির বন্ধুত্বের শুরুটা কীভাবে হয়েছিল?

একবার অনুশীলনের পর মেসিকে একা এবং কিছুটা বিষণ্ণ দেখে রদ্রিগো ডি পল নিজ থেকে গিয়ে মেসিকে মেট (চা) পান করার এবং ত্রুকো (তাসের খেলা) খেলার আমন্ত্রণ জানান। সেই ছোট উদ্যোগ থেকেই তাদের মধ্যে একটি গভীর এবং অটুট বন্ধুত্বের সূচনা হয়।

৩. ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির শারীরিক ফিটনেসের বর্তমান অবস্থা কেমন?

৩৯ বছর বয়স হওয়া সত্ত্বেও মেসির শারীরিক সক্ষমতা দুর্দান্ত। পুষ্টিবিদের তথ্যমতে, কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় তার সর্বোচ্চ গতি ৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি শক্তি সঞ্চয় করার জন্য ম্যাচের ৪৭% সময় হেঁটে কাটান এবং সঠিক সময়ে বিস্ফোরক গতিতে আক্রমণ করেন।

۴. লিওনেল স্কালোনি দলের কোচ হিসেবে কতটা সফল?

লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা অসাধারণ সাফল্য পেয়েছে। তার অধীনে দলটি দুটি কোপা আমেরিকা, একটি ফিনালাসিমা এবং একটি ফিফা বিশ্বকাপসহ মোট চারটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা ঘরে তুলেছে।

৫. ‘লা কুয়ার্তা এস্ত্রেয়া’ গানটির অর্থ এবং এর তাৎপর্য কী?

‘লা কুয়ার্তা এস্ত্রেয়া’ অর্থ হলো চতুর্থ তারকা। এটি দলের বর্তমান বিশ্বকাপ সঙ্গীত, যা লিওনেল মেসি এবং প্রয়াত ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে উৎসর্গ করে গাওয়া হয়, যেখানে দেশের হয়ে চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের সংকল্প ব্যক্ত করা হয়েছে।

৬. সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা কবে মাঠে নামবে?

আগামী ১৫ জুলাই, ২০২৬ তারিখে ফিফা বিশ্বকাপের হাই-ভোল্টেজ সেমিফাইনাল ম্যাচে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা।

JitaBet ,  JitaWin , এবং  JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন,   তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!

উপসংহার

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ লিওনেল মেসি এবং আর্জেন্টিনা দলের এই অভাবনীয় যাত্রার পেছনের মূল শক্তি হলো তাদের মধ্যকার নিবিড় ভাতৃত্ববোধ এবং নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ। একটি দল যখন শুধুমাত্র কৌশল বা ফর্মেশনের ওপর নির্ভর না করে, একে অপরের প্রতি অন্ধ বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, তখন সেই দলকে হারানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। লিওনেল স্কালোনি ঠিক সেই কাজটিই করেছেন। তিনি এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন যেখানে মেসি কোনো প্রকার মানসিক চাপ ছাড়াই তার স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারছেন। রদ্রিগো ডি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস এবং দলের অন্যান্য তরুণ খেলোয়াড়রা মেসিকে শুধু একজন সতীর্থ হিসেবে নয়, বরং একজন বড় ভাইয়ের মতো সম্মান এবং সুরক্ষা প্রদান করছেন।

৩৯ বছর বয়সে এসেও মেসি যেভাবে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে এবং দ্বিগুণ অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে ফিট রেখেছেন, তা সারা বিশ্বের অ্যাথলেটদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তিনি মাঠে হাঁটেন ঠিকই, কিন্তু যখন দৌড়ান, তখন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ছিন্নভিন্ন করে দেন। ইংল্যান্ডের মতো একটি সুশৃঙ্খল এবং শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জয় পাওয়াটা সহজ হবে না, তবে আর্জেন্টিনার বর্তমান ড্রেসিংরুমের যে অটুট মনোবল এবং ‘লা কুয়ার্তা এস্ত্রেয়া’ জয়ের যে ক্ষুধা, তা তাদের যেকোনো বাধা অতিক্রম করার আত্মবিশ্বাস জোগায়।

পরিশেষে, এই বিশ্বকাপটি শুধু আর্জেন্টিনার জন্য একটি ট্রফি জয়ের মিশন নয়, বরং এটি তাদের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসিকে একটি রাজকীয় বিদায় জানানোর চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি। ম্যারাডোনার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ এবং দেশের জার্সিতে চতুর্থ তারকা যুক্ত করার এই লড়াইয়ে পুরো আর্জেন্টিনা স্কোয়াড আজ একতাবদ্ধ। ফুটবল বিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই রোমাঞ্চকর সেমিফাইনাল মহারণের জন্য, যা হয়তো ফুটবল ইতিহাসের পাতায় আরেকটি সোনালী অধ্যায় হিসেবে খোদাই হয়ে থাকবে।

For More Update Follow JitaSports English News and JitaSports BD News


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *